সোমবার, ২৫ই মে, ২০২৬   |   ১১ই জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

পর্তুগালের রাজধানী লিসবনের পর এবার দেশটির দ্বিতীয় বৃহত্তম ও ঐতিহাসিক শহর পোর্তোতেও অবৈধ ও নিয়মবহির্ভূত পর্যটক আবাসন কেন্দ্রগুলোর বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া শুরু হয়েছে। ‘সিভিল লায়াবিলিটি ইন্সুরেন্স’ বা নাগরিক দায়বদ্ধতা বীমার প্রয়োজনীয় নথিপত্র জমা দিতে ব্যর্থ হওয়ায় শহরের ১,৪১৩টি ‘লোকাল অ্যাকোমোডেশন’ এর লাইসেন্স স্থায়ীভাবে বাতিল করার প্রক্রিয়া শুরু করেছে পোর্তো সিটি কাউন্সিল। এই প্রশাসনিক সিদ্ধান্তের ফলে শহরটির পর্যটন এবং আবাসন খাতে একটি বড় ধরণের ধাক্কা লেগেছে।

পর্তুগালের লোকাল অ্যাকোমোডেশন অ্যাসোসিয়েশন (ALEP)-এর সভাপতি এদুয়ার্দো মিরান্দা জানিয়েছেন, বন্ধ হতে যাওয়া এই আবাসনগুলোর সিংহভাগই (প্রায় ৫০ থেকে ৬০ শতাংশ) পোর্তোর মূল ঐতিহাসিক কেন্দ্র বা হেরিটেজ জোনে অবস্থিত। পোর্তোর ২০২৩ সালের স্থানীয় আবাসন নীতি অনুযায়ী, শহরের ঐতিহাসিক কেন্দ্রগুলোতে একবার কোনো লোকাল অ্যাকোমোডেশনের লাইসেন্স বাতিল হলে, পর্যটন ব্যবসার জন্য সেটি আর কখনোই পুনরায় সচল বা রি-অ্যাক্টিভেট করা যাবে না। ন্যাশনাল রেজিস্ট্রি (RNAL)-এর তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে পোর্তো শহরে মোট ১০,৮২১টি লোকাল অ্যাকোমোডেশন রয়েছে, যা ২০২৫ সালের শেষের তুলনায় ৩ শতাংশ বেশি। তবে এই ১,৪১৩টি কেন্দ্র স্থায়ীভাবে বন্ধ হয়ে গেলে সামগ্রিক আবাসন সংখ্যায় বড় পতন আসবে।

এর আগে গত ফেব্রুয়ারি মাসে পর্তুগালের রাজধানী লিসবনেও প্রায় ৬,৭৬৫টি লোকাল অ্যাকোমোডেশনের লাইসেন্স বাতিল করার ঘোষণা দেওয়া হয়েছিল, যা ছিল শহরটির মোট লাইসেন্সের প্রায় ৪০ শতাংশ। লিসবনের তুলনায় পোর্তোতে বন্ধ হওয়া কেন্দ্রের সংখ্যা কম হওয়ার কারণ হিসেবে এদুয়ার্দো মিরান্দা জানান, পোর্তো সিটি কাউন্সিল শুরু থেকেই কঠোর নজরদারি, মাঠপর্যায়ে নিয়মিত পরিদর্শন এবং ব্যবসায়ীদের বারবার নোটিশ দেওয়ার মাধ্যমে নিয়ম মেনে চলতে বাধ্য করেছে। ফলে পোর্তোর ব্যবসায়ীরা লিসবনের চেয়ে নিয়মের ব্যাপারে বেশি সচেতন ছিলেন।

২০১৮ সাল থেকেই পর্তুগালে এই ধরণের পর্যটন আবাসনের জন্য ইন্সুরেন্স বা বীমা করা বাধ্যতামূলক ছিল, যা ২০২৪ সালের নতুন আইনি সংশোধনীর মাধ্যমে সরকারি রেজিস্ট্রিতে আপলোড করা পুরোপুরি বাধ্যতামূলক করা হয়। মূলত পর্তুগালে অতিরিক্ত পর্যটকদের চাপ সামলানো এবং এর কারণে স্থানীয় সাধারণ নাগরিকদের স্থায়ী আবাসনের যে তীব্র সংকট তৈরি হয়েছে, তা দূর করতেই পর্তুগাল সরকার ও স্থানীয় প্রশাসন এই কড়াকড়ি আরোপ করছে।

তথ্যসূত্র: দ্য পর্তুগাল নিউজ 

শেয়ার
মতামত দিন...

Exit mobile version