সোমবার, ২৪ই আগস্ট, ২০২৬   |   ৯ই ভাদ্র, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

পর্তুগালের অভিবাসন ও সমন্বয় সংস্থা ‘আইমা’-র তীব্র জনবল সংকট, ত্রুটিপূর্ণ ডিজিটাল ব্যবস্থা এবং অসংলগ্ন কার্যপ্রণালীর কারণে আইনজীবীদের স্বাভাবিক দায়িত্ব পালন মারাত্মকভাবে বিঘ্নিত হচ্ছে। এর ফলে অভিবাসীদের আইনি প্রতিরক্ষা পাওয়ার মৌলিক অধিকার চরমভাবে লঙ্ঘিত হচ্ছে বলে সতর্ক করেছে পর্তুগালের বার অ্যাসোসিয়েশন।

গত ১৯ আগস্ট বার অ্যাসোসিয়েশনের একটি প্রতিনিধি দল লিসবনের আনজোস এলাকায় অবস্থিত ‘আইমা’র প্রধান কার্যালয় পরিদর্শনের পর এই উদ্বেগজনক চিত্র ও সুপারিশমালা প্রকাশ করে।

বার অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি জোয়াও মাসানো বলেন, এই পরিদর্শনের মাধ্যমে আইনজীবীদের দীর্ঘদিন ধরে করা অভিযোগগুলোর ‘প্রতিটি বিষয়’ সত্য বলে প্রমাণিত হয়েছে।

অভিযোগগুলোর মধ্যে অন্যতম হলো—আইমার কার্যালয়গুলোতে সেবার জন্য দীর্ঘ লাইন এবং ‘অস্বাভাবিক দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করার বাধ্যবাধকতা’। যার কারণে আইনজীবীদের ভোরবেলা এসে লাইনে দাঁড়াতে হয় এবং দীর্ঘ সময় আইমা কার্যালয়ে অপেক্ষা করতে হয়।

এছাড়া সংস্থার অনলাইন পোর্টালটিতে ভুল, অসম্পূর্ণ এবং পুরোনো তথ্য রয়েছে, যার ফলে আইনজীবীদের পক্ষে মামলার সর্বশেষ অগ্রগতি জানা বা মক্কেলদের সঠিক আইনি পরামর্শ দেওয়া অসম্ভব হয়ে পড়েছে।

মাসানো ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ‘একটি অত্যন্ত জরুরি জনসেবা প্রদানকারী প্রতিষ্ঠানে আইনজীবীরা এখনও এমন কোনো উপযুক্ত কর্মপরিবেশ পাচ্ছেন না যা আইনের শাসন ও ন্যায়বিচার নিশ্চিত করার জন্য অপরিহার্য।’

বার অ্যাসোসিয়েশনের মতে, আইনজীবীদের সহায়তার জন্য আইমাতে নিয়োজিত জনবল অত্যন্ত অপ্রতুল, যা সেবার গতি, দক্ষতা ও গুণমানকে মারাত্মকভাবে প্রভাবিত করছে। আইমার কর্মকর্তারা ফোনে মামলার অগ্রগতি সংক্রান্ত কোনো তথ্য দিতে অস্বীকৃতি জানান এবং অনলাইন পোর্টালে দেখার পরামর্শ দেন—অথচ পোর্টালটিতে কোনো আপডেট তথ্য থাকে না।

আইনজীবীদের পক্ষে মামলার দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তার নাম জানা বা মামলাটি কোন পর্যায়ে রয়েছে তা নিশ্চিত করা অসম্ভব হয়ে পড়েছে। এর ফলে অভিবাসীদের তাঁদের আবেদনের নিষ্পত্তির সময়সীমা সম্পর্কে কোনো সঠিক ধারণা দেওয়া যাচ্ছে না।

এছাড়াও, আইমার বিভিন্ন আঞ্চলিক কার্যালয়গুলোর মধ্যে কার্যপ্রণালীর ক্ষেত্রে ব্যাপক অমিল রয়েছে। একই ধরনের মামলার ক্ষেত্রে একেক কার্যালয়ে একেক নিয়ম অনুসরণ করায় চরম আইনি অনিশ্চয়তা এবং বৈষম্যের সৃষ্টি হচ্ছে।

এই অচলাবস্থা দূর করতে মাসানো আইমা এবং বার অ্যাসোসিয়েশনের মধ্যে একটি স্থায়ী যোগাযোগের মাধ্যম (চ্যানেল) গড়ে তোলার দাবি জানিয়েছেন। একই সঙ্গে আইমার কর্মকর্তা বৃদ্ধি এবং আইটি প্ল্যাটফর্মের আধুনিকায়নে বিনিয়োগের তাগিদ দিয়েছেন তিনি। তিনি বলেন, ‘এর সুফল তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যাবে—লাইনের দীর্ঘ সারি কমবে, ভোরে এসে অপেক্ষা করতে হবে না এবং আনজোস কার্যালয়ের ওপর চাপ কমবে।’ কারণ অনেক সেবাগ্রহীতা কেবল ইমেইল পরিবর্তন বা ফাইলের অগ্রগতি জানার মতো ছোটখাটো কাজের জন্য সশরীরে এসে ভিড় করছেন।

বার অ্যাসোসিয়েশন এই সমস্যাগুলো নিয়ে আইমা প্রশাসন এবং সরকারের ‘সংশ্লিষ্ট সক্ষম কর্তৃপক্ষের’ সঙ্গে আনুষ্ঠানিক আলোচনা শুরু করবে। মাসানো বলেন, ‘আইনজীবী ও ভুক্তভোগীরা এভাবে আর দরজায় অপেক্ষা করতে পারেন না। আইনজীবীদের কাজের স্বাধীনতা রক্ষা করা কোনো পেশাগত বিশেষ সুবিধা নয়, বরং এটি সবার আইনি অধিকারের নিশ্চয়তা।’

উল্লেখ্য, আইমার কর্মীরা নিজেরাও তাদের সম্পদের অপ্রতুলতা এবং কাজের পরিবেশ নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে ক্ষোভ প্রকাশ করে আসছেন। চলতি গ্রীষ্মের শুরুতে তারা ধর্মঘট পালন করে স্পষ্ট জানিয়েছিলেন যে, সরকার অভিবাসন টেকনিশিয়ানদের পদের মর্যাদা, স্থায়িত্ব এবং কাজের পরিবেশ উন্নয়নে অতীতে দেওয়া কোনো প্রতিশ্রুতিই এখন পর্যন্ত বাস্তবায়ন করেনি।

শেয়ার
মতামত দিন...

Exit mobile version