সোমবার, ২৪ই আগস্ট, ২০২৬   |   ৯ই ভাদ্র, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

পর্তুগালে ট্রেনের ভেতরেই বিলাসবহুল আবাসন, চমৎকার খাবারদাবার এবং দেশটির ঐতিহাসিক অঞ্চলগুলোতে ঘুরে বেড়ানোর অভিনব সুযোগ নিয়ে চালু হতে যাচ্ছে দেশের প্রথম ‘রেল হোটেল’। ২ কোটি (২০ মিলিয়ন) ইউরো বা প্রায় ২৬০ কোটি টাকার এই মেগা প্রজেক্টটি পর্যটকদের জন্য এক অনন্য অভিজ্ঞতা বয়ে আনবে।

‘ভালভার্দে ট্রেন’ নামের এই প্রকল্পের আওতায় পর্তুগালের জাতীয় রেল অপারেটর ‘সিপি’-র অব্যবহৃত ও পুরোনো বগিগুলোকে সংস্কার করা হবে। বিখ্যাত ‘ওরিয়েন্ট এক্সপ্রেস’ এবং ‘বেলমন্ড’ ট্রেনের মতো আন্তর্জাতিক বিলাসবহুল রেল সফরের আদলে তৈরি করা হবে পর্তুগালের এই প্রথম বুটিক হোটেল ট্রেনটি।

প্রকল্পটির অনুমোদিত বাজেট প্রায় ১৯.৬ মিলিয়ন ইউরো, যার অর্ধেক অর্থাৎ ৯.৮ মিলিয়ন ইউরো ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) আঞ্চলিক উন্নয়ন তহবিল থেকে অনুদান হিসেবে দেওয়া হচ্ছে।

প্রকল্পের মূল উদ্যোক্তা ‘আলভা রেল’ একে ‘পর্তুগালের একমাত্র ও অনন্য বিলাসবহুল হোটেল ট্রেন’ হিসেবে বর্ণনা করেছে, যা ঐতিহ্যবাহী রেলভ্রমণের নস্টালজিয়া বা স্মৃতিকাতরতার সঙ্গে আধুনিক সুযোগ-সুবিধার এক অপূর্ব সমন্বয় ঘটাবে।

এই ট্রেনের মূল ধারণাটি কেবল এক স্থান থেকে অন্য স্থানে যাত্রী পরিবহন নয়, বরং এটি ‘স্লো ট্রাভেল’ বা ধীরগতির আরামদায়ক ভ্রমণের ওপর ভিত্তি করে তৈরি। ট্রেনের ভেতরেই অতিথিদের ঘুমানোর চমৎকার কেবিন থাকবে, তাঁরা পর্তুগালের ঐতিহ্যবাহী খাবার ও ওয়াইন উপভোগ করতে পারবেন এবং ট্রেনটি যেসব অঞ্চলের ওপর দিয়ে যাবে, সেখানকার স্থানীয় সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যের স্বাদ নিতে পারবেন।

ট্রেনের সুনির্দিষ্ট রুট এবং যাত্রা বিরতির স্টেশনগুলো এখনও আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করা হয়নি। তবে উদ্যোক্তারা জানিয়েছেন, ট্রেনটি মূলত পর্তুগালের কম জনবহুল এবং সাধারণ পর্যটকদের কাছে অপরিচিত ও ঐতিহ্যবাহী অঞ্চলগুলোর ওপর দিয়ে চলাচল করবে। এর মূল লক্ষ্য হলো—চিরাচরিত ট্যুরিস্ট স্পটগুলোর বাইরে থাকা অনিন্দ্যসুন্দর গ্রাম ও শহরগুলোতে পর্যটন খাতের বিকাশ ঘটানো।

এই প্রকল্পের মাধ্যমে স্থানীয় অর্থনীতি ও ব্যবসায়ীদের সম্পৃক্ত করা হবে। বিশেষ করে আঞ্চলিক খাবার, স্থানীয় উৎপাদিত ওয়াইন এবং ঐতিহ্যবাহী হস্তশিল্পের প্রসারে স্থানীয়দের সঙ্গে অংশীদারিত্ব গড়ে তোলা হবে।

প্রকল্প পরিচালনাকারীরা মনে করেন, এটি গণ-পর্যটন বা মাস-ট্যুরিজমের একটি পরিবেশবান্ধব বিকল্প। কারণ একদিকে রেলভ্রমণ পরিবেশবান্ধব, অন্যদিকে রেলওয়ের বাতিল হয়ে পড়ে থাকা পুরোনো বগিগুলোকে নতুন রূপ দিয়ে পুনরায় ব্যবহার উপযোগী করা হচ্ছে।

পর্তুগালের ভিজেউ জেলার নেলাস অঞ্চলের সঙ্গে এই প্রকল্পটি যুক্ত করা হয়েছে, যেখানে ইইউ-এর প্রায় ৯.৭৯ মিলিয়ন ইউরোর তহবিল বরাদ্দ করা হয়েছে। ট্রেনটি পুরোদমে চালু হলে অন্তত ৩৫টি নতুন কর্মসংস্থান তৈরি হবে। এছাড়া ট্রেনের পরিচালন ব্যবস্থার আধুনিকায়নে ডিজিটাল প্রযুক্তি এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ব্যবহার করা হবে বলে জানা গেছে।

বিলাসবহুল এই ট্রেনে চড়তে হলে পর্যটকদের আরও কিছুদিন অপেক্ষা করতে হবে। পর্তুগাল সরকারের ‘মাইস ট্রান্সপারেন্সিয়া’ পোর্টালের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, প্রকল্পটির কাজ আগামী ৩১ আগস্ট ২০২৬ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হবে এবং এটি সম্পূর্ণ শেষ হতে সময় লাগবে ২০২৯ সালের ৩০ আগস্ট পর্যন্ত।

শেয়ার
মতামত দিন...

Exit mobile version