সামাজিক সহায়তা বা বিভিন্ন সরকারি ভাতা বাবদ ভুলবশত চলে যাওয়া বিপুল অঙ্কের অর্থের বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই কোনো জালিয়াতি বা প্রতারণার ঘটনা ঘটেনি। সম্প্রতি দেশটির পার্লামেন্টে গত দেড় বছরে ঘটে যাওয়া কিছু জালিয়াতির ঘটনা ফাঁসের পর সাধারণ মানুষের মনে তৈরি হওয়া বিভ্রান্তি দূর করতে এই স্পষ্টীকরণ দিয়েছে সরকার।
দেশটির জনপ্রিয় ‘এক্সপ্রেসো’ পত্রিকাকে দেওয়া এক বিবৃতিতে শ্রম, সংহতি ও সামাজিক সুরক্ষা মন্ত্রী মারিয়া দো রোসারিও পালমা রামালহোর কার্যালয় বিষয়টি পরিষ্কার করেছে। তারা জানিয়েছে, সরকারি ভাতা বাবদ ভুলবশত চলে যাওয়া প্রায় ১৬ কোটি (১৬০ মিলিয়ন) ইউরোর সিংহভাগ ক্ষেত্রেই রাষ্ট্রকে ইচ্ছাকৃতভাবে বা উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে ঠকানোর কোনো চেষ্টা করা হয়নি।
মন্ত্রণালয়ের বিবৃতিতে বলা হয়, যখনই সামাজিক সুরক্ষার ভাতার ক্ষেত্রে ভুল বা অনুপযুক্ত অর্থপ্রদানের কথা সামনে আসে, তখন সাধারণ মানুষের মনে একটি ভুল ধারণা তৈরি হয়। অনেকেই ভাবেন এর সবটাই বুঝি জালিয়াতির মাধ্যমে হয়েছে। তবে বাস্তব পরিস্থিতি আসলে তেমন নয়, বরং এটি অনেক বেশি জটিল।
মন্ত্রণালয় আরও ব্যাখ্যা করেছে যে, এগুলো মূলত বিভিন্ন দপ্তরের মধ্যে তথ্যের আদান-প্রদান বা ডেটা আপডেট করতে দেরি হওয়ার কারণে ঘটেছে। উদাহরণ হিসেবে বলা হয়েছে, বেকারত্ব ভাতা কিংবা অসুস্থতাজনিত ছুটি ও ভাতা পাচ্ছিলেন এমন অনেকেই ইতিমধ্যে নতুন কাজে যোগ দিয়েছেন। কিন্তু তারা যে কাজে ফিরেছেন, সেই তথ্যটি যথাসময়ে বা সঠিক সময়ে সংশ্লিষ্ট সরকারি দপ্তরে পৌঁছায়নি। ফলে স্বয়ংক্রিয় নিয়মে তাদের অ্যাকাউন্টে ভাতার টাকা চলে গেছে।
তবে ভাতার টাকা ভুল জায়গায় চলে গেলেও চিন্তার কোনো কারণ নেই বলে আশ্বস্ত করেছে সরকার। মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে নিশ্চিত করা হয়েছে যে, ভুলবশত বা অনুপযুক্তভাবে পরিশোধ করা এই মোট অর্থের ৯০ শতাংশ ইতিমধ্যেই রাষ্ট্রীয় কোষাগারে ফেরত চলে এসেছে।
তথ্যসূত্র: এসআইসি নটিসিয়াস
