বৃহস্পতিবার, ১৫ই জানুয়ারি, ২০২৬   |   ২রা মাঘ, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

পর্তুগালের সংসদে আজ জনসমক্ষে মুখ আবৃত করে এমন পোশাক, বিশেষত বোরখা, পরিধান নিষিদ্ধ করার একটি আইন প্রস্তাব অনুমোদিত হয়েছে। এই আইনের মাধ্যমে দেশটি ইউরোপের অন্যান্য কয়েকটি দেশের মতো ‘মুখ ঢাকা পোশাক নিষিদ্ধ’ নীতির দিকে অগ্রসর হলো।

প্রস্তাবিত আইনে উল্লেখ করা হয়েছে যে, জনাকীর্ণ স্থানে এমন কোনো পোশাক পরা যাবে না যা মুখমণ্ডল সম্পূর্ণরূপে ঢেকে রাখে। সরকার জানিয়েছে, মূলত জননিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং নাগরিকের পরিচয় শনাক্তকরণ সহজ করার যুক্তিতে আইনটি পাস করা হয়েছে।

তবে, আইনটিতে কিছু ব্যতিক্রম রাখা হয়েছে — যেমন ধর্মীয় অনুষ্ঠান, সাংস্কৃতিক প্রদর্শনী বা চিকিৎসাজনিত কারণে মুখ ঢাকার ক্ষেত্রে এই বিধিনিষেধ প্রযোজ্য হবে না।

আইন অনুযায়ী, এই নিয়ম লঙ্ঘন করলে ২০০ ইউরো থেকে ৪,০০০ ইউরো পর্যন্ত জরিমানা হতে পারে।

সংসদে আইনটি অনুমোদনের পর এখন এটিকে সংবিধান ও মানবাধিকার বিষয়ক সংসদীয় কমিটিতে পাঠানো হবে। সেখানে এর সাংবিধানিক বৈধতা এবং ধর্মীয় স্বাধীনতার ওপর সম্ভাব্য প্রভাব নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হবে।

সরকারি দল এই আইনকে “নিরাপত্তা ও সামাজিক সংহতির জন্য অপরিহার্য পদক্ষেপ” হিসেবে অভিহিত করলেও, বিরোধীরা একে ধর্মীয় স্বাধীনতার ওপর হস্তক্ষেপ হিসেবে কঠোর সমালোচনা করেছে।

বর্তমানে ফ্রান্স, বেলজিয়াম, ডেনমার্ক, নেদারল্যান্ডস ও অস্ট্রিয়াসহ ইউরোপের বেশ কিছু দেশে বোরখা বা মুখ ঢাকা পোশাক জনসমক্ষে নিষিদ্ধ। ধারণা করা হচ্ছে, পর্তুগাল এখন সেই তালিকায় যুক্ত হতে যাচ্ছে।

শেয়ার
মতামত দিন...

Exit mobile version