ইউরোপের ভ্রমণকারীদের জন্য সবচেয়ে ঝামেলাপূর্ণ বিমানবন্দরগুলোর তালিকায় পর্তুগালের লিসবন বিমানবন্দর দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে। এমন তথ্য উঠে এসেছে একটি সাম্প্রতিক গবেষণায়।
নেদারল্যান্ডসভিত্তিক একটি গবেষণা প্রতিষ্ঠান ইউরোপের ৬১টি প্রধান বিমানবন্দর নিয়ে এই বিশ্লেষণ চালায়। ২০২৫ সালে অন্তত ৩০ হাজার নির্ধারিত ফ্লাইটের আগমন ও প্রস্থান সংক্রান্ত তথ্য পর্যবেক্ষন করা হয়েছে। ইউরোকন্ট্রোলের তথ্যের ওপর ভিত্তি করে প্রতিষ্ঠানটি তিনটি মানদণ্ডে একটি সূচক তৈরি করে— নির্ধারিত সময়ে ফ্লাইট পরিচালনার হার, নির্ধারিত সময়ে আগমনের হার এবং নির্ধারিত সময়ে প্রস্থানের হার।
এই সূচকে লিসবন বিমানবন্দর ১০০-এর মধ্যে ৭২.১ পয়েন্ট পেয়ে ইউরোপে দ্বিতীয় সবচেয়ে ঝামেলাপূর্ণ বিমানবন্দর হিসেবে উঠে এসেছে। বিমানবন্দরটির মাত্র ৪৯.৪৩ শতাংশ ফ্লাইট নির্ধারিত সময়ে ছেড়ে যায়, যা ইউরোপে সবচেয়ে কম। আর ৬৫.৬৪ শতাংশ ফ্লাইট সময়মতো পৌঁছায়, যা দ্বিতীয় সর্বনিম্ন। তবে সামগ্রিকভাবে ফ্লাইট পরিচালনার হার ৯৫.৫৪ শতাংশ, যা ইউরোপের গড় (৯৪.৫৫ শতাংশ)-এর তুলনায় কিছুটা বেশি।
গবেষণা সংস্থার এক মুখপাত্র বলেন…
বিমান ভ্রমণ অনেক সময়ই যাত্রীদের জন্য চাপের অভিজ্ঞতা হয়। প্যাকিং, চেক-ইন, নিরাপত্তা পরীক্ষা, বোর্ডিং— প্রতিটি ধাপেই মানসিক চাপ বাড়তে পারে। এর সঙ্গে যদি ফ্লাইট বিলম্ব যোগ হয়, তাহলে সেই চাপ আরও বেড়ে যায়। বিশেষ করে বিলম্বিত ফ্লাইটের কারণে যাত্রা বাতিল বা সংযোগ ফ্লাইট ধরতে না পারার ঝুঁকি তৈরি হয়।
তিনি আরও জানান, গবেষণায় দেখা গেছে নরওয়ের অসলো বিমানবন্দর সময়নিষ্ঠতার দিক থেকে সবচেয়ে ভালো অবস্থানে আছে, আর ফ্রান্সের নিস কোট দাজুর বিমানবন্দর সবচেয়ে খারাপ অবস্থানে।
সংস্থার মুখপাত্র বলেন…
অনেক যাত্রীই জানেন না যে ইউরোপীয় ও যুক্তরাজ্যের আইনে ফ্লাইট উল্লেখযোগ্যভাবে বিলম্বিত হলে তারা আর্থিক ক্ষতিপূরণ পাওয়ার অধিকার রাখেন। পাশাপাশি বিলম্বের সময়কাল ও ফ্লাইটের ধরন অনুযায়ী তারা খাবার, থাকার ব্যবস্থা এবং হোটেলে যাতায়াতের খরচও এয়ারলাইনের কাছ থেকে দাবি করতে পারেন।
বিশেষজ্ঞদের মতে, সময়নিষ্ঠতা ও যাত্রীসেবার মান উন্নয়নে লিসবন বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষের আরও পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি। তারা আশা প্রকাশ করেছেন, ভবিষ্যতে প্রযুক্তিগত উন্নয়ন ও ব্যবস্থাপনা সংস্কারের মাধ্যমে বিলম্বের হার কমানো সম্ভব হবে। অন্যদিকে, যাত্রীদেরও পরামর্শ দেওয়া হয়েছে যাত্রার আগে ফ্লাইটের সময়সূচি ভালোভাবে যাচাই করতে।
