২০২৬ সালের প্রথম ছয় মাসে ক্ষতিকর সাইবার কর্মকাণ্ডের শিকার হওয়ার হারে বিশ্বে ৫৫তম অবস্থানে রয়েছে পর্তুগাল। ইউরোপের দেশগুলোর মধ্যে দেশটির অবস্থান ১৯তম।
মাইক্রোসফটের সর্বশেষ ডিজিটাল ডিফেন্স রিপোর্টে এ তথ্য উঠে এসেছে।
প্রতিবেদনের সপ্তম সংস্করণে বলা হয়েছে, সাইবার নিরাপত্তার ক্ষেত্রে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার (এআই) ব্যবহার দ্রুত বাড়ছে। সাইবার অপরাধীরা যেমন হামলার গতি ও পরিসর বাড়াতে এআই ব্যবহার করছে, তেমনি নিরাপত্তা দলগুলোও হুমকি শনাক্ত, তদন্ত ও মোকাবিলায় প্রযুক্তিটি কাজে লাগাচ্ছে।
সাইবার অপরাধীরা এআই ব্যবহার করে দ্রুত দুর্বলতা খুঁজে বের করা, তথ্য বিশ্লেষণ এবং হামলার কৌশল পরিবর্তন করতে পারছে। অন্যদিকে নিরাপত্তা দলগুলো এআইয়ের মাধ্যমে হুমকি শনাক্ত ও তদন্তের পাশাপাশি দ্রুত ব্যবস্থা নিতে পারছে।
তবে এসব প্রযুক্তিগত অগ্রগতির মধ্যেও আপসকৃত অ্যাকাউন্ট ও চুরি হওয়া পরিচয়পত্র বা লগইন তথ্যই হামলাকারীদের প্রতিষ্ঠানে প্রবেশের অন্যতম প্রধান পথ হয়ে রয়েছে।
প্রতিবেদনে ডিজিটাল পরিচয় সুরক্ষাকে উদ্বেগের একটি বড় ক্ষেত্র হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। ২০২৬ সালে নথিভুক্ত সাইবার হামলার ২৩ শতাংশই হয়েছে ফিশিংয়ের মাধ্যমে।
প্রাথমিক পর্যায়ের সাইবার হামলা ঠেকানো এবং হামলা যাতে আরও ছড়িয়ে পড়তে না পারে, সে জন্য বিশেষ করে গুরুত্বপূর্ণ অ্যাকাউন্টগুলোর ডিজিটাল পরিচয় সুরক্ষায় বাড়তি ব্যবস্থা নেওয়ার পরামর্শ দিয়েছে মাইক্রোসফট।
এদিকে সরকারি প্রতিষ্ঠান ও জনসেবা খাতও সাইবার হামলাকারীদের অন্যতম প্রধান লক্ষ্য হয়ে উঠেছে। চলতি বছরে নথিভুক্ত সাইবার হামলার ২৭ শতাংশই এই খাতে হয়েছে।
জনগুরুত্বপূর্ণ ও সংবেদনশীল তথ্য সংরক্ষণ এবং অপরিহার্য সেবা দেওয়ার কারণে সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলো হামলাকারীদের কাছে আকর্ষণীয় লক্ষ্য। এসব প্রতিষ্ঠান আবার সরকারি সংস্থা, প্রযুক্তি কোম্পানি, সেবাদাতা প্রতিষ্ঠান ও গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোর পরিচালনাকারীদের নিয়ে গঠিত বিস্তৃত নেটওয়ার্কের সঙ্গে যুক্ত।
মাইক্রোসফট পর্তুগালের ন্যাশনাল সিকিউরিটি ডিরেক্টর পেদ্রো সোয়ারেস বলেন, সাইবার নিরাপত্তার পরিস্থিতি এখন এমন এক পর্যায়ে প্রবেশ করেছে যেখানে শুধু হামলা ঠেকানোই যথেষ্ট নয়।
তার মতে, হামলার পর দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া, ডিজিটাল পরিচয় সুরক্ষিত রাখা এবং সাইবার হামলার মধ্যেও জরুরি কার্যক্রম সচল রাখার সক্ষমতা থাকতে হবে প্রতিষ্ঠানগুলোর। নিরাপত্তার পাশাপাশি প্রতিযোগিতামূলক সক্ষমতার জন্যও সাইবার হামলা মোকাবিলার এই সক্ষমতা ক্রমেই গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে।
প্রতিবেদনে আরও সতর্ক করা হয়েছে, সাইবার হুমকি দ্রুততর, আরও আন্তঃসংযুক্ত এবং নিয়ন্ত্রণ করা কঠিন হয়ে উঠছে।
এ পরিস্থিতিতে সাইবার হামলার পর পুনরুদ্ধার করাই শুধু ‘রেজিলিয়েন্স’ বা প্রতিরোধক্ষমতা নয়। মাইক্রোসফটের মতে, এমন হামলার জন্য আগেই প্রস্তুত থাকাও এর অংশ, যা দ্রুত একাধিক প্রতিষ্ঠানে ছড়িয়ে পড়তে পারে এবং জরুরি সেবা সচল রাখতে সমন্বিত পদক্ষেপের প্রয়োজন হতে পারে।
