মুদ্রাস্ফীতি এবং আন্তর্জাতিক ভূ-রাজনৈতিক অস্থিরতার প্রভাবে পর্তুগালে ওষুধের দাম বাড়তে যাচ্ছে। পর্তুগিজ অ্যাসোসিয়েশন অফ দ্য ফার্মাসিউটিক্যাল ইন্ডাস্ট্রি এর প্রেসিডেন্ট জোয়াও আলমেইদা লোপেস এক সাক্ষাৎকারে জানিয়েছেন, উৎপাদন খরচ বৃদ্ধি এবং আন্তর্জাতিক বাজারের চাপের কারণে ওষুধের দাম সমন্বয় করা এখন কেবল সময়ের ব্যাপার। যদিও এই বৃদ্ধি রাতারাতি হবে না, তবে দীর্ঘমেয়াদে দাম বাড়াকে তিনি “অনিবার্য” বলে উল্লেখ করেছেন।
ওষুধের দাম বাড়ার পেছনে প্রধান কারণ হিসেবে উৎপাদন উপকরণের মূল্যবৃদ্ধিকে দায়ী করা হচ্ছে। বিশেষ করে ওষুধের প্যাকেজিং ও তৈরির জন্য প্রয়োজনীয় প্লাস্টিক, কাঁচ এবং অ্যালুমিনিয়ামের দাম বেড়ে যাওয়া সরাসরি মূল্যের ওপর প্রভাব ফেলছে। এছাড়া তেলের দাম বৃদ্ধি এবং আন্তর্জাতিক শুল্কের বোঝা উৎপাদন খরচকে আরও বাড়িয়ে দিয়েছে। পাশাপাশি ইউরোপীয় বাজারকে ওষুধ কোম্পানিগুলোর কাছে আকর্ষণীয় রাখতে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের বাজারের সাথে দামের কিছুটা সমন্বয় করার প্রয়োজনীয়তাও দেখা দিয়েছে।
বড় ওষুধ কোম্পানিগুলো সতর্ক করেছে যে, ইউরোপে ওষুধের দাম অত্যন্ত কম থাকলে তারা নতুন গবেষণায় বিনিয়োগ করতে উৎসাহ হারাবে। বায়ার, ফাইজার এবং নোভারটিসের মতো প্রতিষ্ঠানগুলো জানিয়েছে, নতুন ওষুধ আবিষ্কারের সিংহভাগ অর্থ আসে মার্কিন বাজারের উচ্চমূল্য থেকে। ইউরোপীয় বাজারে উদ্ভাবনী ওষুধ সরবরাহ বজায় রাখতে হলে বর্তমান মূল্য কাঠামো পুনর্বিবেচনা করা প্রয়োজন। যদিও সরবরাহ ব্যবস্থা কিছুটা স্থিতিশীল, তবুও বৈশ্বিক লজিস্টিক জটিলতা এবং মুদ্রাস্ফীতির কারণে পর্তুগিজ গ্রাহকদের ভবিষ্যতে ওষুধের পেছনে বাড়তি অর্থ ব্যয়ের জন্য প্রস্তুত থাকতে হতে পারে।
