ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) মধ্যে বর্তমানে তৃতীয় শীর্ষ প্রবীণ জনগোষ্ঠীর দেশ হিসেবে তালিকায় উঠে এসেছে পর্তুগাল। দেশটিতে প্রাকৃতিক উপায়ে জনসংখ্যা বৃদ্ধি অর্থাৎ নবজাতকদের জন্মের হার ঐতিহাসিকভাবেই অত্যন্ত নিম্ন স্তরে রয়েছে। তবে এই তীব্র জন্মহার হ্রাসের প্রবণতা ও জনসংখ্যা কমে যাওয়ার ঝুঁকিকে বর্তমানে কিছুটা সামাল দিচ্ছেন দেশটিতে আসা বিদেশি নাগরিক বা অভিবাসীরা।
বিশ্ব জনসংখ্যা দিবস উপলক্ষে পরিসংখ্যান ও তথ্যভিত্তিক পোর্টাল ‘পরডাটা’ (Pordata)-র প্রকাশিত একটি সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে এই উদ্বেগজনক ও আশাব্যঞ্জক দুই চিত্রই উঠে এসেছে।
প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালে পর্তুগালের স্থায়ী বাসিন্দা বা মোট জনসংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১১,৪২৪,০৩১ (প্রায় ১ কোটি ১৪ লাখ) জনে, যা আগের বছরের চেয়ে ৩৬,৮০৯ জন বেশি। এর মাধ্যমে ২০১৮ সাল থেকে টানা সাত বছর ধরে দেশটিতে জনসংখ্যার ধারাবাহিক প্রবৃদ্ধি বজায় থাকল। পরিসংখ্যানে দেখা গেছে, ২০১৫ সালের তুলনায় বর্তমানে পর্তুগালের স্থায়ী বাসিন্দা ১০.২% বৃদ্ধি পেয়েছে।
তবে গবেষকেরা স্পষ্ট করেছেন যে, এই প্রবৃদ্ধি নতুন জন্ম নেওয়া শিশুর কারণে হয়নি। এর পেছনে মূল দুটি কারণ হলো— মানুষের গড় আয়ু বৃদ্ধি পাওয়া এবং পর্তুগালে বিদেশি অভিবাসীদের আগমনের হার বৃদ্ধি। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে পর্তুগালে বিদেশি বাসিন্দাদের সংখ্যা ব্যাপক হারে বাড়ার কারণেই মূলত দেশটির জন্মহার হ্রাসের নেতিবাচক প্রভাব কিছুটা ঠেকানো সম্ভব হয়েছে।
অভিবাসীদের কারণে জনসংখ্যা রক্ষা পেলেও পর্তুগালের অভ্যন্তরীণ জনমিতিতে বড় ধরনের ভারসাম্যহীনতা তৈরি হচ্ছে। প্রতিবেদনটিতে সতর্ক করে বলা হয়েছে, দেশটিতে বর্তমানে কর্মক্ষম তরুণ বা যুব জনগোষ্ঠীর তুলনায় বয়োজ্যেষ্ঠ বা বৃদ্ধ মানুষের সংখ্যা বৃদ্ধির গতি প্রায় পাঁচ গুণ বেশি।
যদি এই প্রবণতা অব্যাহত থাকে, তবে ভবিষ্যতে দেশটির শ্রমবাজার এবং সামাজিক নিরাপত্তা বলয় ও পেনশন ব্যবস্থার ওপর তীব্র চাপ সৃষ্টি হতে পারে। ফলে অভিবাসন নীতি সহজ রাখা এবং গড় আয়ু বৃদ্ধির পাশাপাশি কীভাবে দেশের তরুণদের সংখ্যা ও উৎপাদনশীলতা বাড়ানো যায়, তা নিয়ে নতুন করে ভাবছেন পর্তুগালের নীতিনির্ধারকরা।
তথ্যসূত্র: সিএম জার্নাল
