পর্তুগালের বিভিন্ন হাসপাতালের জরুরি বিভাগে রোগীদের অপেক্ষার সময় উদ্বেগজনক পর্যায়ে পৌঁছেছে। সকাল ৮টা ৪৫ মিনিটের তথ্য অনুযায়ী, বারেইরোর নসা সেনহোরা দো রোজারিও হাসপাতালের জরুরি বিভাগে রোগীদের প্রাথমিক মূল্যায়নের জন্য গড়ে ১১ ঘণ্টারও বেশি সময় অপেক্ষা করতে হচ্ছে। সেখানে জরুরি বা ‘হলুদ রিস্টব্যান্ড’ প্রাপ্ত রোগীদেরও প্রায় ছয় ঘণ্টা অপেক্ষা করতে হচ্ছে।
একই সময়ে লিসবনের সান্তা মারিয়া হাসপাতালে প্রাথমিক মূল্যায়নের জন্য গড় অপেক্ষা সাত ঘণ্টা ছাড়িয়ে গেছে। সেখানে হলুদ রিস্টব্যান্ডধারী ১৭ জন রোগীকে সাত ঘণ্টা ১৯ মিনিট পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হয়েছে।
লুরেসের বিয়াট্রিজ অ্যাঞ্জেলো হাসপাতালে জরুরি রোগীদের জন্য অপেক্ষার সময় ছিল গড়ে প্রায় আড়াই ঘণ্টা। অন্যদিকে, আমাদোরা-সিনত্রা হাসপাতালের জরুরি বিভাগের কোনো তথ্যই পাওয়া যাচ্ছে না। তথ্য সিস্টেমের উন্নয়নের কাজ চলার অজুহাতে দীর্ঘদিন ধরেই সেখানে এই পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে।
আলমাদার গার্সিয়া দে ওর্তা হাসপাতালেও জরুরি রোগীদের গড় অপেক্ষার সময় সাত ঘণ্টা ছাড়িয়ে গেছে। দেশের দক্ষিণাঞ্চলেও একই চিত্র দেখা গেছে; পর্তিমাওয়ের রোগীদের গড় অপেক্ষার সময় চার ঘণ্টার বেশি। সেখানে জরুরি রোগীদের প্রায় তিন ঘণ্টা অপেক্ষা করতে হচ্ছে, যা চিকিৎসাবিজ্ঞানে নির্ধারিত ৬০ মিনিটের চেয়ে অনেক বেশি।
উল্লেখ্য, ত্রিয়াজ বা অগ্রাধিকার ভিত্তিতে চিকিৎসা দেওয়ার সরকারি নিয়ম অনুযায়ী, ‘অত্যন্ত জরুরি’ (কমলা রিস্টব্যান্ড) রোগীদের ১০ মিনিটের মধ্যে এবং ‘জরুরি’ (হলুদ রিস্টব্যান্ড) রোগীদের সর্বোচ্চ ৬০ মিনিটের মধ্যে সেবা দেওয়া উচিত। এছাড়া ‘কম জরুরি’ (সবুজ রিস্টব্যান্ড) রোগীদের জন্য ১২০ মিনিট বা দুই ঘণ্টা অপেক্ষা করার পরামর্শ দেওয়া হয়। কিন্তু বর্তমান পরিস্থিতিতে নির্ধারিত এই সময়সীমা প্রায় সব হাসপাতালেই লঙ্ঘিত হচ্ছে।
