পর্তুগালের ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অফ মেডিকেল ইমার্জেন্সি-এর কর্মীরা আগামী ১৪ এবং ২৮ সেপ্টেম্বর দুই দিনের ধর্মঘটের ডাক দিয়েছেন। দেশটির জরুরি স্বাস্থ্যসেবা নেটওয়ার্ক পুনর্গঠনের সরকারি পরিকল্পনার প্রতিবাদে এই কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়েছে।
প্রি-হাসপাতাল ইমার্জেন্সি টেকনিশিয়ানদের ইউনিয়ন এক সাধারণ সভার পর বৃহস্পতিবার এই সিদ্ধান্তের কথা ঘোষণা করে। বিতর্কিত এই পরিকল্পনার মূলে রয়েছে আইএনইএম-এর ৫৪টি অ্যাম্বুলেন্সের ব্যবস্থাপনা লোকাল হেলথ ইউনিটের কাছে হস্তান্তর করা এবং ৪৬টি ইমিডিয়েট লাইফ সাপোর্ট অ্যাম্বুলেন্সকে সাধারণ জরুরি যানে রূপান্তর করা।
ইউনিয়নের প্রেসিডেন্ট রুই লাজারো জানিয়েছেন, এই ধর্মঘট বেতন বা কর্মপরিবেশ সংক্রান্ত কোনো বিষয় নয়। বরং এটিকে তারা ‘আইএনইএম ভেঙে ফেলার’ পাঁয়তারা হিসেবে দেখছেন। তিনি আরটিপি নোতিসিয়াসকে বলেন, ‘এই ধর্মঘটের মাধ্যমে যা ঝুঁকিতে পড়েছে তা কেবল শ্রম বা বেতন নয়, বরং আইএনইএম-এর কাঠামো ভেঙে ফেলা এবং এর ফলে জনস্বাস্থ্যের ওপর যে ভয়াবহ প্রভাব পড়বে, তা নিয়ে আমরা চিন্তিত।’ ইউনিয়ন সরকারের কাছে এই সিদ্ধান্ত বাতিলের দাবি জানিয়েছে এবং দাবি মানলে ধর্মঘট প্রত্যাহারের আশ্বাস দিয়েছে।
ইউনিয়ন বিশেষ করে ৪৬টি এসআইভি অ্যাম্বুলেন্সকে হালকা যানে রূপান্তরের পরিকল্পনার তীব্র সমালোচনা করেছে, কারণ এর ফলে ওই যানবাহনগুলো রোগী পরিবহনের সক্ষমতা হারাবে। এছাড়াও ৫৪টি অ্যাম্বুলেন্সের দায়িত্ব ইউএলএস-এর কাছে হস্তান্তর করা হলে সেগুলোকে নিয়মিত হাসপাতালের রোগী স্থানান্তরে ব্যবহার করা হবে, যা জরুরি সেবায় ঘাটতি তৈরি করবে।
লাজারোর মতে, সম্মিলিতভাবে এই পরিবর্তনগুলো জরুরি সাড়া দেওয়ার সিস্টেম থেকে কার্যত ‘১০০টি অ্যাম্বুলেন্স কমিয়ে ফেলার’ শামিল। তিনি আলগারভেতে এই সপ্তাহে অ্যাম্বুলেন্স সংকটের কথা উল্লেখ করে জানান, যানবাহন না থাকায় কিছু জরুরি সেবার জন্য মানুষকে এক ঘণ্টারও বেশি সময় অপেক্ষা করতে হয়েছে।
তিনি অবশ্য স্বীকার করেন যে ধর্মঘটের ফলে জনদুর্ভোগ হতে পারে, তবে আইনগতভাবে নির্ধারিত ন্যূনতম সেবা নিশ্চিত করা হবে। উল্লেখ্য, এর আগের একটি ধর্মঘটে ন্যূনতম সেবা নিশ্চিত না হওয়ায় ১২ জনের মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছিল, যা নিয়ে স্বাস্থ্যমন্ত্রী আনা পলা মার্টিন্স নিজেও উদ্বেগ প্রকাশ করেছিলেন।
এই অস্থিরতা ইউনিয়ন এবং আইএনইএম নেতৃত্বের মধ্যে দ্বন্দ্ব আরও বাড়িয়ে তুলেছে। লাজারো আইএনইএম প্রেসিডেন্ট লুইস ক্যাব্রালের বিরুদ্ধে কর্মীদের প্রতিনিধিদের সঙ্গে আলোচনার অভাবের অভিযোগ তুলেছেন। তিনি বলেন, ‘ইউনিয়ন বারবার আলোচনা চেয়েও কোনো সাড়া পায়নি এবং বড় ধরনের পরিবর্তনগুলো গণমাধ্যমের মাধ্যমে জানতে হচ্ছে।’
পরিস্থিতির অবনতির দায় নিয়ে লাজারো আইএনইএম প্রেসিডেন্টের পদত্যাগ দাবি করেছেন। তিনি বলেন, লুইস ক্যাব্রাল স্বেচ্ছায় পদত্যাগ না করলে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বা প্রধানমন্ত্রীর উচিত তাকে দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেওয়া। আপাতত ধর্মঘট দুটি আগামী ১৪ এবং ২৮ সেপ্টেম্বরের জন্য নির্ধারিত রয়েছে, তবে সরকারিভাবে বিতর্কিত এই সংস্কার কার্যক্রম বাতিল হলে ইউনিয়ন তাদের কর্মসূচি থেকে সরে আসতে রাজি বলে জানিয়েছে।
