পর্তুগালে অবৈধ ও নথিপত্রহীন অভিবাসীদের সাময়িকভাবে রাখার জন্য একমাত্র অস্থায়ী আবাসন কেন্দ্র-এর পরিবর্ধন এবং বিমানবন্দরগুলোর ধারণক্ষমতা বৃদ্ধির ফলে দেশে সর্বমোট অভিবাসী আবাসন সক্ষমতা দ্বিগুণ হয়ে ১৭১টিতে পৌঁছাতে যাচ্ছে।
পর্তুগালের পাবলিক সিকিউরিটি পুলিশ এবং স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের দেওয়া তথ্যানুযায়ী, আগামী সেপ্টেম্বরের মধ্যেই এই দেশব্যাপী নেটওয়ার্কটি ১৭০টির বেশি আসনে উন্নীত হবে।
এর আগে পোর্তো, বেজা ও ফারোর কাজের আগে পর্তুগালে অবৈধ অভিবাসীদের রাখার জন্য কেবল ৭৯টি আসন বা বেড ছিল। পোর্তোর একমাত্র সিটিআই-এর পাশাপাশি লিসবন, পোর্তো, ফারো এবং বেজা বিমানবন্দরে মোট চারটি সমতুল্য অস্থায়ী আবাসন কেন্দ্র বা ইইসিআই রয়েছে। সাম্প্রতিক সংস্কার ও পরিবর্ধন কাজের ফলে বিভিন্ন কেন্দ্রের সক্ষমতায় পরিবর্তন এসেছে:
সিটিআই পোর্তো (সান্তো আন্তোনিও হাউজিং ইউনিট): কন্টেইনার সলিউশন স্থাপনের মাধ্যমে এর ধারণক্ষমতা ৩০ থেকে বাড়িয়ে ১১৪টি বেড করা হয়েছে।
ইইসিআই লিসবন: এর ধারণক্ষমতা ১৮ থেকে বাড়িয়ে ২৫টি বেড করা হয়েছে।ইইসিআই পোর্তো: এর ধারণক্ষমতা অপরিবর্তিত অর্থাৎ ১৮টি বেড রাখা হয়েছে।
ইইসিআই ফারো: সংস্কারকাজের ফলে এর ধারণক্ষমতা ১৩ থেকে কমিয়ে ১০টি বেড করা হয়েছে।ইইসিআই বেজা: এর ধারণক্ষমতা শূন্য থেকে বাড়িয়ে নতুনভাবে ৪টি বেড যুক্ত করা হয়েছে।
স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, আগষ্টের শেষ নাগাদ এই পরিবর্ধন ও সংস্কার কাজগুলো সম্পন্ন হবে এবং সেপ্টেম্বরের শুরু থেকে পর্তুগাল মোট ১৭১টি আসনের স্থায়ী সাময়িক আবাসন সুবিধা পাবে, যা আগের তুলনায় দ্বিগুণেরও বেশি।
মূলত পর্তুগালের বর্তমান অভিবাসী আবাসন সংকট এবং জোরপূর্বক ফেরত পাঠানোর ক্ষেত্রে আইনগত ও অবকাঠামোগত ঘাটতির কারণে এই পরিবর্তন এসেছে।
এর আগে পুনরুদ্ধার ও স্থিতিস্থাপকতা পরিকল্পনা-এর আওতায় ৩০ মিলিয়ন ইউরো ব্যয়ে পোর্তো ও লিসবনে মোট ৩০০ জন ধারণক্ষমতা সম্পন্ন দুটি বড় স্থায়ী অস্থায়ী আবাসন কেন্দ্র তৈরির পরিকল্পনা করেছিল সরকার, যার মেয়াদ ছিল ৩০ জুন, ২০২৬ পর্যন্ত। তবে নির্মাণ কাজের দীর্ঘসূত্রিতা ও রাজনৈতিক নানা জটিলতার কারণে গত নভেম্বর মাসে সরকার আনুষ্ঠানিকভাবে সেই মেগা প্রকল্পটিকে পিআরআর থেকে বাদ দেয়।
বড় ভবন নির্মাণের দীর্ঘ প্রতীক্ষায় না থেকে বর্তমান সরকার বরং বিদ্যমান কেন্দ্রগুলোকেই কন্টেইনার ও প্রি-ফেব্রিকেটেড কাঠামোর মাধ্যমে দ্রুত সম্প্রসারণের ‘অন্তর্বর্তীকালীন সমাধান’ বেছে নিয়েছে। এর পাশাপাশি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় পিএসপির সঙ্গে আলোচনা করে ভবিষ্যতের জন্য নতুন স্থায়ী কেন্দ্র নির্মাণের সম্ভাবনাও খতিয়ে দেখছে।
ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) ‘মাইগ্রেশন অ্যান্ড অ্যাসাইলাম প্যাক’ বা অভিবাসন চুক্তি অনুযায়ী, পর্তুগালের সীমান্ত প্রক্রিয়ার জন্য ১০২টি আসন বা বেড পর্যাপ্ত ধারণক্ষমতা হিসেবে বিবেচিত হয়। ইইউ নিয়ম অনুযায়ী, প্রতিটি দেশের জন্য নির্দিষ্ট কোনো কোটা না থাকলেও, আবেদনকারীদের জন্য মর্যাদাপূর্ণ আবাসন নিশ্চিত করা বাধ্যতামূলক। আগামী ১২ জুন, ২০২৬ থেকে আগামী বছর পর্যন্ত পর্তুগালকে সীমান্তে বার্ষিক ২০৪ থেকে ৩০৬টি দ্রুতগতির রাজনৈতিক আশ্রয়ের আবেদন প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে হবে বলে ইইউ-এর নির্দেশনায় উল্লেখ করা হয়েছে।
