সোমবার, ৩১শে আগস্ট, ২০২৬   |   ১৬ই ভাদ্র, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

হৃদরোগ ও স্ট্রোকের কারণে অকাল মৃত্যু কমিয়ে আনার লক্ষ্যে ইংল্যান্ডের সাধারণ ফার্মেসি বা ওষুধের দোকানগুলোতে বিনামূল্যে মাত্র ৭ মিনিটে কোলেস্টেরল পরীক্ষার বিশেষ কার্যক্রম শুরু হতে যাচ্ছে।

যুক্তরাজ্যের জাতীয় স্বাস্থ্যসেবা ‘এনএইচএস ইংল্যান্ড’ জানিয়েছে—একটি সুই ফুটিয়ে আঙুল থেকে সামান্য রক্ত নিয়ে (পিন-প্রিক টেস্ট) রোগীর শরীরে কোলেস্টেরলের মাত্রা বিশ্লেষণ করা হবে। এই পরীক্ষার রিপোর্টের ওপর ভিত্তি করে ফার্মাসিস্টরা রোগীদের জীবনযাত্রার বিষয়ে পরামর্শ দেবেন এবং কোনো চিকিৎসার প্রয়োজন রয়েছে কি না, তা নির্ধারণ করবেন।

প্রাথমিকভাবে প্রায় ১০০টি ফার্মেসিতে এই পরীক্ষামূলক কার্যক্রম (পাইলট প্রজেক্ট) শুরু হবে। ৪০ থেকে ৮৪ বছর বয়সী ব্যক্তিরা এই সুবিধা পাবেন; তবে গর্ভবতী নারী এবং বিগত এক বছরের মধ্যে রক্ত পরীক্ষা করিয়েছেন—এমন ব্যক্তিরা এর আওতায় পড়বেন না। এই পরীক্ষার পাশাপাশি রোগীদের বিনামূল্যে রক্তচাপ (ব্লাড প্রেশার) পরীক্ষা করার সুবিধাও দেওয়া হবে এবং পরীক্ষার রিপোর্টের একটি কপি ইমেইলের মাধ্যমে সরাসরি রোগীর কাছে পাঠিয়ে দেওয়া হবে।

ইংল্যান্ডের প্রধান ফার্মাসিউটিক্যাল অফিসার ডেভিড ওয়েব বলেন, ‘আপনার এলাকার স্থানীয় ফার্মেসি গুরুতর রোগের বিরুদ্ধে প্রথম প্রতিরোধক হিসেবে কাজ করতে পারে। হাতের কাছের ওষুধের দোকানে দ্রুত ও সহজে কোলেস্টেরল পরীক্ষা করার সুযোগ তৈরি করে আমরা শরীরের ভেতরে থাকা টাইম বোমার মতো নীরব ঘাতক রোগগুলোকে অনেক আগেই সনাক্ত করতে পারব। এর ফলে হার্ট অ্যাটাক ও স্ট্রোক হওয়ার আগেই তা প্রতিরোধ করা সম্ভব হবে।’

তিনি আরও যোগ করেন, সরকারের ‘১০ বছরের স্বাস্থ্য পরিকল্পনা’-এর অংশ হিসেবে চিকিৎসকদের চেম্বারে আগে দেওয়া হতো—এমন অনেক জটিল স্বাস্থ্যসেবা সাধারণ মানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছে দিতে ফার্মেসিগুলোকে এই প্রথম সারির চিকিৎসায় যুক্ত করা হচ্ছে।

এনএইচএস ইংল্যান্ড জানিয়েছে, উত্তর লন্ডনে ‘বার্টস হেলথ এনএইচএস ট্রাস্ট’, ‘ইউসিএল পার্টনার্স’ এবং ‘হার্ট ইউকে’-এর যৌথ উদ্যোগে পরিচালিত একটি সফল ট্রায়ালের পর এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। সেই ট্রায়ালে ২০২৫ সালের জানুয়ারি থেকে ২০২৬ সালের মার্চের মধ্যে ৬১টি কমিউনিটি ফার্মেসিতে ২,৪৯৩ জন রোগীকে পরীক্ষা করা হয়েছিল। পরীক্ষা করা রোগীদের মধ্যে ১৯ শতাংশের ক্ষেত্রে ঔষধ প্রয়োগের প্রয়োজনীয়তা ধরা পড়ে এবং ৮৮ জন রোগীকে কোলেস্টেরল কমানোর জন্য ‘স্ট্যাটিন’ জাতীয় ওষুধ দেওয়া শুরু হয়।

এনএইচএস ইংল্যান্ডের কার্ডিওভাসকুলার রোগ প্রতিরোধ বিষয়ক জাতীয় উপদেষ্টা ড. রানি খাতিব বলেন, ‘উচ্চ কোলেস্টেরল এবং উচ্চ রক্তচাপের মতো সাধারণ ঝুঁকির কারণগুলো সম্পর্কে প্রত্যেকের সচেতন হওয়া উচিত এবং নিজের শরীরের এই রিডিং বা ‘নম্বরগুলো’ জানা উচিত। এই উদ্যোগটি মানুষকে অনেক আগেই সচেতন হতে সাহায্য করবে।’

ইউসিএল পার্টনার্সের প্রধান নির্বাহী ক্রিস লাইং বলেন, ‘উত্তর লন্ডনে পরীক্ষা করা প্রতি পাঁচজন মানুষের মধ্যে একজন আগামী ১০ বছরের মধ্যে হার্ট অ্যাটাক বা স্ট্রোকের উচ্চ ঝুঁকিতে ছিলেন। দ্রুত এই ঝুঁকি সনাক্ত করায় ফার্মেসিগুলো তাঁদের জীবনযাত্রার বিষয়ে পরামর্শ দিতে পেরেছে এবং প্রয়োজনে জিপি বা পারিবারিক চিকিৎসকের কাছে স্থানান্তর করতে পেরেছে।’

ইংল্যান্ডের স্বাস্থ্যমন্ত্রী অ্যালিসন ম্যাকগভর্ন এই উদ্যোগের ভূয়সী প্রশংসা করে বলেন, ‘এটি এমন একটি উদ্ভাবন যা আমরা পুরো এনএইচএস জুড়েই দেখতে চাই। মাত্র ৭ মিনিটে কোলেস্টেরল পরীক্ষা মানুষের সময় বাঁচাবে, তাদের দীর্ঘদিন সুস্থ রাখতে সাহায্য করবে এবং একই সঙ্গে এনএইচএসের ওপর থেকে অতিরিক্ত রোগীর চাপ কমিয়ে দেবে।’

চলতি বছরের শরৎকাল থেকে শুরু হয়ে ২০২৭ সালের বসন্তকাল পর্যন্ত এই দেশব্যাপী কোলেস্টেরল পরীক্ষা কার্যক্রম চলবে বলে জানা গেছে।


শেয়ার
মতামত দিন...

Exit mobile version