সোমবার, ২৬শে অক্টোবর, ২০২৬   |   ১১ই কার্তিক, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

পর্তুগালে আবাসনের অধিকার নিশ্চিত করার দাবিতে দেশজুড়ে বিক্ষোভ ও সমাবেশ ঘিরে পুলিশ মোতায়েন করেছে দেশটির জননিরাপত্তা পুলিশ (পিএসপি)। রাজধানী লিসবন ও পোর্তোতে বিশেষ নজর রাখছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে সংলাপের মাধ্যমে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখার ওপর গুরুত্ব দিচ্ছে পুলিশ।

বিক্ষোভ ঘিরে পুলিশের মোতায়েনসংক্রান্ত এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ‘শান্তিপূর্ণ ও নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিত করার পাশাপাশি সমাবেশ ও প্রতিবাদের অধিকার রক্ষা করাই আমাদের অগ্রাধিকার।’
সড়কে চলাচলে বিধিনিষেধ ব্যবস্থাপনায় ট্রাফিক পুলিশের বিভিন্ন ইউনিট মোতায়েন করা হয়েছে। পাশাপাশি দ্রুত সাড়াদানকারী দল প্রস্তুত রাখা হয়েছে। বিশেষ পুলিশ ইউনিটের ইন্টারভেনশন কর্পস ও প্রশিক্ষিত কুকুর নিয়ে কাজ করা দলও প্রয়োজনে মোতায়েনের জন্য প্রস্তুত রয়েছে।

পিএসপি জানিয়েছে, বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে সংলাপ, যোগাযোগ ও মধ্যস্থতাকে অগ্রাধিকার দেওয়া হবে। যেকোনো অপ্রীতিকর পরিস্থিতি প্রতিরোধ এবং ঘটনা ঘটলে আনুপাতিক ব্যবস্থা নেওয়াই তাদের লক্ষ্য।

পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, এখন পর্যন্ত পরিস্থিতি শান্তিপূর্ণ রয়েছে। পরিস্থিতির পরিবর্তনের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে পুলিশ মোতায়েন ও ঝুঁকি মূল্যায়ন করা হচ্ছে।

বিক্ষোভের গতিপ্রকৃতি এবং আয়োজকদের প্রকাশ্য ঘোষিত পরিকল্পনা সম্পর্কে ধারণা পেতে অনলাইনসহ বিভিন্ন উন্মুক্ত সূত্রের তথ্যও পর্যবেক্ষণ করছে পুলিশ। এর মাধ্যমে সম্ভাব্য ঝুঁকি আগেভাগে শনাক্ত ও মোকাবিলার চেষ্টা করা হচ্ছে।

আবাসন সংকট ও জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধির প্রতিবাদে নাগরিক আন্দোলনগুলোর আয়োজনে পর্তুগালের বিভিন্ন শহরে বিক্ষোভ ও সমাবেশ হচ্ছে।

পোর্তোতে শুরু হওয়ার দুই সপ্তাহ পরও আন্দোলনকারীরা রাজপথে রয়েছেন। নতুন ভাড়াসংক্রান্ত আইন বাতিল এবং আবাসন সংকট মোকাবিলায় কার্যকর পদক্ষেপ না নেওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন তাঁরা।

আন্দোলনকারীদের দাবির মধ্যে রয়েছে বিকল্প আবাসনের ব্যবস্থা না করে উচ্ছেদ বন্ধ, অবৈধ বাড়িঘর ভাঙা বন্ধ, আবাসন খাতে রিয়েল এস্টেট তহবিলের সম্পত্তি কেনা নিষিদ্ধ করা, সামাজিক আবাসনের সংখ্যা বাড়ানো, বাড়িভাড়ার সর্বোচ্চ সীমা নির্ধারণ এবং খালি পড়ে থাকা বাড়িঘর আবাসনের কাজে ব্যবহার নিশ্চিত করা।

শেয়ার
মতামত দিন...

Exit mobile version