সোমবার, ২৬শে অক্টোবর, ২০২৬   |   ১১ই কার্তিক, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

পর্তুগালে আবাসন সংকটের প্রতিবাদে শনিবার (২৪ অক্টোবর) রাজধানী লিসবনে বিক্ষোভ করেছেন হাজারো মানুষ। মারকেস দে পমবাল থেকে রসিও স্কয়ার পর্যন্ত মিছিলে অংশ নিয়ে তাঁরা আবাসন সংকট মোকাবিলায় জরুরি পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানান।

আকাম্পাদা দে লিসবোয়া’ আন্দোলনের আয়োজনে বিক্ষোভের স্লোগান ছিল, ‘আমাদের বাড়ি নেই, তাই তাঁবু খাটিয়েছি!’ বাড়িভাড়া ও আবাসন ব্যয় বৃদ্ধি, সম্পত্তি নিয়ে জল্পনাবাণিজ্য এবং সাশ্রয়ী আবাসন খুঁজে পেতে মানুষের ভোগান্তির প্রতিবাদে এ কর্মসূচি পালন করা হয়।

এর আগে ১০ অক্টোবর পোর্তোতে শুরু হওয়া বিক্ষোভ গত দুই সপ্তাহে লিসবনসহ পর্তুগালের বিভিন্ন শহরে ছড়িয়ে পড়ে। আন্দোলনকারীরা লিসবনের রসিও স্কয়ারে তাঁবু খাটিয়ে অবস্থান নিয়েছেন। আবাসনের অধিকার আদায়ের প্রতীক হয়ে উঠেছে এসব তাঁবু।

বিক্ষোভে পুলিশের সতর্ক অবস্থান
পর্তুগালের জননিরাপত্তা পুলিশ (পিএসপি) জানিয়েছে, আবাসন সংকট নিয়ে বিভিন্ন শহরে চলা বিক্ষোভ পর্যবেক্ষণে পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। বিশেষ নজর রাখা হচ্ছে লিসবন ও পোর্তোতে।
লুসা সংবাদ সংস্থার বরাতে পুলিশ জানায়, শান্তিপূর্ণ সমাবেশ ও প্রতিবাদের অধিকার নিশ্চিত করার পাশাপাশি জননিরাপত্তা বজায় রাখাই তাদের অগ্রাধিকার। বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে সংলাপ, যোগাযোগ ও মধ্যস্থতার মাধ্যমে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখার চেষ্টা করা হবে।

এ ছাড়া ট্রাফিক পুলিশ ও দ্রুত হস্তক্ষেপকারী দল মোতায়েন করা হয়েছে। সম্ভাব্য ঝুঁকি শনাক্ত করতে অনলাইন কার্যক্রমসহ প্রকাশ্যে доступযোগ্য তথ্যও পর্যবেক্ষণ করছে পুলিশ।

বিক্ষোভে যোগ দিলেন বিরোধী নেতারা
শনিবারের বিক্ষোভে যোগ দেন বিরোধী দলের কয়েকজন রাজনীতিক। তাঁদের অভিযোগ, আবাসন সংকট মোকাবিলায় সরকার যথাযথ পদক্ষেপ নিতে ব্যর্থ হয়েছে।

বামপন্থী দল ব্লকের (বিই) নেতা হোসে ম্যানুয়েল পুরেজা বলেন, বিভিন্ন বয়স ও শ্রেণিপেশার মানুষের ক্রমবর্ধমান অংশগ্রহণ সরকারের নীতিতে পরিবর্তন আনতে পারে। শ্রম আইন সংস্কারের প্রস্তাবের বিরুদ্ধে আন্দোলনের উদাহরণ টেনে তিনি বলেন, জনচাপের মুখে সরকার আবাসন ও ভাড়াসংক্রান্ত নীতিতেও পরিবর্তন আনতে বাধ্য হতে পারে।

প্রধানমন্ত্রী লুইস মন্টেনেগ্রোর নীরবতারও সমালোচনা করেন তিনি। পুরেজা বলেন, ‘গত কয়েক দিনে প্রধানমন্ত্রীকে এসব বিক্ষোভ নিয়ে কথা বলতে শুনিনি। অন্য কোনো বিষয়েও না। প্রধানমন্ত্রী কোথায় আছেন, তা-ও জানা যাচ্ছে না।’

পর্তুগিজ কমিউনিস্ট পার্টির (পিসিপি) লিসবন সিটি কাউন্সিলর জোয়াও ফেরেইরা অভিযোগ করেন, সরকারের নেওয়া কিছু পদক্ষেপ আবাসন সংকট সমাধানের বদলে সম্পত্তি নিয়ে জল্পনাবাণিজ্য বাড়াতে পারে। তাঁর মতে, এসব নীতি ভাড়ার চুক্তিতে অনিশ্চয়তা বাড়াচ্ছে এবং মানুষের জন্য আবাসন আরও ব্যয়বহুল করে তুলছে।তিনি বলেন, ‘এতে মানুষের ক্ষোভ তৈরি হওয়াই স্বাভাবিক।’

বিক্ষোভে অংশ নেওয়া লিভরে পার্টির সংসদ সদস্য ইসাবেল মেন্দেস লোপেস বলেন, আন্দোলন ইতিমধ্যে রাজনৈতিক বিতর্কে প্রভাব ফেলছে। তাঁর দাবি, বিক্ষোভ শুরুর পর সরকার ও ডানপন্থী দলগুলোর নেতাদের বক্তব্যের সুর তুলনামূলকভাবে কম সংঘাতপূর্ণ হয়েছে। এতে আবাসন সংস্কারের দাবিতে জনসমর্থনের শক্তি সম্পর্কে রাজনৈতিক নেতৃত্বের সচেতনতা বাড়ার ইঙ্গিত পাওয়া যায়।
আবাসনের ঘাটতি, বাড়িভাড়া বৃদ্ধি এবং সাশ্রয়ী বাসস্থান খুঁজে পেতে ক্রমবর্ধমান ভোগান্তির কারণে পর্তুগাল সরকারের ওপর চাপ বাড়ছে।

ইউরোপজুড়েই বাড়ছে বিক্ষোভ
জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধি, আবাসন সংকট, কম মজুরি ও অন্যান্য সামাজিক ইস্যুতে ইউরোপের বিভিন্ন দেশেও বিক্ষোভ চলছে।

ফ্রান্সে শনিবার দেশজুড়ে বিক্ষোভে অংশ নেন প্রায় ৩৫ হাজার মানুষ। এ সময় ১৩৫ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়। আগের সপ্তাহান্তের সহিংসতার পুনরাবৃত্তি ঠেকাতে মোতায়েন করা হয় ৭০ হাজারের বেশি পুলিশ সদস্য।

বেলজিয়ামের রাজধানী ব্রাসেলসে জীবনযাত্রা ও জ্বালানির ব্যয় বৃদ্ধির প্রতিবাদে বিক্ষোভের সময় পুলিশের ব্যারিকেড ভেঙে এগিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেন প্রায় ৩০০ বিক্ষোভকারী। তাঁদের ছত্রভঙ্গ করতে কাঁদানে গ্যাস ব্যবহার করে পুলিশ।

এদিকে স্পেনের মাদ্রিদে সরকারি পেনশনের সুরক্ষার দাবিতে মিছিল করেছেন প্রায় ২৫ হাজার মানুষ। একই শহরে আবাসন সংকট নিয়ে বিক্ষোভকারীদের তাঁবু শিবিরের ২৮তম দিন চলছে।
জীবনযাত্রার ব্যয়, মজুরি ও প্রতিরক্ষা খাতে ব্যয় নিয়ে ইতালিতেও বিক্ষোভ হচ্ছে। অন্যদিকে, শিক্ষার দুরবস্থা ও সুযোগের সীমাবদ্ধতার প্রতিবাদে আন্দোলন করছেন আলবেনিয়ার শিক্ষার্থীরা।

শেয়ার
মতামত দিন...

Exit mobile version