প্রবীণ বা বয়স্ক নাগরিকদের যথাযথ সেবা ও যত্ন প্রদানের ক্ষেত্রে রাষ্ট্র তার দায়িত্ব এড়ানোর ফলে হাজার হাজার পরিবার তাদের প্রবীণ স্বজনদের জন্য সম্মানজনক ও সাশ্রয়ী মূল্যের আবাসন খুঁজে পেতে চরম হিমশিম খাচ্ছে বলে অভিযোগ তুলেছেন পর্তুগালের প্রেসিডেন্ট আন্তোনিও জোসে সেগুরো।
ভিজেউ-এর ভিলা চা দে সা এলাকায় স্থানীয় ‘সোশ্যাল, রিক্রিয়েশনাল অ্যান্ড স্পোর্টস সলিডারিটি অ্যাসোসিয়েশন’ পরিচালিত ৬৩ শয্যার একটি আবাসিক কেয়ার হোম বা প্রবীণ নিবাসের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তিনি এই তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেন।
প্রেসিডেন্ট বলেন, ‘এখানে আমাকে স্পষ্ট হতে হবে। রাষ্ট্র এমন একটি দায়িত্ব মেটানো থেকে বড় আকারে নিজেকে গুটিয়ে নিয়েছে, যা হাজার হাজার পরিবারকে চরম হতাশার দিকে ঠেলে দিচ্ছে; এটি কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।’
প্রেসিডেন্টের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ইউরোপীয় ইউনিয়নের মধ্যে পর্তুগাল প্রবীণদের যত্নের শয্যা বা বেড সরবরাহে তৃতীয় সর্বনিম্ন অবস্থানে রয়েছে—যেখানে ৬৫ বছরের বেশি বয়সী প্রতি ১,০০০ জনের জন্য ৪টিরও কম শয্যা বরাদ্দ রয়েছে। তিনি জোর দিয়ে বলেন, যেখানে অর্থনৈতিক সহযোগিতা ও উন্নয়ন সংস্থার (ওইসিডি) দেশগুলোর গড় শয্যার সংখ্যা ৪১।
প্রেসিডেন্ট সেগুরো সতর্ক করে বলেন, ‘অনেক কেয়ার হোমে কোনো শয্যা খালি নেই এবং প্রতি বছর দেশে প্রবীণ মানুষের সংখ্যা বাড়ছে।’ তিনি আরও বলেন, ‘বাড়ছে সেবার মূল্যও। অনেক পরিবারের জন্য এই কেয়ার হোমের খরচ তাদের পুরো পরিবারের মোট আয়ের কাছাকাছি বা ক্ষেত্রবিশেষে তা ছাড়িয়ে যাচ্ছে।’
সেগুরো বলেন, নতুন এই কেয়ার হোমটি ভিলা চা দে সা এলাকার জন্য একটি ইতিবাচক অগ্রগতি; তবে তিনি জোর দিয়ে বলেন যে চ্যারিটি বা সামাজিক খাতের সংস্থাগুলো রাষ্ট্রের হয়ে তাদের ওপর অর্পণ করা মূল দায়িত্ব পালন করবে—এমনটি আশা করা যায় না।
৪৫ লাখ ইউরোর এই প্রকল্পটি মূলত সরকারি সহায়তা, অ্যাসোসিয়েশনের নিজস্ব তহবিল এবং ব্যাংক ঋণের সমপরিমাণ তিন অংশের অর্থায়নে বাস্তবায়িত হয়েছে।
তিনি বলেন, ‘আমি একটি সত্য বারবার বলে এসেছি এবং বলতেই থাকব, যা আমাদের ভুলে গেলে চলবে না: সামাজিক খাতের কাজ কোনোভাবেই রাষ্ট্রের দায়িত্বের বিকল্প হওয়া নয়।’
তিনি সতর্ক করে দিয়ে আরও বলেন, ‘হাজার হাজার পরিবার বেদনাদায়কভাবে একটি সমাধানের জন্য অপেক্ষা করছে। আমরা যদি এই সমস্যাটিকে একটি প্রজন্মগত ট্র্যাজেডিতে পরিণত হওয়া থেকে রোধ করতে না পারি, তবে পরিস্থিতি আরও খারাপ হবে।’
প্রবীণদের সেবার বিষয়টিকে প্রেসিডেন্ট এবং একজন সাধারণ নাগরিক উভয় হিসেবেই নিজের অন্যতম উদ্বেগের বিষয় বলে বর্ণনা করেছেন সেগুরো।
তিনি বলেন, ‘এমন কিছু বিষয় রয়েছে যা কোনো সভ্য বা ভালো সমাজ মেনে নিতে পারে না: আমাদের যারা ভালো রেখেছিলেন, তাঁদের সাথে ভালো আচরণ না করা ক্ষমার অযোগ্য।’
তিনি আরও বলেন, এই নতুন নিবাসে আসা মানুষগুলো সন্তানদের বড় করেছেন, দেশ গঠনে সাহায্য করেছেন এবং তাঁদের পরবর্তী প্রজন্মের যত্ন নিয়েছেন।
প্রেসিডেন্ট যোগ করেন, ‘আমরা তাঁদের কাছে অন্তত এতটুকু ঋণী যে তাঁরা যেন তাঁদের জীবনের শেষ সময়টুকু যত্ন ও সাহচর্যের মধ্য দিয়ে মর্যাদার সাথে শান্তিপূর্ণভাবে কাটাতে পারেন।’
প্রেসিডেন্ট আশা প্রকাশ করেন যে, নতুন এই নিবাসের বাসিন্দারা তাঁদের প্রিয়জনের জন্য একটি সম্মানজনক স্থান খুঁজে না পাওয়ার উদ্বেগ থেকে মুক্তি পাবেন এবং এখানে ‘অনেক আনন্দের মুহূর্ত ও একটি শান্তিপূর্ণ জীবনযাপন’ খুঁজে পাবেন।
এ সময় তিনি সমাজে ‘এএসএসআরডি’-এর দীর্ঘ ৫২ বছরের সেবামূলক কাজের ভূয়সী প্রশংসা করেন। নতুন এই প্রবীণ নিবাস ছাড়াও, অ্যাসোসিয়েশনটি প্রায় ১০০ জন মানুষের বাড়িতে গিয়ে সেবা প্রদান করে এবং ৪০টি শিশুর জন্য একটি নার্সারি পরিচালনা করে।
প্রেসিডেন্ট বলেন, ‘ক্রমবর্ধমান এক স্বার্থপর পৃথিবীতে, যেখানে মানুষের পারস্পরিক
সম্পর্ককে কেবল বৈষয়িক বা পরিমাণগত ফলাফলের মাধ্যমে মূল্যায়ন করা হচ্ছে, সেখানে সংহতির ওপর ভিত্তি করে গড়ে ওঠা এ ধরনের প্রকল্পগুলো অবশ্যই বিশেষ স্বীকৃতির দাবিদার।’
পর্তুগাল রেসিডেন্ট
