যুক্তরাজ্যের থেটফোর্ড এলাকায় টানা তৃতীয় রাতের মতো অভিবাসনবিরোধী সহিংসতা ও বিশৃঙ্খলা ছড়িয়ে পড়ার পর রাজনৈতিক আশ্রয়প্রার্থীরা (অ্যাসাইলাম সিকার্স) তাঁদের বাড়িঘর ছেড়ে পালিয়ে যেতে বাধ্য হয়েছেন।
নরফোকের পুলিশ প্রধান পল স্যানফোর্ড জানিয়েছেন, কিছু বিক্ষোভকারী আশ্রয়প্রার্থীদের থাকার বাড়িগুলোকে ‘লক্ষ্যবস্তু বানিয়ে হামলা’ চালাচ্ছিল। পুলিশ যদি সময়মতো হস্তক্ষেপ না করত, তবে বিক্ষোভকারীরা সেসব বাড়িঘরে ‘ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করত বলে শতভাগ আশঙ্কা’ ছিল।
থেটফোর্ডের বাজার এলাকায় টানা তিন রাতের সহিংসতার পর এই পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। এ সময় একদল উন্মত্ত জনতা আশ্রয়প্রার্থীদের আবাসন বলে সন্দেহ করা বাড়িগুলোতে ভাঙচুর চালায়, যার ফলে বাড়ির জানালা ও সীমানার বেড়া ভেঙে যায়।
গত বৃহস্পতিবার রাতে দুজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে, যার ফলে গত তিন রাতের আইনে মোট গ্রেপ্তারের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে পাঁচজনে।
বিবিসি রেডিও ৪-এর ‘টুডে’ অনুষ্ঠানে দেওয়া সাক্ষাৎকারে চিফ কনস্টেবল স্যানফোর্ড বলেন, নিরাপত্তার স্বার্থে তাঁর পুলিশ কর্মকর্তাদের ওই বাড়িগুলোর বাসিন্দাদের নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নিতে হয়েছে।
তিনি বলেন, ‘থেটফোর্ড এলাকায় বিক্ষোভকারীরা এমন সব বাড়িকে লক্ষ্যবস্তু বানাচ্ছিল যেগুলো মূলত আশ্রয়প্রার্থীদের আবাসন বলে তাঁরা মনে করছিল। ফলে নিরাপত্তার স্বার্থে অন্তত দুটি ঘটনায় আমাদের ওই বাড়ির বাসিন্দাদের পাহারার মাধ্যমে নিরাপদে সরিয়ে নিতে হয়েছে।’
পুলিশ সময়মতো হস্তক্ষেপ না করলে কী ঘটত—জানতে চাওয়া হলে তিনি বলেন, ‘আমি মনে করি, বিক্ষোভকারীরা বাড়িগুলোতে ঢুকে পড়ত এবং এটি একটি বড় বিপর্যয় তৈরি করতে পারত। এর ফলে সেখানে থাকা বাসিন্দারা এবং খোদ বিক্ষোভকারীরাও চরম জীবনঝুঁকির মুখে পড়ত।’
গত বুধবার বিক্ষোভকারীদের হামলায় পুলিশ কর্মকর্তারা ‘মারাত্মক সহিংসতার শিকার’ হওয়ার পর স্যানফোর্ড সতর্ক করেছেন যে, পুলিশের ওপর হামলাকারীরা ‘আইনের সর্বোচ্চ কঠোরতার’ মুখোমুখি হবে। ওই দিনের হামলায় এক পুলিশ কর্মকর্তার মাথায় পাথর ছুড়ে মারা হয়েছে, একজনকে কামড়ে দেওয়া হয়েছে এবং অন্য একজনের ওপর থুতু ফেলা হয়েছে।
ঐ দিন সন্ধ্যায় ক্লোভার ওয়ে-তে সৃষ্ট চরম উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতি শান্ত করতে গিয়ে আহত হওয়া দুই পুলিশ কর্মকর্তাকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। পুলিশ এই পরিস্থিতিকে ‘দ্রুত পরিবর্তনশীল এবং অস্থির’ বলে বর্ণনা করেছে।
স্যানফোর্ড বলেন, ‘যেসব মানুষ তাঁদের শান্তিপূর্ণ আন্দোলনের অধিকার প্রয়োগ করছেন, আমরা অবশ্যই তাঁদের পাশে আছি। থেটফোর্ডের বাসিন্দারা তাঁদের শহরে ঘটে যাওয়া ঘটনাগুলো নিয়ে স্বাভাবিকভাবেই উদ্বিগ্ন। তবে গত টানা তিন রাতে একদল মানুষ প্রতিবাদের সমস্ত গ্রহণযোগ্য সীমা লঙ্ঘন করেছেন এবং আমরা এই ধরনের আচরণের বিরুদ্ধে কঠোর আইন প্রয়োগ করছি।’
তিনি আরও যোগ করেন, আইন অমান্যকারীদের বিরুদ্ধে পুলিশ কঠোর অবস্থান নিয়েছে।
তিনি বলেন, ‘গত বুধবার রাতের ঘটনার জেরে আমার দুজন পুলিশ কর্মকর্তাকে হাসপাতালে ভর্তি করতে হয়েছে। এই অপরাধগুলোর পেছনে জড়িত ব্যক্তিদের অবশ্যই আইনের সর্বোচ্চ কঠোর শাস্তি পেতে হবে এবং আমি তাঁদের জন্য সর্বোচ্চ শাস্তির দাবি জানাব।’
তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ‘আমার পুলিশ কর্মকর্তাদের ওপর এই হামলা সম্পূর্ণ অগ্রহণযোগ্য। তাঁরা মূলত এই কমিউনিটি বা সমাজকে রক্ষা করার চেষ্টা করছেন যেখানে তাঁরা নিজেরাই বাস করেন এবং সেবা দেন। আমি মনে করি, যখন কোনো পুলিশ কর্মকর্তা আক্রান্ত হন, তখন অপরাধীদের জন্য এর পরিণতি অত্যন্ত কঠোর এবং অনুকরণীয় হওয়া উচিত।’
ইনডিপেন্ডেন্ট
