জীবনযাত্রার লাগামহীন ব্যয়বৃদ্ধি, আবাসন সংকট এবং নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের আকাশচুম্বী মূল্যের প্রতিবাদে পর্তুগালজুড়ে দেশব্যাপী বড় ধরনের বিক্ষোভ কর্মসূচি পালিত হচ্ছে। দেশটির অন্যতম প্রধান ট্রেড ইউনিয়ন কনফেডারেশন ‘সিজিটিপি’-এর ডাকে রাজধানী লিসবন, পোর্তো এবং কোয়েম্ব্রাসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ শহরে আজ শনিবার (১৭ অক্টোবর) রাজপথে নেমেছেন হাজার হাজার মানুষ।
‘উচ্চ বেতন, উন্নত পেনশন ও সরকারি পরিষেবা | জীবনযাত্রার ব্যয়বৃদ্ধির বিরুদ্ধে | পর্তুগালের জন্য নতুন দিশা!’—এই স্লোগানকে সামনে রেখে একযোগে এসব বিক্ষোভ অনুষ্ঠিত হচ্ছে।
ঘোষিত কর্মসূচি অনুযায়ী, সকাল সাড়ে ১০টায় পোর্তো এবং কোয়েম্ব্রায় বিক্ষোভ মিছিল শুরু হয়। অন্যদিকে রাজধানীর প্রধান জমায়েতটি দুপুর আড়াইটায় লিসবনের কাইস দো সোদরে থেকে শুরু হয়ে ঐতিহাসিক রোসিও চত্বরে গিয়ে শেষ হওয়ার কথা রয়েছে।
পোর্তোয় বিক্ষোভকারীরা বাটালহা স্কয়ারে জড়ো হয়ে জোয়াও-১ চত্বরে মিছিল নিয়ে যান, যা গত এক সপ্তাহ ধরে সেখানকার আবাসন আন্দোলনের অন্যতম প্রধান কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে।
সংবাদ সংস্থা লুসাকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে সিজিটিপির সাধারণ সম্পাদক তিয়াগো অলিভেইরা বলেন, বাড়িভাড়ার অস্বাভাবিক বৃদ্ধি, জ্বালানি তেলের মূল্যস্ফীতি এবং নিত্যপ্রয়োজনীয় মুদিপণ্যের দামে পিষ্ট সাধারণ মানুষের দাবি তুলে ধরতেই এই বিক্ষোভের ডাক দেওয়া হয়েছে। তিনি ভেঙে পড়া সরকারি পরিষেবা এবং সরকারের বিদ্যমান অর্থনৈতিক নীতির তীব্র সমালোচনা করে সাধারণ মানুষকে নিজেদের অধিকার আদায়ে সোচ্চার হওয়ার আহ্বান জানান।
লিসবনের মেয়র কার্লোস মোয়েদাস বিক্ষোভের কারণকে ‘যৌক্তিক’ বলে স্বীকার করলেও আন্দোলনকারীদের অবশ্যই ‘আইনের ভেতরে থেকে’ কর্মসূচি পালনের আহ্বান জানিয়েছেন।
পোর্তোয় পুলিশের অভিযান ঘিরে উত্তেজনা
গত সপ্তাহে পোর্তোয় আবাসন অধিকারের এক আন্দোলনে পুলিশের বলপ্রয়োগের ঘটনার পর দেশজুড়ে তীব্র ক্ষোভ তৈরি হয়। জোয়াও-১ চত্বরে বিক্ষোভকারীদের ওপর পুলিশের সেই অভিযানের বিষয়ে ইতিমধ্যে তদন্ত শুরু করেছে দেশটির অভ্যন্তরীণ প্রশাসন বিষয়ক মহাপরিদপ্তর (IGAI)। ওই ঘটনায় সাতজনকে পুলিশ শনাক্ত করেছিল।
রাজনৈতিক অঙ্গনেও এ নিয়ে তীব্র বিতর্ক চলছে। কট্টর ডানপন্থি শেগা (Chega) দলের নেতা আন্দ্রে ভেনচুরা পুলিশের পদক্ষেপের পক্ষে অবস্থান নিয়ে দাবি করেন যে আন্দোলনে চরমপন্থিরা ঢুকে পড়েছিল। সোশ্যালিস্ট পার্টির প্রধান হোসে লুইস কার্নিরো সবাইকে গণতান্ত্রিক নিয়ম মেনে ক্ষোভ প্রকাশের তাগিদ দিয়েছেন। অন্যদিকে লিবারেল ইনিশিয়েটিভের নেত্রী মারিয়ানা লেইতাও পুলিশের বলপ্রয়োগের জবাবদিহি দাবি করার পাশাপাশি কমিউনিস্ট পার্টি ও লেফট ব্লকের ভূমিকার সমালোচনা করে ফ্রান্সে দেখা দেওয়া সহিংসতার মতো অস্থিতিশীলতা ছড়িয়ে পড়ার বিষয়ে সতর্ক করেছেন।
পরিবারে হামলার হুমকির নিন্দা প্রধানমন্ত্রীর
এদিকে ব্রাসেলসে অবস্থানকালে নিজের বাড়ি ও পরিবারের সদস্যদের ওপর আসা প্রকাশ্য হুমকির তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন পর্তুগালের প্রধানমন্ত্রী লুইস মন্টেনেগ্রো। একটি ভিডিওতে এক বিক্ষোভকারীকে প্রধানমন্ত্রীর বাড়ির ঠিকানা খুঁজে বের করে ঢিল মারার আহ্বান জানাতে দেখা গেছে।
প্রধানমন্ত্রী স্পষ্ট করেছেন যে তিনি শান্তিপূর্ণ আন্দোলনের অধিকারকে সবসময় সম্মান করেন, তবে কোনো ধরনের সহিংসতা বা বিশৃঙ্খলা গ্রহণযোগ্য নয়। পরবর্তীতে এই হুমকি থেকে নিজেদের দূরত্ব বজায় রেখে বিক্ষোভকারীদের শান্ত ও অহিংস থাকার আহ্বান জানিয়েছে ‘হাউজিং মুভমেন্ট’।
ট্রেড ইউনিয়নগুলোর এই আন্দোলনের মধ্য দিয়ে পর্তুগালের গভীরতর আবাসন সংকট, নিম্ন বেতন এবং সাধারণ পরিবারের ওপর তীব্র আর্থিক চাপের বিষয়টি আবারও জাতীয় রাজনীতির কেন্দ্রবিন্দুতে উঠে এসেছে।


