শনিবার, ১৭ই অক্টোবর, ২০২৬   |   ২রা কার্তিক, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

বেতন বৃদ্ধি, উন্নত কর্মপরিবেশ ও পেশাগত মর্যাদার দাবিতে পর্তুগালজুড়ে সোমবার (১৯ অক্টোবর) ২৪ ঘণ্টার দেশব্যাপী ধর্মঘটের ডাক দিয়েছেন বিভিন্ন স্কুল ও প্রিস্কুলের অশিক্ষক কর্মচারীরা। এর ফলে দেশটির অসংখ্য শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের স্বাভাবিক কার্যক্রম ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি অনেক স্কুল পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।

সংবাদমাধ্যম ‘এক্সিকিউটিভ ডাইজেস্ট’-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, ন্যাশনাল ইউনিয়ন অব এডুকেশন প্রফেশনালস (সিনাপে/SINAPE)-এর ডাকে সোমবার মধ্যরাত থেকে দিনভর এই কর্মবিরতি কর্মসূচি চলবে।

এই ধর্মঘটের আওতায় রয়েছেন পাবলিক স্কুলগুলোতে কর্মরত অপারেশনাল সহকারী, প্রশাসনিক সহকারী, বিশেষায়িত টেকনিশিয়ান এবং জ্যেষ্ঠ কারিগরি বিশেষজ্ঞরা। স্কুলে শিক্ষক উপস্থিত থাকলেও শিশুদের সার্বিক নিরাপত্তা ও নজরদারি, ভবন পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখা, প্রশাসনিক কার্যক্রম পরিচালনা এবং দুপুরের খাবারের ব্যবস্থাপনা সচল রাখতে এই অশিক্ষক কর্মীরাই প্রধান ভূমিকা পালন করেন। ফলে তাঁদের বড় একটি অংশ ধর্মঘটে অংশ নিলে পর্যাপ্ত কর্মীর অভাবে নিরাপত্তার স্বার্থে অনেক স্কুল খোলা সম্ভব নাও হতে পারে।

অভিভাবকদের সতর্কবার্তা পাঠাচ্ছে স্কুলগুলো
সম্ভাব্য ভোগান্তির কথা বিবেচনা করে ইতিমধ্যে বিভিন্ন স্কুল কর্তৃপক্ষ অভিভাবকদের আগাম নোটিশ পাঠাতে শুরু করেছে। আলগার্ভের আলকৌতিম স্কুল গ্রুপ অভিভাবকদের অনুরোধ জানিয়েছে, সন্তানদের স্কুলে নামিয়ে দেওয়ার আগে বা স্কুলের বাসে ওঠানোর আগে স্কুলটি আদৌ খোলা রয়েছে কি না তা নিশ্চিত হতে।

অনুরূপ সতর্কতা জারি করা হয়েছে গুইয়া, এসপোসেন্দে এবং লৌসার বিভিন্ন স্কুলে। এসপোসেন্দের আন্তোনিও কোরিয়া দে অলিভেইরা স্কুল গ্রুপ অভিভাবকদের যেকোনো সময়সূচির পরিবর্তনের জন্য প্রস্তুত থাকার পরামর্শ দিয়েছে। তবে স্কুল ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ঠিক কতজন কর্মী শেষ পর্যন্ত ধর্মঘটে অংশ নিচ্ছেন তার ওপর ভিত্তি করে সোমবার সকালেই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত বোঝা যাবে।
কেন এই ধর্মঘট?

ইউনিয়নটির মূল দাবি হলো—জীবনযাত্রার ব্যয়ের সঙ্গে সঙ্গতি রেখে বেতন বাড়ানো, কাজের উপযুক্ত পরিবেশ নিশ্চিত করা এবং অশিক্ষক কর্মীদের দায়িত্বের যথাযথ মূল্যায়ন করা। সিনাপের অভিযোগ, বছরের পর বছর দায়িত্ব পালন ও অভিজ্ঞতা থাকা সত্ত্বেও বহু কর্মীর বেতন ক্রমান্বয়ে জাতীয় সর্বনিম্ন মজুরির কাছাকাছি নেমে এসেছে।

এ ছাড়া প্রতিটি পদের জন্য নির্দিষ্ট ক্যারিয়ার কাঠামো তৈরি, পদোন্নতির সুযোগ এবং কর্মী সংকট দূর করার দাবি জানিয়েছে ইউনিয়নটি। সরকারি কর্মকর্তাদের মূল্যায়ন ব্যবস্থা ‘সিয়াডাপ’ (SIADAP)-এর বিরুদ্ধেও ক্ষোভ প্রকাশ করেছে তারা। বিশেষজ্ঞদের ক্ষেত্রে অস্থায়ী বা অনিশ্চিত চুক্তির অবসান ঘটিয়ে স্থায়ী ও স্থিতিশীল চাকরির নিশ্চয়তা দাবি করছে সংগঠনটি।

অভিভাবকদের প্রতি পরামর্শ
যেহেতু এই ধর্মঘটের নোটিশে কোনো ‘ন্যূনতম সেবা’ নিশ্চিত করার বাধ্যবাধকতা রাখা হয়নি, তাই অতিরিক্ত কর্মী অনুপস্থিত থাকলে বাচ্চাদের নিরাপত্তা দেওয়া সম্ভব হবে না বিধায় স্কুল বন্ধ রাখা হতে পারে। খোলা থাকা স্কুলগুলোতেও দুপুরের খাবার বা প্রশাসনিক সেবা ব্যাহত হতে পারে।
বিশেষ করে প্রিস্কুল ও প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের অভিভাবকদের সন্তানদের স্কুলে রেখে আসার আগে অফিসিয়াল নোটিশ দেখে নিশ্চিত হওয়ার এবং বিকল্প শিশু পরিচর্যার প্রস্তুতি রাখার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

শেয়ার
মতামত দিন...

Exit mobile version