বুধবার, ৮ই এপ্রিল, ২০২৬   |   ২৬শে চৈত্র, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

কয়েক শতাব্দী আগের দাসপ্রথার ক্ষত নিয়ে আবারও উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে ব্রিটেনের রাজনীতি। যুক্তরাজ্যের ডানপন্থী দল রিফর্ম ইউকে এক বিতর্কিত ঘোষণায় জানিয়েছে, যেসব দেশ দাসপ্রথার জন্য ব্রিটেনের কাছে ক্ষতিপূরণ দাবি করছে, সেই সব দেশের নাগরিকদের জন্য যুক্তরাজ্যে ভিসা প্রদান বন্ধ করে দেওয়া হতে পারে। দলের এই কঠোর অবস্থানে আন্তর্জাতিক মহলে ব্যাপক প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়েছে।

রিফর্ম ইউকে-র স্বরাষ্ট্রবিষয়ক মুখপাত্র জিয়া ইউসুফ দাসপ্রথার ক্ষতিপূরণের এই দাবিকে সরাসরি “অপমানজনক” বলে আখ্যায়িত করেছেন। তিনি জানান, গত ২০ বছরে এই দেশগুলোর নাগরিকদের প্রায় ৩৮ লক্ষ (৩.৮ মিলিয়ন) ভিসা দিয়েছে যুক্তরাজ্য। তার মতে, ইতিহাসকে ব্যবহার করে যুক্তরাজ্যের কাছ থেকে অর্থ আদায়ের চেষ্টা করা হলে লন্ডনের পক্ষ থেকে ‘ব্যাংক বন্ধ এবং দরজা তালাবদ্ধ’ রাখা হবে। বিশেষ করে জামাইকা, নাইজেরিয়া এবং ঘানা থেকে আসা ক্ষতিপূরণের জোরালো দাবির প্রেক্ষিতে তিনি এই হুঁশিয়ারি দেন।

ইতিহাসবিদদের মতে, চার শতাব্দী ধরে যুক্তরাজ্যসহ ইউরোপের সাতটি দেশ ১৫ মিলিয়নেরও বেশি আফ্রিকান মানুষকে দাস হিসেবে আটলান্টিক পাড়ি দিতে বাধ্য করেছিল। সম্প্রতি জাতিসংঘ এই দাস বাণিজ্যকে “মানবতার বিরুদ্ধে সবথেকে গুরুতর অপরাধ” বলে অভিহিত করে ক্ষতিপূরণের আহ্বান জানিয়েছে, যাকে সমর্থন করছে আফ্রিকান ইউনিয়ন ও ক্যারিবিয়ান কমিউনিটি। ২০২৩ সালের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এই অপরাধের ক্ষতিপূরণ হিসেবে যুক্তরাজ্যের ওপর প্রায় ২৪ ট্রিলিয়ন ডলারের দেনা থাকতে পারে।

ক্ষতিপূরণের প্রস্তাবে জাতিসংঘে ভোট দেওয়ার সময় যুক্তরাজ্য ও ইউরোপীয় ইউনিয়ন বিরত থাকলেও যুক্তরাষ্ট্র সরাসরি এর বিরুদ্ধে ভোট দিয়েছিল। রিফর্ম ইউকে কেবল ভিসা বন্ধ নয়, বরং ক্ষতিপূরণ দাবি করা দেশগুলোর জন্য আন্তর্জাতিক আর্থিক সহায়তা বন্ধের প্রস্তাবও দিয়েছে। দলটির মতে, বর্তমান ব্রিটিশ করদাতাদের পূর্বপুরুষদের ভুলের জন্য দায়ী করা অন্যায্য।

শেয়ার
মতামত দিন...

Exit mobile version