বুধবার, ২২শে এপ্রিল, ২০২৬   |   ৯ই বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

পর্তুগালের সড়কে ক্রমবর্ধমান মৃত্যুমিছিল ও দুর্ঘটনার লাগাম টানতে এক ঐতিহাসিক সিদ্ধান্ত নিয়েছে দেশটির স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। দীর্ঘ ২০ বছর আগে বিলুপ্ত হওয়া জিএনআর এর বিশেষায়িত ইউনিট ‘ব্রিগাদা দি ত্রানজিতো’ বা ট্রাফিক ব্রিগেড পুনরায় চালু করার ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। মূলত এবারের ইস্টার ছুটিতে সড়ক দুর্ঘটনায় ২০ জনের করুণ মৃত্যুর পর রেকর্ড সংখ্যক প্রাণহানি ঠেকাতে সরকার এই আমূল পরিবর্তনের পথে হাঁটছে। ইউরোপের মধ্যে শহর এলাকায় সড়ক দুর্ঘটনায় মৃত্যুর হারে পর্তুগাল বর্তমানে শীর্ষে অবস্থান করছে, যা প্রশাসনের জন্য এক চরম উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

দ্য রেসিডেন্ট এর তথ্যমতে, পর্তুগালে সড়ক দুর্ঘটনায় জড়িত প্রতি ৩ জন চালকের মধ্যে ২ জনই নির্ধারিত সীমার চেয়ে বেশি অ্যালকোহল পান করে গাড়ি চালান বলে প্রমাণিত হয়েছে। এই মদ্যপ অবস্থায় গাড়ি চালানো এবং বেপরোয়া গতি বন্ধ করতে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী লুইস নেভেস এক নতুন রণকৌশল ঘোষণা করেছেন। এই পরিকল্পনার আওতায় বিশেষ ট্রাফিক ব্রিগেড সরাসরি মহাসড়ক ও গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টগুলোতে কঠোর তদারকি করবে। এছাড়া চলতি বছরের শেষ নাগাদ একটি আধুনিক ও যুগোপযোগী ‘হাইওয়ে কোড’ বা ট্রাফিক আইন অনুমোদনের প্রস্তুতি চলছে। একইসাথে মহাসড়কগুলোতে স্পিড রাডারের সংখ্যা বাড়ানো এবং ট্রাফিক অপরাধের বিচার প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ ‘ডিজিটালাইজড’ করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে যাতে জরিমানা ও শাস্তি দ্রুত কার্যকর করা যায়।

পর্তুগাল সরকারের এই ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি মূলত বারবার আইন ভঙ্গকারী বা অভ্যাসগত অপরাধীদের কঠোর শাস্তির আওতায় আনতে কার্যকর ভূমিকা রাখবে। অতীতে বিভিন্ন উৎসবের সময় বড় দুর্ঘটনা ঘটলেও এবারই প্রথম সরকারকে এত দ্রুত এবং সুদূরপ্রসারী ব্যবস্থা নিতে দেখা যাচ্ছে। সরকারের এই বিশেষ পদক্ষেপের মূল লক্ষ্য হলো চালকদের মানসিকতা ও ড্রাইভিং সংস্কৃতিতে পরিবর্তন আনা, যাতে পর্তুগালের সড়কগুলো সাধারণ মানুষের জন্য আরও নিরাপদ হয়ে ওঠে। ২০ বছর পর এই বিশেষায়িত ইউনিটের প্রত্যাবর্তন পর্তুগালের সড়ক নিরাপত্তা ব্যবস্থায় এক নতুন মাইলফলক হিসেবে দেখা হচ্ছে।

তথ্যসূত্র: দ্য রেসিডেন্ট 

শেয়ার
মতামত দিন...

Exit mobile version