গত এক দশকে পর্তুগালে সর্বশেষ পাওয়া বেতনের তুলনায় বেকারভাতার হার কমেছে। ২০১৫ সালে যেখানে শেষ পাওয়া বেতনের গড়ে ৭০ শতাংশ বেকারভাতা হিসেবে পাওয়া যেত, ২০২৫ সালে তা কমে ৬৪ শতাংশে দাঁড়িয়েছে। বিভিন্ন অতিরিক্ত ভাতা হিসাব করলে হারটি ৬৬ শতাংশ।
পর্তুগাল কেন্দ্রীয় ব্যাংকের এক বিশ্লেষণে এ তথ্য উঠে এসেছে। সামাজিক নিরাপত্তা ব্যবস্থার ক্ষুদ্রাতিক্ষুদ্র তথ্যের (মাইক্রোডেটা) ভিত্তিতে তৈরি প্রতিবেদনটি আসন্ন অর্থনৈতিক বুলেটিনে প্রকাশ করা হবে।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বেকারভাতার সীমা নির্ধারণে ব্যবহৃত সামাজিক সহায়তা সূচক (আইএএস) অনুযায়ী ভাতার সীমা সমন্বয়ের চেয়ে বেতন দ্রুত বাড়ায় গত এক দশকে বেকারভাতার কার্যকর হার কমেছে।
তবে মোট অর্থের হিসাবে বেকারভাতার গড় পরিমাণ বেড়েছে। মূল্যস্ফীতি বিবেচনায় না নিয়ে হিসাব করলে বছরে গড়ে ৩ দশমিক ৪ শতাংশ এবং মূল্যস্ফীতি সমন্বয়ের পর ১ দশমিক ৩ শতাংশ হারে এই ভাতা বেড়েছে। ২০২৫ সালে গড়ে একজন বেকার ব্যক্তি মাসে ৭০০ ইউরো ভাতা পেয়েছেন।
বেকারভাতা পাওয়া ব্যক্তিদের চিত্রেও পরিবর্তন
প্রতিবেদনে গত এক দশকে বেকারভাতা পাওয়া ব্যক্তিদের ধরন এবং শ্রমবাজারে পরিবর্তনের বিষয়টিও তুলে ধরা হয়েছে।
২০২৫ সালে নতুন বেকারভাতা গ্রহীতাদের প্রায় ৪০ শতাংশের সর্বশেষ মাসিক বেতন ছিল ৮৮০ ইউরো বা তার কম। ওই বছর পর্তুগালের জাতীয় ন্যূনতম মজুরি ছিল ৮৭০ ইউরো।
খাতভিত্তিক হিসাবে সবচেয়ে বেশি বেকারভাতা পেয়েছেন উৎপাদনশিল্প ও প্রশাসনিক কার্যক্রমের কর্মীরা। উভয় খাতের অংশ ছিল প্রায় ১৭ শতাংশ করে। এরপর রয়েছে বাণিজ্য খাত, যেখানে এই হার ১৪ দশমিক ২ শতাংশ।
২০১৫ সালের তুলনায় আবাসন ও খাদ্য পরিষেবা খাতে বেকারভাতা পাওয়া মানুষের সংখ্যা বেড়েছে। বিপরীতে নির্মাণ ও সরকারি প্রশাসন খাতে এই সংখ্যা কমেছে।
বয়সের দিক থেকেও পরিবর্তন দেখা গেছে। ৫০ বছর বা তার বেশি বয়সী বেকারভাতা গ্রহীতাদের অংশ ২০১৫ সালের ২১ শতাংশ থেকে বেড়ে ২০২৫ সালে ২৬ শতাংশ হয়েছে। একই সময়ে নারীদের অংশ ৫১ দশমিক ৬ শতাংশ থেকে বেড়ে ৫৩ দশমিক ৪ শতাংশ হয়েছে।
নতুন বেকারভাতা গ্রহীতাদের মধ্যে বিদেশি নাগরিকদের অংশও উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। ২০১৫ সালে এই হার ছিল মাত্র ২ দশমিক ২ শতাংশ। ২০২৫ সালে তা বেড়ে ২৬ দশমিক ৬ শতাংশে দাঁড়িয়েছে।
প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, ২০২৪ সালে বেকারভাতা পাওয়া বন্ধ করা ব্যক্তিদের ৬০ শতাংশ এক মাসের মধ্যেই আবার কাজে ফিরেছেন।
তবে কাজে ফেরার ক্ষেত্রে অনেকেরই আগের তুলনায় কম বেতনের চাকরি নিতে হয়েছে অথবা খাত পরিবর্তন করতে হয়েছে।
