সোমবার, ২০ই এপ্রিল, ২০২৬   |   ৭ই বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

পর্তুগালের কর্মপরিবেশ কর্তৃপক্ষ এর সাম্প্রতিক তথ্যানুযায়ী, ২০২৫ সালে কর্মক্ষেত্রে হয়রানি সংক্রান্ত পরিদর্শনের জন্য মোট ৩,৪৮১টি অনুরোধ জমা পড়েছে। এর মধ্যে ৩,৪২২টি সাধারণ হয়রানি এবং ৫৯টি যৌন হয়রানির অভিযোগ। তবে অবাক করার মতো বিষয় হলো, এত বিপুল সংখ্যক অভিযোগের বিপরীতে মাত্র ২০টি প্রশাসনিক অপরাধ বা জরিমানা নিশ্চিত করা সম্ভব হয়েছে।

কর্মপরিবেশ কর্তৃপক্ষ-এর মতে, বাস্তবে হয়রানির ঘটনা যা ঘটে, অভিযোগের সংখ্যা তার চেয়ে অনেক কম হতে পারে। অনেক ক্ষেত্রে অভিযোগ পাওয়ার পরও তদন্ত প্রক্রিয়া শুরু করা যায় না কারণ হয়রানিকে অনেক সময় ভুলবশত মানসিক চাপ, শ্রম বিরোধ বা ব্যবস্থাপকীয় ক্ষমতার অপব্যবহারের মতো বিষয়ের সাথে মিলিয়ে ফেলা হয়। সংস্থাটি স্পষ্ট করেছে যে, শ্রম আইন অনুযায়ী হয়রানি বলতে এমন অবাঞ্ছিত আচরণকে বোঝায় যা ব্যক্তির মর্যাদা ক্ষুণ্ণ করে বা একটি ভীতিপ্রদ ও অবমাননাকর পরিবেশ তৈরি করে। যৌন হয়রানির ক্ষেত্রেও একই ধরনের শারীরিক বা মৌখিক আচরণকে দায়ী করা হয়।

এদিকে, কর্ম ও কর্মসংস্থানে সমতা কমিশন (CITE) হয়রানি মোকাবিলায় কাজ করলেও তাদের সীমাবদ্ধতা রয়েছে। তারা কেবল লিঙ্গভিত্তিক বৈষম্য বা অভিভাবকত্বের অধিকার লঙ্ঘনের মতো বিষয়গুলোতে হস্তক্ষেপ করতে পারে। এছাড়া তাদের কোনো পরিদর্শন ক্ষমতা না থাকায় অভিযোগকারীর সরাসরি অনুমোদন ছাড়া কোনো ব্যবস্থা নেওয়া সম্ভব হয় না।

সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের মতে, হয়রানির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার ক্ষেত্রে সবচেয়ে বড় বাধা হলো ‘ভয় থেকে সৃষ্ট নীরবতা’। অনেক ভুক্তভোগী সামাজিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার বা কাজ হারানোর ভয়ে শেষ পর্যন্ত অভিযোগ নিয়ে এগোতে চান না। এই নীরবতা অপরাধীর শাস্তিহীনতার মনোভাবকে আরও উসকে দেয়। বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, এই অশুভ প্রথা ভাঙতে অভিযোগ প্রক্রিয়ায় আরও গতি আনা এবং ভুক্তভোগীদের পূর্ণ নিরাপত্তা নিশ্চিত করা জরুরি।

শেয়ার
মতামত দিন...

Exit mobile version