শুক্রবার, ২৭ই মার্চ, ২০২৬   |   ১৪ই চৈত্র, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

ইউরোপের অন্যতম নিরাপদ দেশ, অফুরন্ত সূর্যালোক আর চমৎকার সমুদ্রসৈকত— সব থেকেও পর্তুগিজরা খুব একটা সুখী নেই। ২০২৬ সালের ‘ওয়ার্ল্ড হ্যাপিনেস রিপোর্ট’ বা বিশ্ব সুখ প্রতিবেদনে পর্তুগালের অবস্থান বড় ধরনের অবনতির দিকেই ইঙ্গিত দিচ্ছে। গত দুই বছরের ব্যবধানে দেশটি এই তালিকায় কয়েক ধাপ নিচে নেমে ৬৬তম অবস্থানে পৌঁছেছে, যা দেশটির নাগরিকদের জীবনযাত্রার সন্তুষ্টি নিয়ে বড় প্রশ্ন তুলেছে। এমনকি বর্তমানে কলম্বিয়ার মতো রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিকভাবে সংকটাপন্ন দেশের চেয়েও সুখের সূচকে পিছিয়ে পড়েছে পর্তুগাল।

২০২৬ সালের প্রতিবেদন বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, পর্তুগাল এই তালিকায় ক্রমাগত নিচে নামছে। ২০২৪ সালে দেশটি ৫৫তম অবস্থানে থাকলেও গত বছর তা ৬০তম স্থানে নেমে আসে এবং সর্বশেষ প্রতিবেদনে তা ৬৬তম অবস্থানে গিয়ে ঠেকেছে। পর্তুগিজ নাগরিকদের মধ্যে দুর্নীতির ব্যাপক নেতিবাচক ধারণা এবং ‘পারস্পরিক উদারতা’ বা পরোপকারের অভাব— এই দুটি বিষয়ই দেশটিকে পেছনের দিকে ঠেলে দিয়েছে। দুর্নীতির নেতিবাচক উপলব্ধির ক্ষেত্রে পর্তুগাল বৈশ্বিক তালিকায় ১২৪তম এবং উদারতার ক্ষেত্রে ১০৮তম স্থানে রয়েছে, যা দেশটির সামাজিক ও রাজনৈতিক কাঠামোর দুর্বলতাকে ফুটিয়ে তুলছে।

তবে সব সূচকেই যে পর্তুগাল পিছিয়ে আছে তা নয়; সুস্থ জীবনের প্রত্যাশার ক্ষেত্রে দেশটি বিশ্বে ২২তম এবং ব্যক্তিগত স্বাধীনতার ক্ষেত্রে ২৭তম স্থানে রয়েছে, যা নাগরিকদের জন্য কিছুটা স্বস্তির খবর। উল্লেখ্য, ২০২৬ সালের এই তালিকায় টানা নবমবারের মতো শীর্ষ সুখী দেশ হিসেবে নাম লিখিয়েছে ফিনল্যান্ড। এরপরই রয়েছে আইসল্যান্ড, ডেনমার্ক ও কোস্টারিকা। বিশ্বের ১৪০টি দেশের নাগরিকদের জীবন মূল্যায়ন, মাথাপিছু আয়, গড় আয়ু এবং সামাজিক নিরাপত্তার মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো বিবেচনা করে এই সূচক তৈরি করা হয়। পর্তুগালের এই ধারাবাহিক পতন দেশটির সরকারের জন্য একটি বড় সতর্কবার্তা হিসেবে দেখছেন বিশ্লেষকরা।

শেয়ার
মতামত দিন...

Exit mobile version