রবিবার, ২৭ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬   |   ১২ই আশ্বিন, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ইউক্রেন যুদ্ধ শেষ হওয়ার অপেক্ষা না করেই সামরিক জোট ন্যাটোর শক্তি পরীক্ষা করতে পারে রাশিয়া। ডেনমার্কের সামরিক গোয়েন্দা সংস্থা সতর্ক করে বলেছে, আগামী কয়েক মাসের মধ্যেই সীমান্তবর্তী কোনো ন্যাটো দেশে একটি সীমিত আক্রমণ চালাতে পারে মস্কো। এমনকি জোটের সদস্যদের প্রতিক্রিয়াকে দ্বিধাবিভক্ত করতে এই হামলাকে কৌশলে ইউক্রেনীয় হামলা হিসেবেও চালিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করতে পারে ক্রেমলিন।


গত বৃহস্পতিবার প্রকাশিত এক মূল্যায়নে ‘ডেনিশ ডিফেন্স ইন্টেলিজেন্স সার্ভিস’ এই ঝুঁকিকে ‘কম হলেও ক্রমবিকাশমান’ হিসেবে বর্ণনা করেছে। প্রতিবেদনে বলা হয়, রাশিয়ার সঙ্গে সীমান্ত রয়েছে এমন দেশগুলোই সম্ভাব্য হামলার মূল লক্ষ্যবস্তু হতে পারে। তবে মস্কো ন্যাটো ভূখণ্ডে বড় কোনো পূর্ণাঙ্গ সামরিক আগ্রাসনের প্রস্তুতি নিচ্ছে এমন কোনো লক্ষণ নেই এবং তা ঘটার সম্ভাবনাও অত্যন্ত কম। মূল উদ্বেগ হলো, কোনো উসকানি বা ছোটখাটো সামরিক অভিযানে মিত্র দেশগুলো যদি ঐক্যবদ্ধ সামরিক প্রতিক্রিয়ায় পৌঁছাতে ব্যর্থ হবে বলে রাশিয়া মনে করে, তবে তারা এমন ঝুঁকি নিতে পারে।


গোয়েন্দা সংস্থাটির এই নতুন সতর্কবার্তা তাদের ২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারির আগের মূল্যায়নের চেয়েও অনেক বেশি গুরুতর। আগের প্রতিবেদনে বলা হয়েছিল, ইউক্রেন যুদ্ধ শেষ বা স্থগিত হওয়ার পরেই কেবল রাশিয়া নতুন যুদ্ধের প্রস্তুতি নিতে পারবে। তবে সংস্থাটি এখন মনে করছে যে একটি বৃহত্তর যুদ্ধের প্রস্তুতি নেওয়ার আগেই মস্কো খুব দ্রুত এমন কোনো সীমিত হামলার ঝুঁকি নিতে পারে।


এই হামলাকে বিভ্রান্তিকর করতে রাশিয়া দূরপাল্লার কোনো অস্ত্র দিয়ে ইউক্রেনের সহায়ক কোনো অবকাঠামোতে আঘাত হেনে দাবি করতে পারে যে ইউক্রেনীয় জ্যামিংয়ের কারণে ক্ষেপণাস্ত্রটি পথভ্রষ্ট হয়ে ন্যাটো ভূখণ্ডে পড়েছে। অথবা তারা ইউক্রেনের তৈরি কোনো ড্রোন ব্যবহার করতে পারে কিংবা জাতীয় পরিচয়চিহ্ন ছাড়া স্বল্পসংখ্যক বিশেষ সেনা প্রতিবেশী কোনো দেশে পাঠিয়ে দিতে পারে।
সংস্থাটি বলেছে, ‘এমন একটি সীমিত সামরিক হামলা মূলত রাশিয়ার পক্ষ থেকে একটি মরিয়া পদক্ষেপ হবে।’ তবে ইউক্রেন থেকে ইউরোপের মনোযোগ ও সামরিক সম্পদ অন্যদিকে ঘুরিয়ে দিতে এবং ন্যাটোর ভেতরে অনৈক্য তৈরি করতে মস্কো এই ঝুঁকি নিতে পারে।


প্রতিবেদনের প্রতিক্রিয়ায় ন্যাটোর মহাসচিব মার্ক রুটে সতর্ক করে বলেছেন, ‘তাদের এটা না করাই ভালো হবে, কারণ তারা জানে আমরা প্রস্তুত এবং তারা এতে জয়ী হতে পারবে না।’ চেক প্রজাতন্ত্রের গোয়েন্দা প্রধান মিশাল কুদেলকা দ্য গার্ডিয়ানকে জানিয়েছেন, কয়েক বছরের নয়, বরং ‘কয়েক মাসের মধ্যেই’ এমন ছোটখাটো অনুপ্রবেশ বা উসকানি ঘটতে পারে। তবে লাটভিয়ার নিরাপত্তা প্রধান জানিয়েছেন যে তিনি এমন কোনো আসন্ন হামলার স্পষ্ট লক্ষণ দেখছেন না।


ডেনমার্কের সামরিক গোয়েন্দা সংস্থা আরও সতর্ক করেছে যে, আগামী মাসগুলোতে ন্যাটো দেশগুলোর বিরুদ্ধে নাশকতামূলক তৎপরতা ও ধ্বংসাত্মক সাইবার হামলা আরও তীব্র করতে পারে মস্কো। ডেনমার্কের অভ্যন্তরীণ গোয়েন্দা সংস্থা (পিইটি) জানিয়েছে, তারা ডেনমার্কে ইউক্রেনকে সামরিক সহায়তাকারী ব্যবসা প্রতিষ্ঠানগুলোর বিরুদ্ধে সম্ভাব্য রুশ নাশকতার প্রস্তুতি দেখতে পেয়েছে, যা বিদ্যুৎ ও জ্বালানির মতো জরুরি জাতীয় পরিষেবাগুলোকেও ঝুঁকির মুখে ফেলতে পারে।


ন্যাটো মহাসচিব মার্ক রুটে জোর দিয়ে বলেন, এই ধরনের হামলার মুখে ন্যাটোর উচিত কোনো প্ররোচনায় বিভ্রান্ত না হয়ে কিয়েভের প্রতি তাদের সামরিক সহায়তা আরও বৃদ্ধি করা।


ডেনিশ গোয়েন্দা সংস্থার এই মূল্যায়নের আগে স্প্যানিশ সংবাদপত্র ‘এল মুন্দো’ দাবি করেছিল যে, সমুদ্র থেকে ড্রোন উৎক্ষেপণ করে স্পেন, ফ্রান্স বা ইতালিতে সম্ভাব্য রুশ হামলার বিষয়ে ইউরোপীয় দেশগুলোকে সতর্ক করেছে মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থা সিআইএ। তবে ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁ এবং ইতালির প্রতিরক্ষামন্ত্রী গুইদো ক্রসেত্তো এই ধরনের সুনির্দিষ্ট সতর্কবার্তা পাওয়ার দাবি অস্বীকার করেছেন।


অন্যদিকে পোল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী ডোনাল্ড টাস্ক জানিয়েছেন, আগামী মাসগুলোর সম্ভাব্য পরিস্থিতি নিয়ে তিনি সিআইএ-র একটি মূল্যায়ন প্রতিবেদন পেয়েছেন। আর বার্তা সংস্থা রয়টার্স জানিয়েছে, সিআইএ পরিচালক জন র‍্যাটক্লিফ গত আগস্টে মস্কো সফরের সময় ন্যাটোভুক্ত কোনো দেশে সম্ভাব্য রুশ অপারেশনের বিষয়টি নিয়ে কথা তুলেছিলেন।

শেয়ার
মতামত দিন...

Exit mobile version