সোমবার, ৯ই মার্চ, ২০২৬   |   ২৫ই ফাল্গুন, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

ইউক্রেনজুড়ে শনিবার রাতভর ভয়াবহ ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে রাশিয়া। এই হামলায় দেশটির উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় শহর খারকিভে একটি পাঁচতলা আবাসিক ভবন ধসে অন্তত দুই শিশুসহ ১০ জন নিহত হয়েছেন। ইউক্রেনীয় কর্তৃপক্ষের দাবি, রাশিয়ার এই বড় ধরনের হামলার মূল লক্ষ্য ছিল দেশটির জ্বালানি ও পরিবহন অবকাঠামো।

ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি এক বিবৃতিতে জানিয়েছেন, গত রাতে রাশিয়া অন্তত ৪৮০টি ড্রোন এবং ২৯টি ব্যালিস্টিক ও ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করেছে। খারকিভের মেয়র ইহোর তেরেখভ বলেন, “শহরের একটি আবাসিক এলাকায় সরাসরি রুশ ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত হানলে এই প্রাণহানির ঘটনা ঘটে।”

আঘাতে ভবনটির ব্যাপক অংশ ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে। এতে আরও ১৫ জন আহত হয়েছেন বলে জানা গেছে। এছাড়াও হামলায় ১৯টি আবাসিক ভবন, বেশ কিছু বাণিজ্যিক ভবন এবং ব্যক্তিগত গাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

ইউক্রেন সরকারের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, এবারের হামলার প্রধান লক্ষ্য ছিল বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্র এবং রেল যোগাযোগ অবকাঠামো। রাজধানী কিয়েভসহ বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ শহরে জ্বালানি স্থাপনাগুলো ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় বিদ্যুৎ সরবরাহ ব্যাহত হচ্ছে। কিয়েভের উপ-প্রধানমন্ত্রী ইউলিয়া সভিরিডেনকো জানিয়েছেন, রাজধানীতে তিনটি প্রধান জ্বালানি কেন্দ্রে আঘাত হেনেছে রুশ বাহিনী, যেখানে আরও ৩ জন আহত হয়েছেন।

অন্যদিকে, রাশিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় থেকে জানানো হয়েছে যে, তারা পরিকল্পিতভাবে ইউক্রেনের সামরিক শিল্প এলাকা, সামরিক বিমানবন্দর এবং জ্বালানি স্থাপনাগুলো লক্ষ্য করেই এই হামলা চালিয়েছে। তাদের দাবি, সামরিক সক্ষমতা ধ্বংস করতেই এই অভিযান চালানো হয়েছে।

ইউক্রেন জুড়ে এখন উদ্ধারকাজ চলছে এবং ক্ষতিগ্রস্ত অবকাঠামো মেরামতের চেষ্টা করা হচ্ছে। তবে তুষারপাত ও প্রতিকূল আবহাওয়ার মধ্যে বিদ্যুৎহীন অবস্থায় লাখ লাখ মানুষের দুর্ভোগ আরও বাড়ার আশঙ্কা করা হচ্ছে।

শেয়ার
মতামত দিন...

Exit mobile version