নিজের জীবনাবসানের অধিকার নিয়ে বাবার সাথে দীর্ঘ ১৮ মাস আইনি লড়াই চালানোর পর অবশেষে গত বৃহস্পতিবার স্বেচ্ছামৃত্যু বরণ করেছেন ২৫ বছর বয়সী স্প্যানিশ তরুণী নোয়েলিয়া কাস্তিলো। স্পেনে ২০২১ সালে স্বেচ্ছামৃত্যু আইন কার্যকর হওয়ার পর এই প্রথম কোনো মামলা আদালতের রায়ের ওপর ভিত্তি করে নিষ্পন্ন হলো।
বার্সেলোনার বাসিন্দা নোয়েলিয়া ২০২২ সালে আত্মহত্যার চেষ্টা করে ব্যর্থ হন, যার ফলে তিনি প্যারাপ্লেজিক (শরীরের নিচের অংশ অবশ) হয়ে পড়েছিলেন। ২০২৪ সালের গ্রীষ্মে কাতালান সরকার তাকে চিকিৎস সহায়তায় মৃত্যুর অনুমতি দিলেও শেষ মুহূর্তে তার বাবা আইনি বাধা প্রদান করেন। রক্ষণশীল গোষ্ঠী ‘ক্রিশ্চিয়ান লয়ার্স’-এর সহায়তায় তিনি দাবি করেন যে, তার মেয়ে মানসিক ব্যাধিতে ভুগছেন, যা তার সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতাকে প্রভাবিত করছে।
নোয়েলিয়ার বাবা যুক্তি দিয়েছিলেন যে, মানসিকভাবে বিপর্যস্ত ও অসহায় নাগরিকদের জীবন রক্ষা করা রাষ্ট্রের দায়িত্ব। তবে নোয়েলিয়া স্প্যানিশ টেলিভিশনে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তার কঠিন শৈশব এবং যৌন নিপীড়নের শিকার হওয়ার যন্ত্রণাদায়ক অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরেন। তিনি বলেন, “আমার পরিবারের কেউ এই সিদ্ধান্তের পক্ষে নয়। তারা হয়তো আমার চলে যাওয়ায় কষ্ট পাবে, কিন্তু গত কয়েক বছর ধরে আমি যে সীমাহীন যন্ত্রণা ভোগ করছি তার কী হবে? আমি শুধু শান্তিতে চলে যেতে চাই।”
তিনি আরও যোগ করেন, “সন্তানের সুখের চেয়ে বাবা-মা বা বোনের সুখ বড় হতে পারে না।” তার মা ইউথানেশিয়ার বিপক্ষে থাকলেও মেয়ের সিদ্ধান্তকে সম্মান জানিয়েছিলেন।
নিম্ন আদালত থেকে শুরু করে দীর্ঘ আইনি লড়াই গড়ায় ইউরোপীয় মানবাধিকার আদালত পর্যন্ত। শেষ পর্যন্ত আদালত নোয়েলিয়ার পক্ষেই রায় দেয়। গত বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় ‘ক্রিশ্চিয়ান লয়ার্স’ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে নোয়েলিয়ার মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করে এবং স্পেনের ইউথানেশিয়া আইনের কঠোর সমালোচনা করে।
২০২১ সালে স্পেনে স্বেচ্ছামৃত্যু বৈধ করার পর থেকে এর আবেদনকারীর সংখ্যা বাড়ছে। সরকারি তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালে ৪২৬ জন ব্যক্তিকে চিকিৎস সহায়তায় মৃত্যুর অনুমতি দেওয়া হয়েছে। তবে নোয়েলিয়ার এই মামলাটি আইনি জটিলতা ও নৈতিক বিতর্কের কারণে পুরো ইউরোপে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছিল।
