বৃহস্পতিবার, ২০ই আগস্ট, ২০২৬   |   ৫ই ভাদ্র, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

সেউতা সীমান্তে আটকে থাকা ৫০০ জন অভিভাবকহীন অভিবাসী শিশুকে স্পেনের মূল ভূখণ্ডে নিয়ে যাওয়ার অনুমতি দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে দেশটির সরকার। পূর্বে নেওয়া কঠোর অবস্থান থেকে সরে এসে অবশেষে এই ‘ইউ-টার্ন’ বা অবস্থান পরিবর্তন করল স্প্যানিশ সরকার।

গত ৩০ জুলাই উত্তর আফ্রিকার উপকূলে অবস্থিত স্পেনের ভূখণ্ড সেউতায় প্রবেশ করা আনুমানিক ৭০,০০০ অভিবাসীর বেশিরভাগই ইতিমধ্যে মরক্কোয় ফেরত গেছে। তবে স্পেনের আইন অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়স না হওয়া পর্যন্ত অভিভাবকহীন অপ্রাপ্তবয়স্ক অভিবাসীদের দেখাশোনার দায়িত্ব রাষ্ট্রের ওপর বর্তায়।

এর আগে গত ১৩ আগস্ট স্পেনের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ফার্নান্দো গ্রান্দে-মারলাস্কা অত্যন্ত কঠোর ভাষায় বলেছিলেন, ‘যারা অবৈধভাবে সেউতা বা মেলিলায় প্রবেশ করবে, তারা নিশ্চিতভাবেই ফেরত যাবে। তারা কোনোভাবেই স্পেনের মূল ভূখণ্ড কিংবা ইউরোপ মহাদেশে পৌঁছাতে পারবে না এবং অনির্দিষ্টকালের জন্য সেউতা বা মেলিলায় অবস্থান করতে পারবে না।’

কিন্তু এই শিশুদের স্পেনের মূল ভূখণ্ডে স্থানান্তর করার বিষয়টি অত্যন্ত সংবেদনশীল একটি রাজনৈতিক ইস্যুতে পরিণত হয়েছে। কারণ দেশটির রক্ষণশীল ‘পিপলস পার্টি’ এবং উগ্র ডানপন্থী ‘বক্স’ (Vox) দলের যৌথ শাসনাধীন অঞ্চলের সরকারগুলো এই শিশুদের নিজেদের এলাকায় আশ্রয় দিতে অস্বীকৃতি জানাচ্ছে।

রাজনৈতিক দ্বন্দ্ব এড়াতে যুব মন্ত্রণালয় সেউতা সরকারের সঙ্গে সমন্বয় করে একটি জরুরি পরিকল্পনা তৈরি করছে। এই পরিকল্পনার অধীনে সরকারি অনুদানপ্রাপ্ত এনজিও এবং শিশু সুরক্ষা সংস্থাগুলো সরাসরি সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ শিশু এবং বিশেষ করে মেয়েদের দায়িত্ব নেবে, যাতে আঞ্চলিক সরকারগুলোর ওপর অভিভাবকত্বের আইনি দায় না চাপে।

সেউতার রাস্তায় শত শত শিশু চরম মানবেতর পরিবেশে বসবাস করছে এবং স্থানীয় বাসিন্দাদের দেওয়া সাহায্যের ওপর নির্ভর করে বেঁচে আছে। এই সংকট সমাধানের লক্ষ্যে স্পেনের শিশু বিষয়ক সেক্রেটারি অব স্টেট রুবেন পেরেজ কোরেয়া গত রবিবার থেকে সেউতাতেই অবস্থান করছেন।

তবে স্পেন সরকারের এই সিদ্ধান্ত এমন এক সময়ে সামনে এল, যার মাত্র কয়েক ঘণ্টা আগে ইউরোপীয় কমিশন জানিয়েছিল যে ইইউ-এর আইন অনুযায়ী শিশুদেরসহ সকল অবৈধ অভিবাসীকে মরক্কোয় ফেরত পাঠানো উচিত। ইউরোপীয় কমিশনের অভ্যন্তরীণ বিষয়ক মুখপাত্র মার্কাস ল্যামার্ট বলেন, আইন অনুযায়ী সেউতায় থাকা সব অনিয়মিত অভিবাসীকেই ফেরত পাঠানো উচিত, ‘যার মধ্যে অভিভাবকহীন অপ্রাপ্তবয়স্করাও অন্তর্ভুক্ত।’

রক্ষণশীল দল পিপলস পার্টি সরকারের এই নতুন স্থানান্তরের পরিকল্পনার তীব্র বিরোধিতা করেছে। দলটির উপ-অর্থ বিষয়ক মুখপাত্র হুয়ান ব্রাভো এক টেলিভিশন সাক্ষাৎকারে বলেন, ‘যদি মরক্কো এই শিশুদের ফেরত চেয়ে থাকে এবং ইউরোপ যদি বলে যে শিশু বা প্রাপ্তবয়স্ক সব অবৈধ অভিবাসীকে ফেরত পাঠানো উচিত, তবে সরকারের আর কিসের দ্বিধা?’

এই মিশ্র প্রতিক্রিয়া ও বিভ্রান্তির মূল কারণ হলো—অভিবাসন সংক্রান্ত নতুন ইউরোপীয় চুক্তিটি এখনও স্পেনের দেশীয় আইনে অন্তর্ভুক্ত করা হয়নি। ফলে অভিভাবকহীন অপ্রাপ্তবয়স্কদের অধিকার ও সুরক্ষায় স্পেনের নিজস্ব পুরোনো ও উদার আইনটিই এখনও কার্যকর রয়েছে।

স্পেনের অন্তর্ভুক্তি ও অভিবাসন মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, গত মার্চ পর্যন্ত দেশটিতে ১৬ থেকে ২৩ বছর বয়সী ২১,১০৪ জন অভিবাসী রাষ্ট্রের অভিভাবকত্বে ছিলেন, যাদের মধ্যে প্রায় ৩,৫০০ জনের বয়স ছিল ১৭ বছরের নিচে। এদের প্রায় অর্ধেকই মরক্কোর নাগরিক এবং মোট সংখ্যার মধ্যে মেয়ে শিশুর হার ছিল প্রায় ৮ শতাংশ।

শেয়ার
মতামত দিন...

Exit mobile version