শনিবার, ১১ই এপ্রিল, ২০২৬   |   ২৯ই চৈত্র, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

মধ্যপ্রাচ্যে আঞ্চলিক শান্তি প্রতিষ্ঠার লক্ষ্য নিয়ে ইরানের রাজধানী তেহরানে পুনরায় নিজেদের দূতাবাস চালু করার ঘোষণা দিয়েছে স্পেন। বৃহস্পতিবার স্পেনের পার্লামেন্টের নিম্নকক্ষে আইনপ্রণেতাদের সামনে এই গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তের কথা জানান পররাষ্ট্রমন্ত্রী হোসে ম্যানুয়েল আলবারেস। গত ২৮শে ফেব্রুয়ারি ইরানে মার্কিন সামরিক অভিযান শুরুর পর থেকে ইউরোপের দেশগুলোর মধ্যে স্পেনই ওয়াশিংটনের সবচেয়ে কঠোর সমালোচক হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে।

পররাষ্ট্রমন্ত্রী আলবারেস সাংবাদিকদের বলেন, “আমি আমাদের রাষ্ট্রদূতকে অবিলম্বে তেহরানে ফিরে গিয়ে দায়িত্ব গ্রহণের নির্দেশ দিয়েছি। ইরানের রাজধানী থেকেই আমরা সম্ভাব্য সব দিক দিয়ে শান্তি প্রতিষ্ঠার প্রচেষ্টায় অংশ নিতে চাই।” উল্লেখ্য, যুদ্ধের শুরু থেকেই স্পেন অত্যন্ত শক্ত অবস্থান নিয়েছিল এবং ইরানে হামলা চালানোর জন্য যুক্তরাষ্ট্রকে নিজেদের কোনো সামরিক ঘাঁটি ব্যবহার করতে দেয়নি। স্পেনের প্রধানমন্ত্রী পেদ্রো সানচেজ এই যুদ্ধকে ‘বেপরোয়া ও অবৈধ’ বলে আখ্যায়িত করে আগেই জানিয়েছিলেন যে, বিশ্বের জন্য ক্ষতিকর এমন কোনো কর্মকাণ্ডে স্পেন অংশীদার হবে না।

এদিকে, তেহরানে স্পেনের এই প্রত্যাবর্তনের তীব্র সমালোচনা করেছে ইসরাইল। দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী গিদেওন সা’আর অভিযোগ করেছেন যে, এই সিদ্ধান্ত ‘সন্ত্রাসী শাসনের’ সঙ্গে হাত মেলানোর শামিল। তবে স্পেন তাদের অবস্থানে অনড়। বুধবার লেবাননে ইসরাইলি বিমান হামলায় ২০০ জনেরও বেশি মানুষের মৃত্যুর ঘটনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে আলবারেস বলেন, ইসরাইল আন্তর্জাতিক আইনের পাশাপাশি সদ্য হওয়া দুই সপ্তাহের যুদ্ধবিরতিও লঙ্ঘন করেছে। তেহরানে দূতাবাস চালুর এই সিদ্ধান্তকে ইউরোপের কূটনীতিতে যুক্তরাষ্ট্রের প্রভাব বলয় থেকে বেরিয়ে স্পেনের একটি স্বতন্ত্র ও সাহসী পদক্ষেপ হিসেবে দেখছেন বিশ্লেষকরা।

শেয়ার
মতামত দিন...

Exit mobile version