শনিবার, ১১ই এপ্রিল, ২০২৬   |   ২৯ই চৈত্র, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

ইউরোপীয় ইউনিয়নের অত্যন্ত সংবেদনশীল তথ্য সরাসরি রাশিয়ার কাছে ফাঁস করার অভিযোগে হাঙ্গেরির বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নিয়েছে ইউরোপীয় কমিশন। কমিশনের প্রধান মুখপাত্র পলা পিনহো জানিয়েছেন, প্রেসিডেন্ট উরসুলা ফন ডার লিয়েন এই বিষয়টি ইইউ নেতাদের সর্বোচ্চ পর্যায়ে উত্থাপন করবেন এবং হাঙ্গেরির কাছ থেকে জরুরি ভিত্তিতে ব্যাখ্যা তলব করা হবে। রাশিয়ার সাথে হাঙ্গেরির এই গোপন সমন্বয়কে ইইউ এবং এর নাগরিকদের নিরাপত্তার বিরুদ্ধে একটি ‘সরাসরি আঘাত’ হিসেবে বর্ণনা করেছে কমিশন।

ইউরোপীয় সংবাদমাধ্যম ‘ভি-স্কয়ার’ সহ বেশ কয়েকটি আউটলেটের অনুসন্ধানে উঠে এসেছে যে, হাঙ্গেরির পররাষ্ট্রমন্ত্রী পিটার সিয়ার্তো নিয়মিতভাবে রাশিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী সের্গেই ল্যাভরভকে ইইউ-এর অভ্যন্তরীণ আলোচনার ‘লাইভ আপডেট’ দিতেন। ফাঁস হওয়া তথ্য অনুযায়ী, ২০২৩ সালের ১৪ই ডিসেম্বর ইউক্রেনের ইইউ সদস্যপদ সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকের বিরতিতেও সিয়ার্তো মস্কোয় ফোন করে হাঙ্গেরির ‘ব্ল্যাকমেইল কৌশল’ নিয়ে আলোচনা করেন। এছাড়া ল্যাভরভের অনুরোধে আলিশার উসমানভের মতো রুশ অলিগার্কদের নিষেধাজ্ঞার তালিকা থেকে বাদ দিতেও হাঙ্গেরি লবিং করেছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এমনকি ২০২৫ সালের শেষ দিকে ওলান পুতিন এবং ভিক্টর ওরবানের মধ্যকার ফোনালাপের তথ্যও এখন সামনে এসেছে।

এই ঘটনার প্রেক্ষিতে পোল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী ডোনাল্ড টাস্ক একে ‘অত্যন্ত স্তম্ভিত করার মতো’ বলে অভিহিত করেছেন এবং ফ্রান্সের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এটিকে ইইউ সংহতির প্রতি বড় ‘বিশ্বাসঘাতকতা’ হিসেবে বর্ণনা করেছেন। ইউরোপীয় পার্লামেন্টের সদস্যরা ইতিমধ্যে রাশিয়ার ঘনিষ্ঠ হাঙ্গেরীয় আইনপ্রণেতাদের সংবেদনশীল তথ্যে প্রবেশের সুযোগ সীমিত করার দাবি জানিয়েছেন। এদিকে আগামী ১২ই এপ্রিল হাঙ্গেরিতে সাধারণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে, যেখানে জনমত জরিপে বর্তমান প্রধানমন্ত্রী ভিক্টর ওরবানের দল ‘ফিদেজ’ বিরোধী দল ‘তিসা’ এর কাছে পরাজিত হতে পারে বলে আভাস পাওয়া যাচ্ছে। হাঙ্গেরি সরকার এই অভিযোগগুলোকে নির্বাচন বানচালের ষড়যন্ত্র হিসেবে দাবি করলেও ব্রাসেলসে উত্তেজনার পারদ এখন তুঙ্গে।

শেয়ার
মতামত দিন...

Exit mobile version