বুধবার, ২৫ই মার্চ, ২০২৬   |   ১২ই চৈত্র, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

২০২৬ সালের ১২ আগস্ট স্পেনের আকাশে দেখা যাবে এক শতাব্দী প্রতীক্ষিত বিরল পূর্ণ সূর্যগ্রহণ। এই মহাজাগতিক ঘটনাকে কেন্দ্র করে স্পেনের পর্যটন খাতে নজিরবিহীন সাড়া লক্ষ্য করা যাচ্ছে। আন্তর্জাতিক জ্যোতির্বিজ্ঞানীদের মতে, উত্তর-পশ্চিমের গ্যালিসিয়া থেকে শুরু করে ভূমধ্যসাগরের ব্যালিয়ারিক দ্বীপপুঞ্জ পর্যন্ত বিস্তৃত এক সরু পথে (ব্যান্ড অব টোটালিটি) এই পূর্ণ গ্রহণ দেখা যাবে।

ফলে স্পেনের উত্তর ও মধ্যাঞ্চল এখন বিশ্বজুড়ে ‘অ্যাস্ট্রো-ট্যুরিজম’ বা জ্যোতির্বিজ্ঞান পর্যটনের মূল কেন্দ্রে পরিণত হয়েছে। ইতিমধ্যেই বিভিন্ন আন্তর্জাতিক আবাসন সাইটে স্পেনের সংশ্লিষ্ট এলাকাগুলোতে হোটেল বুকিংয়ের হার ৮৩০ শতাংশেরও বেশি বৃদ্ধি পেয়েছে।

বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন, এই পূর্ণ সূর্যগ্রহণের সময় দিনের বেলাতেই কয়েক মিনিটের জন্য নেমে আসবে অন্ধকার এবং সূর্যের চারপাশে দেখা যাবে এক অপরূপ আলোকবলয় বা ‘রিং অব ফায়ার’। স্পেনের প্রধান শহরগুলোর মধ্যে গিজোন, ওভিয়েডো, লা করুনা এবং ভ্যালেন্সিয়া থেকে এই পূর্ণ দৃশ্য সরাসরি উপভোগ করা যাবে। তবে মাদ্রিদ ও বার্সেলোনা পূর্ণ গ্রহণের পথের ঠিক বাইরে পড়ায় সেখান থেকে প্রায় ৯৯ শতাংশ আংশিক গ্রহণ দেখা যাবে। বিরল এই দৃশ্য দেখার জন্য পর্যটকদের ভিড় সামলাতে হিমশিম খাচ্ছে স্থানীয় প্রশাসন ও হোটেল কর্তৃপক্ষ। অনেক গ্রামীণ এলাকায় আগামী আগস্টের জন্য এখনই অগ্রিম বুকিং প্রায় শেষ হয়ে গেছে।

জ্যোতির্বিজ্ঞানীদের মতে, সূর্যগ্রহণের সময় চাঁদ যখন সূর্যকে সম্পূর্ণ ঢেকে দেয়, তখন খালি চোখে সরাসরি তাকানো চোখের জন্য মারাত্মক ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে। এজন্য দর্শকদের বিশেষ ‘সোলার ফিল্টার’ বা সুরক্ষিত চশমা ব্যবহারের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। স্পেনের আবহাওয়া সাধারণত আগস্ট মাসে পরিষ্কার থাকে বলে বিশ্বজুড়ে বিজ্ঞানীরাও এই দেশটিকে পর্যবেক্ষণের জন্য সেরা জায়গা হিসেবে বেছে নিচ্ছেন। এই ঘটনার রেশ ধরে ২০২৭ এবং ২০২৮ সালেও স্পেনে আরও দুটি গ্রহণ দেখা যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে, যাকে বিশ্লেষকরা ‘আইবেরিয়ান ইক্লিপস ট্রিও’ বা স্পেনের গ্রহণের ত্রয়ী বলে অভিহিত করছেন।

পর্যটন সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, এই একটি ঘটনা স্পেনের স্থানীয় অর্থনীতিতে কোটি কোটি ইউরোর যোগান দেবে। বিশেষ করে যারা নির্জন ও গ্রামীণ এলাকায় গ্রহণ দেখার পরিকল্পনা করছেন, তাদের জন্য ‘স্টারলাইট ফাউন্ডেশন’-এর মতো সংস্থাগুলো বিশেষ প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করছে। আগামী দিনগুলোতে পর্যটকদের এই স্রোত আরও বাড়বে বলে ধারণা করা হচ্ছে। আপনি যদি ২০২৬-এর এই মহাজাগতিক মুহূর্তটি স্পেনে বসে সাক্ষী হতে চান, তবে এখনই পরিকল্পনা শুরু করা জরুরি বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

শেয়ার
মতামত দিন...

Exit mobile version