স্পেনে বিদ্যুৎ চুরির ঘটনা এখন আর কেবল সাধারণ অপরাধ নয়, বরং এটি এক ভয়াবহ জাতীয় সংকটে রূপ নিয়েছে। দেশটির অন্যতম প্রধান বিদ্যুৎ সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান ‘এনডেসা’ এক চাঞ্চল্যকর প্রতিবেদনে জানিয়েছে, গত পাঁচ বছরে দেশটিতে যে পরিমাণ বিদ্যুৎ চুরি হয়েছে, তা বার্সেলোনা ও সেভিলের মতো দুটি বড় শহরের এক বছরের মোট বিদ্যুৎ চাহিদার সমান। গত এক বছরেই দেশটিতে প্রায় ৭২ হাজার ৭০০টি বিদ্যুৎ জালিয়াতির ঘটনা শনাক্ত করা হয়েছে, যার গড় হিসেবে প্রতিদিন প্রায় ২০০টি করে চুরির ঘটনা ঘটছে। এই বিপুল অংকের অবৈধ বিদ্যুৎ ব্যবহারের ফলে দেশটির জ্বালানি খাতে বিশাল ঘাটতি তৈরি হচ্ছে।
তদন্ত প্রতিবেদনে আরও উঠে এসেছে যে, এই বিশাল বিদ্যুৎ চুরির নেপথ্যে সাধারণ মানুষের দারিদ্র্য নয়, বরং সক্রিয় রয়েছে সুসংগঠিত আন্তর্জাতিক অপরাধী চক্র। বিশেষ করে ঘরের ভেতরে কৃত্রিম পরিবেশে ‘ইনডোর গাঁজা চাষ’ এই চুরির অন্যতম প্রধান কারণ। পরিসংখ্যান বলছে, মোট বিদ্যুৎ চুরির প্রায় ২৬ শতাংশই ব্যয় হচ্ছে এই মাদক উৎপাদনে। প্রতিটি গাঁজা চাষ কেন্দ্র গড়ে প্রায় ৮০টি সাধারণ আবাসিক বাড়ির সমান বিদ্যুৎ গ্রাস করে থাকে। এর ফলে কাতালোনিয়া ও আন্দালুসিয়ার মতো ঘনবসতিপূর্ণ এলাকাগুলোর বিদ্যুৎ গ্রিডগুলো এখন মারাত্মক ঝুঁকির মুখে পড়েছে এবং নিয়মিত লোডশেডিং ও অগ্নিকাণ্ডের আশঙ্কা তৈরি হচ্ছে।
প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, চুরির অর্ধেকের বেশি বিদ্যুৎ ব্যবহার করছে বড় বড় শিল্প ইউনিট ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠান। বৈধ সংযোগ টেম্পারিং বা মিটারে কারচুপির মাধ্যমে ৪০ শতাংশ জালিয়াতি করা হচ্ছে, যেখানে সাধারণ গ্রাহকদের সংশ্লিষ্টতা মাত্র ৫ শতাংশ। আন্তর্জাতিক অপরাধী চক্রগুলো স্পেনের নমনীয় আইনের সুযোগ নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে এই লুটপাট চালিয়ে আসছিল। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে সম্প্রতি দেশটির দণ্ডবিধি সংশোধন করে বারবার অপরাধকারীদের জন্য কঠোর কারাদণ্ড ও অর্থদণ্ডের বিধান করা হয়েছে। বিদ্যুৎ চুরির এই ‘বিশাল গর্ত’ ভরাট করতে নতুন আইনের কঠোর প্রয়োগ এখন সময়ের দাবি।
তথ্যসূত্র: এসইউআর ইন ইংলিশ
