বৃহস্পতিবার, ৯ই জুলাই, ২০২৬   |   ২৫ই আষাঢ়, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ইরান যুদ্ধের জেরে ইউরোপীয় মিত্র দেশ স্পেনের সঙ্গে সব ধরনের বাণিজ্যিক সম্পর্ক সম্পূর্ণ বন্ধ করার ঘোষণা দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তুরস্কের রাজধানী আঙ্কারায় চলমান ন্যাটো শীর্ষ সম্মেলনের ফাঁকে তিনি এই বিস্ফোরক ঘোষণা দেন। আজ বুধবার কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা ও রয়টার্সের প্রতিবেদনে এই তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে।

ন্যাটো জোটের মহাসচিব মার্ক রুটের উপস্থিতিতে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে মার্কিন প্রেসিডেন্ট বলেন, তিনি ইতিমধ্যেই তাঁর অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্টকে স্পেনের সঙ্গে সব ধরনের বাণিজ্য ও লেনদেন অবিলম্বে বন্ধ করার নির্দেশ দিয়েছেন। স্পেনের ওপর ক্ষোভ প্রকাশ করে ট্রাম্প ন্যাটো জোটের মধ্যে স্পেনকে একটি ‘ভয়ানক অংশীদার’  হিসেবে অভিহিত করেন এবং বলেন, স্পেনের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের আর কোনো ব্যবসা করার প্রয়োজন নেই।

মূলত গত মার্চ মাসে ইরানের বিরুদ্ধে মার্কিন সামরিক অভিযানের সময় যুক্তরাষ্ট্রকে নিজেদের ভূখণ্ডে থাকা যৌথ সামরিক ঘাঁটি (যেমন রোটা ও মোরন বিমান ঘাঁটি) ব্যবহার করার অনুমতি দেয়নি স্পেনের বামপন্থী সরকার। এমনকি মার্কিন যুদ্ধবিমানের জ্বালানি সরবরাহকারী ও অন্যান্য বিমানের জন্য নিজেদের আকাশসীমা ব্যবহারও সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করেছিল দেশটি। স্পেনের প্রধানমন্ত্রী পেদ্রো সানচেজের সরকারের এই সিদ্ধান্তকে ‘বেআইনি ও দায়িত্বজ্ঞানহীন’ আখ্যা দিয়ে সে সময়ই ক্ষুব্ধ হয়েছিল ওয়াশিংটন। সেই ঘটনার জের এবং স্পেনের জিডিপির ৫ শতাংশ প্রতিরক্ষা খাতে খরচ না করার অনীহাকে কেন্দ্র করেই ট্রাম্প আজ এই কঠোর অর্থনৈতিক পদক্ষেপের ঘোষণা দিলেন।

শীর্ষ সম্মেলনে ইরানের সঙ্গে চলমান যুদ্ধ ও পূর্ববর্তী যুদ্ধবিরতির সমঝোতা চুক্তি নিয়েও কথা বলেন ট্রাম্প। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র সম্প্রতি ইরানের ওপর নতুন করে সামরিক হামলা চালানোর পর ট্রাম্প সাফ জানিয়ে দেন, ‘আমার ধারণা, ইরানের সঙ্গে করা সমঝোতা স্মারকটি (MoU) এখন পুরোপুরি শেষ হয়ে গেছে।’ তেহরানের নেতৃত্বের কড়া সমালোচনা করে তিনি বলেন, তাদের সঙ্গে আলোচনা করা এখন স্রেফ সময়ের অপচয়।

এদিকে মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, তাদের সর্বশেষ দফার প্রতিশোধমূলক হামলায় ইরানের সুনির্দিষ্ট ৮০টি সামরিক স্থাপনায় সফল আঘাত হানা হয়েছে। এই বিমান হামলায় মূলত ইরানের বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা, কমান্ড অ্যান্ড কন্ট্রোল নেটওয়ার্ক, উপকূলীয় রাডার স্টেশন এবং জাহাজ-বিধ্বংসী ক্ষেপণাস্ত্র সক্ষমতাকে পুরোপুরি ধ্বংসের নিশানা করা হয়েছে।

সেন্টকম আরও জানায়, আন্তর্জাতিক নৌ-বাণিজ্য করিডোরে বাণিজ্যিক জাহাজের ওপর হামলা চালানোর ক্ষেত্রে ইরানের সক্ষমতা গুঁড়িয়ে দিতে হরমুজ প্রণালির ভেতরে ও আশপাশে অবস্থানরত ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোরের (আইআরজিসি) ৬০টিরও বেশি ছোট নৌকায় হামলা চালানো হয়েছে। গত মঙ্গলবার হরমুজ প্রণালি অতিক্রমকারী তিনটি বাণিজ্যিক জাহাজের ওপর ইরানের ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলার জবাবেই যুক্তরাষ্ট্রের এই পাল্টা মেগা অ্যাকশন। তবে এই হামলার বিষয়ে ইরান এখনো আনুষ্ঠানিক কোনো মন্তব্য না করলেও দেশটির রাষ্ট্রায়ত্ত সংবাদমাধ্যম প্রেস টিভি জানিয়েছে, দেশের কেশম ও খার্গ দ্বীপে আজ বেশ কয়েকটি শক্তিশালী বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে।

তথ্যসূত্র: ঢাকা পোস্ট 

শেয়ার
মতামত দিন...

Exit mobile version