শনিবার, ৭ই মার্চ, ২০২৬   |   ২৩শে ফাল্গুন, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

ইরানের বিরুদ্ধে মার্কিন সামরিক অভিযান ‘অপারেশন ফিউরি এপিক’ নিয়ে স্পেনের দ্বিমুখী অবস্থান এখন বিশ্বজুড়ে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু। একদিকে স্পেনের প্রধানমন্ত্রী পেদ্রো সানচেজ প্রকাশ্যে ‘যুদ্ধের বিরুদ্ধে’ হুঙ্কার দিচ্ছেন, অন্যদিকে তার দেশেরই সামরিক ঘাঁটি ব্যবহার করে ইরানে হামলার রসদ জোগাচ্ছে মার্কিন বিমানবাহিনী। স্প্যানিশ সংবাদমাধ্যম ‘এল মুন্ডো’-র এক চাঞ্চল্যকর প্রতিবেদনে এই তথ্য উঠে এসেছে।

গত ৪ মার্চ প্রধানমন্ত্রী সানচেজ দৃঢ় কণ্ঠে বলেছিলেন “যুদ্ধের বিরুদ্ধে স্পেন। আমরা আন্তর্জাতিক আইনের পরিপন্থী কোনো সংঘাত বা বোমা হামলা সমর্থন করি না।” কিন্তু এই ঘোষণার রেশ কাটতে না কাটতেই দেখা যাচ্ছে, স্পেনের দক্ষিণ উপকূলে অবস্থিত রোহতা এবং মরন সামরিক ঘাঁটিগুলো এখন মার্কিন বাহিনীর প্রধান ট্রাম্পলিন বা ‘লজিস্টিক হাব’ হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত ২৭ ফেব্রুয়ারি থেকে স্পেনের এই দুটি ঘাঁটি থেকে অন্তত ২৪টি মার্কিন সামরিক বিমান উড্ডয়ন করেছে। এসব বিমানের মধ্যে রয়েছে বিশালাকার কার্গো বিমান, আকাশে তেল ভরার ‘রিফুয়েলার’ এবং শত্রুদেশের রাডার জ্যাম করতে সক্ষম অত্যাধুনিক ইলেকট্রনিক যুদ্ধবিমান। যদিও সরাসরি ইরান না গিয়ে এসব বিমান জার্মানি ও ইতালিতে যাত্রাবিরতি করছে, তবে চূড়ান্ত গন্তব্য যে মধ্যপ্রাচ্য তা এখন ওপেন সিক্রেট।

কেন স্পেন আমেরিকাকে আটকাতে পারছে না? এর মূলে রয়েছে ১৯৮৮ সালের একটি বিতর্কিত প্রতিরক্ষা চুক্তি। এই চুক্তির দোহাই দিয়ে আমেরিকা দাবি করে আসছে যে, তাদের প্রয়োজনে স্পেনের ঘাঁটি ব্যবহারের পূর্ণ অধিকার তাদের আছে। এমনকি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের সেই দম্ভোক্তি “আমরা চাইলেই ওদের ঘাঁটি ব্যবহার করতে পারি, কেউ বাধা দেবে না”।এখন স্পেনের সার্বভৌমত্বের ওপর বড় প্রশ্নচিহ্ন হয়ে দাঁড়িয়েছে।

এই পরিস্থিতির প্রেক্ষাপটেই স্পেনের কট্টর বামপন্থী নেত্রী ও সাবেক মন্ত্রী আইরিন মান্তেরো সোশ্যাল মিডিয়ায় সরব হয়েছেন। তিনি সাফ জানিয়েছেন, মার্কিন বোমা কখনো কোনো নারীর মুক্তি আনতে পারে না; বরং সাম্রাজ্যবাদী স্বার্থ রক্ষায় নারীর অধিকারকে অজুহাত হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে।

শেয়ার
মতামত দিন...

Exit mobile version