মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) ওপর নতুন করে শুল্ক আরোপের হুমকি দিয়েছেন। কানাডাকে জোটটির প্রথম ‘সহযোগী সদস্য’ করার প্রস্তাব দেওয়ার পরিপ্রেক্ষিতে তিনি এ হুমকি দেন। ট্রাম্প ইঙ্গিত দিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি বৈরী পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচিত হলে এর জবাবে ইইউর ওপর আরও শুল্ক আরোপ করা হতে পারে।
বুধবার নর্থ ক্যারোলাইনার শার্লট শহরে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার সময় ট্রাম্প বলেন, ইউরোপীয় নেতারা আসলে কী অর্জন করতে চাইছেন, তার ওপর তার প্রতিক্রিয়া নির্ভর করবে।
ট্রাম্প বলেন, ‘এর পেছনে যদি ভালো উদ্দেশ্য থাকে, তাহলে ঠিক আছে। কিন্তু উদ্দেশ্য খারাপ হলে আমরা আরও বেশি শুল্ক আরোপ করব।’
তিনি আরও ইঙ্গিত দেন, যুক্তরাষ্ট্র ইউরোপের সঙ্গে ‘অনেক বিষয়ে’ বাণিজ্য বন্ধ করে দিতে পারে।
ইউরোপীয় ইউনিয়নে কানাডার যোগ দেওয়ার সম্ভাবনাকে ‘হাস্যকর’ বলে উড়িয়ে দেন ট্রাম্প। একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের উত্তরের প্রতিবেশী কানাডাকে ‘ভয়াবহ বাণিজ্যিক অংশীদার’ বলে অভিহিত করেন তিনি।
ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ফন ডার লায়েন কানাডাকে ইইউর প্রথম ‘সহযোগী সদস্য’ করার সুযোগ দেওয়ার প্রস্তাব দেওয়ার কয়েক ঘণ্টা পরই ট্রাম্প এসব মন্তব্য করেন। ওয়াশিংটনের সঙ্গে অটোয়ার সম্পর্ক অবনতির মধ্যে কানাডা ইউরোপের সঙ্গে আরও ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক গড়ে তুলতে চাইছে।
তবে ‘সহযোগী সদস্যপদ’ ঠিক কী ধরনের হবে, তা এখনো স্পষ্ট নয়।
বর্তমানে ইউরোপীয় ইউনিয়নের কোনো চুক্তিতে এ ধরনের মর্যাদার অস্তিত্ব নেই। সহযোগী সদস্য হলে কী ধরনের অধিকার ও দায়িত্ব থাকবে, ফন ডার লায়েনও তা বিস্তারিতভাবে ব্যাখ্যা করেননি। এ ধরনের কোনো প্রস্তাব বাস্তবায়নের জন্য ইইউর সদস্যদেশগুলোর সমর্থনও প্রয়োজন হবে।
কানাডার প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নির কার্যালয় ভবিষ্যতে ‘আরও শক্তিশালী ও আরও উচ্চাভিলাষী জোট’ গঠনের সম্ভাবনাকে স্বাগত জানিয়েছে। তবে তারা সরাসরি সহযোগী সদস্যপদের প্রস্তাবকে সমর্থন করেনি।
কার্নি এর আগে কানাডা যে সম্পর্ক গড়ে তুলতে চাইছে, সেটিকে ইইউর সদস্যপদের পরিবর্তে ইউরোপের সঙ্গে একটি ‘অনন্য জোট’ হিসেবে বর্ণনা করেছেন।
কানাডা ও ইইউ ইতোমধ্যে বাণিজ্য, প্রযুক্তি, প্রতিরক্ষা, জ্বালানি, গুরুত্বপূর্ণ খনিজ ও আর্কটিক অঞ্চল নিয়ে আরও ঘনিষ্ঠ সহযোগিতার বিষয়ে কাজ করছে। আগামী মাসে মন্ট্রিয়েলে অনুষ্ঠিতব্য কানাডা-ইইউ শীর্ষ সম্মেলনে এ বিষয়ে আরও বিস্তারিত আলোচনা হওয়ার কথা রয়েছে।
