শনিবার, ২০ই জুন, ২০২৬   |   ৬ই আষাঢ়, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

এক দশক আগের ঐতিহাসিক গণভোটের পর থেকে ব্রেক্সিটের (ইউরোপীয় ইউনিয়ন থেকে ব্রিটেনের বেরিয়ে যাওয়া) প্রভাবে যুক্তরাজ্যের অর্থনীতি বড় ধরনের ক্ষতির মুখে পড়েছে। ব্যাংক অফ ইংল্যান্ডের অভ্যন্তরীণ এবং অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ কোম্পানি ডেটা বা তথ্য বিশ্লেষণ করে অর্থনীতিবিদরা জানিয়েছেন, ব্রেক্সিটের কারণে যুক্তরাজ্যের অর্থনীতি প্রায় ৬ শতাংশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

সুদের হার নির্ধারণের জন্য ব্যাংক অফ ইংল্যান্ড যে বিশেষ তথ্যগুলো ব্যবহার করে, তা গভীর পরীক্ষার মাধ্যমেই এই নতুন গবেষণাটি করা হয়েছে। যুক্তরাজ্য যদি ইইউ বা ইউরোপীয় ইউনিয়ন ত্যাগ করার পক্ষে ভোট না দিত, তবে দেশটির অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি কেমন হতে পারত—তা তুলনা করেই এই হারানো প্রবৃদ্ধির হিসাব বের করেছেন গবেষকরা।

গবেষণায় দেখা গেছে, যুক্তরাজ্যের এই অর্থনৈতিক ক্ষতির প্রায় অর্ধেকটাই এসেছে গণভোটের ঠিক পরের সময়ের আকস্মিক ধাক্কা এবং অনিশ্চয়তা থেকে। আর বাকি অর্ধেক ক্ষতি হয়েছে ২০২১ সালে, যখন যুক্তরাজ্য আনুষ্ঠানিকভাবে শুল্ক ইউনিয়ন ও একক বাজার ত্যাগ করে। এর ফলে ইউরোপের দেশগুলোর সাথে ব্যবসা-বাণিজ্যের ক্ষেত্রে বড় ধরনের প্রতিবন্ধকতা বা বাধা তৈরি হয়।

তবে এই গবেষণার কিছু সমালোচকও রয়েছেন। তাদের মতে, এই সমীক্ষায় আমেরিকার বিনিয়োগ ও প্রযুক্তি শিল্পের অভাবনীয় সাফল্য কিংবা চার বছর আগের ইউরোপের জ্বালানি সংকটের বিষয়টি পুরোপুরি মাথায় রাখা বা বিবেচনা করা হয়নি।

সম্প্রতি ব্যাংক অফ ইংল্যান্ডের গভর্নর অ্যান্ড্রু বেইলি সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে ব্রেক্সিটের অর্থনৈতিক পরিণতি নিয়ে কথা বলেছেন। তিনি স্পষ্ট করে বলেন, “ব্রেক্সিটের ফলে অর্থনীতির কর্মকাণ্ড ও প্রবৃদ্ধির হার কমে গেছে।” তিনি আরও ব্যাখ্যা করেন, যখন নিজের দেশের রপ্তানি বাজার বা বাণিজ্যের পরিধি ছোট করে ফেলা হয়, তখন স্বাভাবিকভাবেই তা প্রবৃদ্ধির ওপর নেতিবাচক বা খারাপ প্রভাব ফেলে।

আসন্ন জুলাই মাসে যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) শীর্ষ নেতাদের সাথে একটি গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে বসবেন। সেখানে খাদ্য ও কৃষিপণ্য রপ্তানি সহজ করাসহ ব্যবসা-বাণিজ্যের বিভিন্ন ক্ষেত্রে সহযোগিতা বাড়াতে আলোচনা হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

তথ্যসূত্র: বিবিসি 

শেয়ার
মতামত দিন...

Exit mobile version