বুধবার, ২৯ই জুলাই, ২০২৬   |   ১৪ই শ্রাবণ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

যুক্তরাজ্যে আশঙ্কাজনক হারে শরণার্থী বাড়ছে বলে স্কটল্যান্ডের সাধারণ মানুষের যে ধারণা, তা বাস্তবতার চেয়ে বহুগুণ বেশি। স্কটিশ রিফিউজি কাউন্সিল (এসআরসি)-এর সাম্প্রতিক এক সমীক্ষায় দেখা গেছে, দেশটির অধিকাংশ মানুষ যুক্তরাজ্যে আশ্রয় নেওয়া মূল শরণার্থীর সংখ্যা সম্পর্কে ব্যাপক ভুল ধারণা পোষণের পাশাপাশি তাদের দেওয়া সরকারি আর্থিক সুবিধাকেও অনেক বেশি বাড়িয়ে অনুমান করেন।

১৯৫১ সালের জাতিসংঘ শরণার্থী সনদের ৭৫তম বার্ষিকী উপলক্ষে প্রকাশিত এই প্রতিবেদনে বলা হয়, তথ্যের অভাব ও বিভ্রান্তির কারণে সাধারণ মানুষের ধারণা এবং মাঠপর্যায়ের বাস্তবতার মধ্যে এক বিশাল ব্যবধান তৈরি হয়েছে।

স্কটল্যান্ডের ২,০১০ জন প্রাপ্তবয়স্ক নাগরিকের ওপর চালানো এই জরিপে দেখা যায়, প্রায় ৭৭ শতাংশ স্কট অধিবাসী জীবনে কখনোই সরাসরি কোনো শরণার্থীর মুখোমুখি হননি বা কথা বলেননি।

শরনার্থীর ভুল হিসাব: বিশ্বে বাস্তুচ্যুত মোট মানুষের মধ্যে ১ শতাংশেরও কম যুক্তরাজ্যে পাড়ি জমান। কিন্তু জরিপে দেখা গেছে মাত্র ১৩ শতাংশ স্কট সঠিক তথ্যটি জানেন। ৬৩ শতাংশ মানুষের ধারণা সংখ্যাটি এর চেয়ে অনেক বেশি এবং ১৭ শতাংশ মানুষ বিশ্বাস করেন যে বিশ্বের মোট শরণার্থীর ২০ শতাংশেরও বেশি যুক্তরাজ্যে আশ্রয় নেন।

ভাতা নিয়ে বিভ্রান্তি: হোটেলে সাময়িক আশ্রয়ে থাকা একজন আশ্রয়প্রার্থী যুক্তরাজ্য সরকারের কাছ থেকে সপ্তাহে মাত্র ৮.৮৬ পাউন্ড (প্রায় ১০ পাউন্ড) পান। অথচ ৫৩ শতাংশ মানুষ মনে করেন তারা এর চেয়ে অনেক বেশি ভাতা পান। এমনকি ১৩ শতাংশ মানুষের ভুল ধারণা যে, আশ্রয়প্রার্থীরা সপ্তাহে ২০০ পাউন্ডের (যা আসল অঙ্কের প্রায় ২০ গুণ) বেশি ভাতা পেয়ে থাকেন।

ভুল ধারণার পাশাপাশি সমীক্ষায় ইতিবাচক তথ্যও উঠে এসেছে। দেশের ৬১ শতাংশ মানুষ চান আশ্রয়প্রার্থী শিশুরা যেন পরিবারের সাথে পুনর্মিলনের সুযোগ পায়। এছাড়া ৫৪ শতাংশ উত্তরদাতা মনে করেন, আশ্রয়ের আবেদন স্থগিত থাকা অবস্থায় পরিবার চালানোর জন্য শরণার্থীদের কাজ করার অধিকার দেওয়া উচিত।

এসআরসির প্রধান নির্বাহী সাবির জাজাই বলেন, “ভুল তথ্য ও অপপ্রচারের বিরুদ্ধে বস্তুনিষ্ঠ সত্য তুলে ধরা এখন সবচেয়ে জরুরি। রাজনীতিবিদ এবং গণমাধ্যমের দায়িত্বশীল ভাষা ব্যবহার করা উচিত, কারণ যারা আশ্রয়ের খোঁজে এসেছিলেন তারা আজ আমাদের বন্ধু ও প্রতিবেশী।”

সম্প্রতি গ্লাসগোতে উগ্র ডানপন্থী ও তাদের বিরোধী সমর্থকদের মধ্যে এক সহিংস সংঘর্ষ ও নাৎসিদের মতো অভিবাদন জানানোর অপ্রীতিকর ঘটনার পর এই প্রতিবেদনটি সামনে এলো। ওই সহিংসতার তীব্র নিন্দা জানিয়ে স্কটল্যান্ডের ফার্স্ট মিনিস্টার জন সুইনি বলেছেন, “কোনো অবস্থাতেই এই ধরনের উগ্র আচরণ ও সহিংসতা স্কটল্যান্ডে সহ্য করা হবে না।”

তথ্যসূত্র: দ্য হেরাল্ড 

শেয়ার
মতামত দিন...

Exit mobile version