রবিবার, ১৫ই মার্চ, ২০২৬   |   ২রা চৈত্র, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

২০২৬ সালের নির্বাচনে বাংলাদেশে বড় ধরনের রাজনৈতিক পটপরিবর্তন ও ক্ষমতার পালাবদলের ফলে যুক্তরাজ্যে অবস্থানরত বাংলাদেশি আশ্রয়প্রার্থীদের ভাগ্য এখন সুতোয় ঝুলছে। গত দেড় দশকে যারা বিএনপি বা জামায়াতে ইসলামীর রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত থাকার কারণে ‘নিপীড়নের শিকার’ দাবি করে ব্রিটেনে আশ্রয় চেয়েছিলেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে তাদের সেই দাবিটিই আইনি চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছে।

আন্তর্জাতিক শরণার্থী আইন এবং ১৯৫১ সালের শরণার্থী কনভেনশনের ১সি (৫) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, যদি কোনো ব্যক্তির নিজ দেশে পরিস্থিতির এমন ‘মৌলিক ও স্থায়ী পরিবর্তন’ ঘটে যার ফলে তার আর জীবনের নিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কা থাকে না, তবে তার শরণার্থী মর্যাদা বাতিল হতে পারে। যুক্তরাজ্যের ইমিগ্রেশন রুলস-এর ৩৩৯এ ধারাও একই কথা বলে।

ব্রিটিশ আইনজীবীরা বলছেন, যেহেতু এখন আবেদনকারীদের নিজ দল (বিএনপি-জামায়াত) ক্ষমতায়, তাই তাদের ওপর সরকারি নিপীড়নের ভয় আর অবশিষ্ট নেই বলে গণ্য করছে ব্রিটিশ হোম অফিস। ফলে ঝুলে থাকা হাজার হাজার আবেদন ঢালাওভাবে বাতিল হওয়ার এবং আবেদনকারীদের বাংলাদেশে ফেরত পাঠানোর আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

২০২৪ সালে ৭,২২৫ জন বাংলাদেশি যুক্তরাজ্যে আশ্রয় আবেদন করেছিলেন, যা দেশটিকে শীর্ষ পাঁচটি আবেদনকারী দেশের তালিকায় নিয়ে আসে। যার ফলে ২০২৪ সালের মে মাসে দুই দেশের মধ্যে স্বাক্ষরিত ‘ফাস্ট ট্র্যাক’ ফেরত পাঠানোর সমঝোতা স্মারকটি এখন আরও দ্রুত কার্যকর হওয়ার সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে।

তবে পরিস্থিতির নাটকীয় পরিবর্তনে এখন উল্টো চিত্রও দেখা যাচ্ছে। ৫ই আগস্টের পর আওয়ামী লীগের সাবেক মন্ত্রী-এমপি ও শতাধিক নেতাকর্মী যুক্তরাজ্যে আশ্রয় চেয়েছেন, যাদের অনেকের আবেদন এরই মধ্যে মঞ্জুর করা হয়েছে।

যুক্তরাজ্য বিএনপির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, তারা অতীতে নির্যাতিতদের সহায়তা করলেও হোম অফিসের বর্তমান আইনি সিদ্ধান্তের বিষয়টি সম্পূর্ণ ব্রিটেনের অভ্যন্তরীণ বিষয়। অন্যদিকে, জামায়াতে ইসলামীর প্রতিনিধিরা দাবি করছেন যে, প্রেক্ষাপট বদলালেও প্রতিটি মামলার স্বতন্ত্র ভিত্তি রয়েছে এবং তাদের নেতাকর্মীরা এখনও নানাভাবে ঝুঁকির মুখে রয়েছেন।

ইউরোপের অন্যান্য দেশ যেমন—জার্মানি, ফ্রান্স ও ইতালিতেও একই ধরনের আইনি পর্যালোচনা শুরু হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

শেয়ার
মতামত দিন...

Exit mobile version