বৃহস্পতিবার, ১৪ই মে, ২০২৬   |   ৩১শে বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

বিশ্বজুড়ে প্রায় সাড়ে ৮ কোটি খ্রিষ্টধর্মাবলম্বীর আধ্যাত্মিক কেন্দ্র ‘চার্চ অব ইংল্যান্ড’-এ রচিত হলো এক নতুন ইতিহাস। দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর প্রথমবারের মতো কোনো নারী হিসেবে যুক্তরাজ্যের ‘আর্চবিশপ অব ক্যান্টারবুরি’ পদে অভিষিক্ত হলেন সারা মুলালি।

বুধবার ক্যান্টারবুরি ক্যাথেড্রালে ত্রয়োদশ শতাব্দীর ঐতিহাসিক ‘সেন্ট অগাস্টিন’ চেয়ারে আসীন হয়ে তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন। সাবেক এই নার্সের হাত ধরেই চার্চ অব ইংল্যান্ডের ইতিহাসে এক নতুন যুগের সূচনা হলো, যা নিয়ে রক্ষণশীল ও প্রগতিশীল খ্রিষ্টানদের মধ্যে শুরু হয়েছে চরম উত্তেজনা।

জমকালো এই অভিষেক অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন ব্রিটিশ রাজপরিবারের উত্তরসূরি প্রিন্স উইলিয়াম ও তাঁর স্ত্রী ক্যাথরিন এবং প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমারসহ বিশ্ববরেণ্য ধর্মীয় নেতারা। 

মাথায় সোনালি টুপি পরে সারা মুলালি যখন গির্জার দরজায় কড়া নেড়ে প্রবেশের অনুমতি চাইলেন, তখন সেটি ছিল নারী নেতৃত্বের এক অনন্য বিজয়। দায়িত্ব নিয়েই তিনি মধ্যপ্রাচ্য, ইউক্রেন ও সুদানসহ বিশ্বের যুদ্ধবিধ্বস্ত অঞ্চলে শান্তির ডাক দেন। তবে তাঁর সামনে পাহাড়সম চ্যালেঞ্জ; বিশেষ করে শিশু নির্যাতনের যে কলঙ্কজনক অধ্যায়ের কারণে তাঁর পূর্বসূরি জাস্টিন ওয়েলবি পদত্যাগ করেছিলেন, সেই সত্য ও ন্যায়বিচারের পথে চলার কঠিন অঙ্গীকার করেছেন তিনি।

আকর্ষণীয় বিষয় হলো, সারা মুলালি তাঁর পোশাকে নার্স থাকাকালীন বেল্টের আদলে তৈরি একটি বিশেষ ‘ক্ল্যাপ’ ব্যবহার করেছেন এবং পোপ ষষ্ঠ পলের দেওয়া ঐতিহাসিক আংটি পরিধান করেছেন। তবে তাঁর এই নিয়োগকে সহজভাবে নেয়নি আফ্রিকা ও এশিয়ার অনেক রক্ষণশীল চার্চ। সমকামী বিয়ে ও নারী নেতৃত্ব নিয়ে গির্জার ভেতরে চলা তীব্র বিভেদের মধ্যেই তিনি সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, “আমরা সবাই একই শিকড়ের একটি পরিবার।” মেধার জোরে নার্স থেকে আর্চবিশপের সিংহাসনে বসা সারা মুলালির এই যাত্রা এখন বিশ্বজুড়ে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে।

শেয়ার
মতামত দিন...

Exit mobile version