শনিবার, ২৮ই মার্চ, ২০২৬   |   ১৫ই চৈত্র, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

পর্তুগালে বসবাসরত লাখ লাখ মানুষের জন্য এক দুঃসংবাদ বয়ে আনলেন দেশটির স্বাস্থ্যমন্ত্রী আনা পাউলা মার্টিন্স। ২০২৭ সালের মধ্যে সকল নাগরিকের জন্য ‘ফ্যামিলি ডক্টর’ বা পারিবারিক চিকিৎসক নিশ্চিত করার যে উচ্চাভিলাষী লক্ষ্যমাত্রা ছিল, তা পূরণ করা সম্ভব নয় বলে বুধবার সাফ জানিয়ে দিয়েছেন তিনি। ফাতিমা স্বাস্থ্যকেন্দ্রের এক উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে মন্ত্রী এই প্রক্রিয়াটিকে ‘অত্যন্ত জটিল চ্যালেঞ্জ’ হিসেবে বর্ণনা করেন। বিশেষ করে পর্তুগালে নতুন করে কাজ করতে আসা অভিবাসীদের সংখ্যা প্রতিদিন বাড়তে থাকায় জাতীয় স্বাস্থ্য পরিষেবার ওপর তৈরি হওয়া বাড়তি চাপই এই ব্যর্থতার প্রধান কারণ বলে মনে করা হচ্ছে।

স্বাস্থ্যমন্ত্রী আনা পাউলা মার্টিন্স সরাসরি স্বীকার করেছেন যে, সরকার সবাইকে এই সুবিধার আওতায় আনতে চাইলেও ক্রমবর্ধমান চাহিদার কারণে লক্ষ্যমাত্রা থেকে পিছিয়ে যাচ্ছে তারা। গত পাঁচ বছরে স্বাস্থ্যকেন্দ্রে নাম তালিকাভুক্ত করার হার এতটাই বেড়েছে যে, বিদ্যমান চিকিৎসকদের পক্ষে তা সামলানো অসম্ভব হয়ে পড়েছে। ওরেন পৌরসভার মেয়র লুইস আলবুকার্ক জানিয়েছেন, কেবল তার এলাকাতেই প্রায় ১৬ হাজার মানুষ ফ্যামিলি ডক্টরের সুবিধার বাইরে রয়েছেন। ফাতিমা অঞ্চলেও প্রায় ১,২০০ মানুষ এখনো কোনো নির্দিষ্ট চিকিৎসকের ছায়া পাচ্ছেন না।

তবে ডাক্তার সংকটের এই চরম মুহূর্তে রোগীদের জন্য ‘বাতা ব্রাঙ্কা’ নামক একটি বিশেষ বিকল্প প্রকল্প চালু রেখেছে সরকার। স্থানীয় স্বাস্থ্য ইউনিট ও পৌরসভার যৌথ উদ্যোগে পরিচালিত এই প্রকল্পের মাধ্যমে যাদের ফ্যামিলি ডক্টর নেই, তারা অন্তত প্রাথমিক চিকিৎসা ও পরামর্শ নেওয়ার সুযোগ পাচ্ছেন। এছাড়া ‘মডেল বি’ হেলথ ইউনিটগুলোকে আরও শক্তিশালী করার চেষ্টা চলছে। স্বাস্থ্যমন্ত্রী আশ্বাস দিয়েছেন যে, নির্দিষ্ট সময়ে লক্ষ্য পূরণ না হলেও সবার কাছে চিকিৎসাসেবা পৌঁছে দেওয়ার লড়াই অব্যাহত থাকবে। তবে ২০২৭ সালের ডেডলাইন মিস করার এই ঘোষণা লিসবন থেকে পর্তুগালের প্রত্যন্ত অঞ্চলের নাগরিকদের মধ্যে নতুন করে উৎকণ্ঠা তৈরি করেছে।

শেয়ার
মতামত দিন...

Exit mobile version