ইংল্যান্ডের আবাসন খাতে গত তিন দশকের মধ্যে সবচেয়ে বড় আমূল পরিবর্তন আসতে যাচ্ছে। আগামী ১ মে শুক্রবার থেকে কার্যকর হচ্ছে বহু প্রতীক্ষিত ‘রেন্টার্স রাইটস অ্যাক্ট’। এই নতুন আইনের ফলে দেশটিতে বসবাসরত ১ কোটি ১০ লক্ষেরও বেশি বেসরকারি ভাড়াটিয়ার আবাসন নিরাপত্তা এক অনন্য উচ্চতায় পৌঁছাবে। সরকারের দাবি, এই সংস্কারের মাধ্যমে দীর্ঘদিনের অসম আবাসন ব্যবস্থার অবসান ঘটে ভাড়াটিয়াদের স্থায়িত্ব ও অধিকার নিশ্চিত হবে।
এই আইনের সবচেয়ে বড় বিশেষত্ব হলো ‘সেকশন ২১’ বা কোনো কারণ ছাড়াই ভাড়াটিয়া উচ্ছেদের প্রথা চিরতরে বন্ধ হওয়া। এখন থেকে কোনো বাড়িওয়ালা চাইলেই ভাড়াটিয়াকে হুট করে বিদায় করতে পারবেন না; উচ্ছেদের জন্য তাকে অবশ্যই আইনত বৈধ কারণ দেখাতে হবে। এছাড়া, দীর্ঘমেয়াদী ফিক্সড-টার্ম চুক্তির পরিবর্তে এখন থেকে সকল চুক্তি হবে ‘পিরিওডিক’ বা চলমান ভিত্তিতে। ফলে ভাড়াটিয়ারা মাত্র দুই মাসের নোটিশ দিয়ে যেকোনো সময় বাসা ছাড়তে পারবেন, তবে বাড়িওয়ালা চুক্তির প্রথম এক বছরের মধ্যে বাড়ি বিক্রির অজুহাতেও কাউকে উচ্ছেদ করতে পারবেন না।
ভাড়া বৃদ্ধির ক্ষেত্রেও আনা হয়েছে কঠোর নিয়ন্ত্রণ। বাড়িওয়ালারা বছরে মাত্র একবার বাজারমূল্য অনুযায়ী ভাড়া বাড়াতে পারবেন। এছাড়া নতুন ভাড়াটিয়াদের মধ্যে ‘ভাড়া ডাকার লড়াই’ বা বিডিং ওয়ার সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করা হয়েছে। এখন থেকে বিজ্ঞাপনে দেওয়া দামের চেয়ে বেশি টাকা দাবি করা বাড়িওয়ালাদের জন্য অবৈধ বলে গণ্য হবে। পাশাপাশি, সুবিধাভোগী পরিবার বা পোষা প্রাণী আছে এমন ভাড়াটিয়াদের ফিরিয়ে দেওয়া এখন থেকে আইনত দণ্ডনীয়।
আইনটি ভাড়াটিয়াদের সুরক্ষা দিলেও বাড়িওয়ালাদের পক্ষ থেকে উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছে। তাদের মতে, অনিয়মিত বা সমস্যাগ্রস্ত ভাড়াটিয়াদের উচ্ছেদ করতে এখন দীর্ঘ আইনি জটিলতার মুখে পড়তে হবে। তবে আইন অমান্যকারী বাড়িওয়ালাদের জন্য স্থানীয় কাউন্সিল ৪০,০০০ পাউন্ড পর্যন্ত জরিমানার বিধান রেখেছে। প্রবাসে বসবাসরত শিক্ষার্থী এবং অনিয়মিত আয়ের মানুষদের জন্য এই আইনটি একদিকে যেমন সুরক্ষা দেবে, অন্যদিকে অগ্রিম পেমেন্টের কড়াকড়ির কারণে নতুন বাসা খুঁজে পাওয়া কিছুটা চ্যালেঞ্জিং হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
তথ্যসূত্র: বিবিসি
