বৃহস্পতিবার, ৩০ই এপ্রিল, ২০২৬   |   ১৭ই বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

বাংলাদেশে নিযুক্ত ব্রিটিশ হাইকমিশনার সারাহ কুক জানিয়েছেন, গত দেড় বছরে যুক্তরাজ্যে বাংলাদেশি নাগরিকদের ২৫০ মিলিয়ন পাউন্ডের (প্রায় ৩,৭৫০ কোটি টাকা) বেশি মূল্যের সম্পদ জব্দ করা হয়েছে। মঙ্গলবার (২৮ এপ্রিল) জাতীয় প্রেসক্লাবে ডিপ্লোম্যাটিক করেসপনডেন্টস অ্যাসোসিয়েশন, বাংলাদেশ (ডিক্যাব) আয়োজিত ‘ডিক্যাব টক’ অনুষ্ঠানে তিনি এই তথ্য প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, আইনের শাসন এবং আন্তর্জাতিক আর্থিক ব্যবস্থার স্বচ্ছতা বজায় রাখতে যুক্তরাজ্যের দৃঢ় অবস্থানের কারণেই এই পদক্ষেপ নেওয়া সম্ভব হয়েছে।

সারাহ কুক জানান, সুনির্দিষ্ট আইনি প্রক্রিয়া এবং প্রমাণের ভিত্তিতেই এই সম্পদগুলো জব্দ করা হয়েছে। তবে আইনি বাধ্যবাধকতার কারণে তিনি কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের নাম প্রকাশ করেননি। তিনি বলেন, “বাংলাদেশের অর্থনৈতিক সুশাসন জোরদারে যুক্তরাজ্য প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। পাচার হওয়া অর্থ উদ্ধারের এই লড়াইয়ে আমরা গত দুই বছর ধরে বাংলাদেশ সরকারের সঙ্গে অত্যন্ত নিবিড়ভাবে কাজ করছি।”

অবৈধ অর্থপ্রবাহ ঠেকাতে এবং আন্তর্জাতিক সমন্বয় বাড়াতে আগামী ২৩ ও ২৪ জুন লন্ডনের ল্যাঙ্কাস্টার হাউসে ‘ইলিসিট ফাইন্যান্স সামিট’ (অবৈধ অর্থায়ন বিষয়ক সম্মেলন) আয়োজন করতে যাচ্ছে যুক্তরাজ্য। এই সম্মেলনে বাংলাদেশের অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। সম্মেলনে মূলত কালোটাকা প্রতিরোধ, পাচার চক্র ভেঙে দেওয়া, আবাসন খাতে অর্থ পাচার এবং ক্রিপ্টো-সম্পদের অপব্যবহার মোকাবিলায় নতুন বৈশ্বিক চুক্তি সই হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

ডিক্যাব সভাপতি এ কে এম মঈনুদ্দিন এবং সাধারণ সম্পাদক ইমরুল কায়েসের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত এই সভায় সারাহ কুক পুনর্ব্যক্ত করেন যে, অবৈধ অর্থায়নের বিরুদ্ধে একটি শক্তিশালী আন্তর্জাতিক জোট গঠন করাই এখন যুক্তরাজ্যের অন্যতম প্রধান লক্ষ্য।

তথ্যসূত্র: দ্য বিজনেস স্ট্যান্ডার্ড 

শেয়ার
মতামত দিন...

Exit mobile version