যুক্তরাজ্যের ওয়ারউইকশায়ারের নানইটন এলাকায় ১২ বছর বয়সী এক শিশুকে অপহরণ ও ধর্ষণের দায়ে আহমেদ মুলাখিল (২৩) নামে এক আফগান আশ্রয়প্রার্থীকে ১৬ বছরের কারাদণ্ড দিয়েছে আদালত। গত বছর গ্রীষ্মে ঘটা এই ঘটনার পর পুরো ব্রিটেনে ব্যাপক উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে এবং পুলিশের তথ্য গোপন নিয়ে তীব্র বিতর্ক সৃষ্টি হয়।
ওয়ারউইক ক্রাউন কোর্টে বিচারক ক্রিস্টিনা মন্টগোমারি গত সোমবার এই রায় ঘোষণা করেন। সাজা অনুযায়ী, মুলাখিলকে ১৫ বছর কারাগারে থাকতে হবে এবং পরবর্তী ১২ মাস কড়া নজরদারিতে থাকতে হবে। সাজা শেষে তাকে নিজ দেশ আফগানিস্তানে ফেরত পাঠানোরও নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
ঘটনার বিবরণ ও আদালতের পর্যবেক্ষণ
আদালতে উপস্থাপিত তথ্য অনুযায়ী, ২০২৩ সালের ২২ জুলাই মুলাখিল ওই শিশুটিকে লক্ষ্যবস্তু করেন। সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যায়, মুলাখিল মেয়েটির বয়স জানতে চাইলে সে ১৯ বছর বলে মিথ্যা বলেছিল। বিচারক মন্টগোমারি বলেন, “এটি একটি স্পষ্ট মিথ্যা ছিল এবং জুরি বোর্ডের রায়ে কোনো সন্দেহ নেই যে আপনি জানতেন তার বয়স ১৬ বছরের নিচে।”
১০ দিনের দীর্ঘ বিচার প্রক্রিয়ায় ভুক্তভোগী শিশুটি জানায়, আক্রমণের সময় মুলাখিল হাসছিলেন। হামলার পর শিশুটিকে অন্ধকার পার্কে একা ফেলে যাওয়া হয়। বিচারক বলেন, এই ঘটনার ফলে শিশুটি গুরুতর মানসিক ট্রমা এবং শারীরিক সমস্যায় ভুগছে। রাজনৈতিক বিতর্ক ও তথ্য গোপনের অভিযোগ এই মামলাটি যুক্তরাজ্যে আশ্রয়প্রার্থী ও অভিবাসন নীতি নিয়ে নতুন করে বিতর্ক উসকে দিয়েছে। অপরাধের চার মাস আগে মুলাখিল একটি ছোট নৌকায় করে অবৈধভাবে যুক্তরাজ্যে প্রবেশ করেছিলেন।
ঘটনার পর ওয়ারউইকশায়ার পুলিশ এবং স্থানীয় কাউন্সিলের বিরুদ্ধে তথ্য গোপনের অভিযোগ তোলেন রিফর্ম ইউকে নেতা নাইজেল ফারাজসহ অনেক রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব। পুলিশের পক্ষ থেকে প্রাথমিকভাবে অভিযুক্তের জাতীয়তা ও অভিবাসন স্থিতি প্রকাশ না করায় এই অসন্তোষ তৈরি হয়। এই ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে এখন থেকে হাই-প্রোফাইল মামলাগুলোতে অভিযুক্তের জাতিগত পরিচয় ও জাতীয়তা প্রকাশের বিষয়ে নতুন দিকনির্দেশনা জারি করা হয়েছে।
মুলাখিলের আইনজীবীর দাবি ছিল, সে তালেবানদের হাত থেকে বাঁচতে আফগানিস্তান থেকে পালিয়ে এসে অর্থনীতি পড়ার পরিকল্পনা করছিল। তবে বিচারক এই অপরাধের ভয়াবহতা বিবেচনায় নিয়ে সর্বোচ্চ পর্যায়ের সাজা প্রদান করেন। ধর্ষণের পাশাপাশি অপহরণ, যৌন নিপীড়ন এবং অশালীন ভিডিও ধারণের দায়েও তাকে দোষী সাব্যস্ত করা হয়েছে। আদালত মুলাখিলের বিরুদ্ধে আজীবন ‘সেক্সুয়াল হার্ম প্রিভেনশন অর্ডার’ এবং ভুক্তভোগীর সাথে যোগাযোগের ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে।
তদন্তকারী কর্মকর্তা ডিআই কোলেট ও’কিফ রায়ের পর বলেন, “মুলাখিল শুধু একটি জঘন্য অপরাধই করেননি, বরং আমাদের সমাজের মৌলিক মূল্যবোধগুলোকে পদদলিত করেছেন। ভুক্তভোগী শিশুটির অসীম সাহসিকতার কারণেই আজ বিচার নিশ্চিত করা সম্ভব হয়েছে।”
