যুক্তরাজ্যে পড়তে যেতে আগ্রহী বাংলাদেশিদের স্টুডেন্ট ভিসার আবেদন প্রত্যাহারের হার উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। চলতি বছরের প্রথম ছয় মাসে বাংলাদেশিদের ২৩ দশমিক ৫ শতাংশ ভিসার আবেদন প্রত্যাহার করা হয়েছে। গত বছরের একই সময়ে এ হার ছিল ৭ দশমিক ১ শতাংশ।
যুক্তরাজ্যের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের তথ্য বিশ্লেষণ করে এ হিসাব দিয়েছে ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম ফিন্যান্সিয়াল টাইমস।
তবে আবেদন প্রত্যাহারের এই হারকে ভিসা প্রত্যাখ্যানের হার হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। অর্থাৎ, ২৩ দশমিক ৫ শতাংশ আবেদন প্রত্যাহারের অর্থ এই নয় যে যুক্তরাজ্য সরকার ওই সংখ্যক বাংলাদেশির ভিসা প্রত্যাখ্যান করেছে।
ফিন্যান্সিয়াল টাইমসকে কয়েকটি বিশ্ববিদ্যালয় জানিয়েছে, আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের দেওয়া ভর্তির প্রস্তাব প্রত্যাহার করায় অনেক ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট শিক্ষার্থীদের ভিসার আবেদনও প্রত্যাহার হচ্ছে। তবে বাংলাদেশিদের আবেদন প্রত্যাহারের সুনির্দিষ্ট কারণগুলোর পরিসংখ্যান প্রকাশ করা হয়নি।
আবেদন প্রত্যাহারের এই প্রবণতার পেছনে যুক্তরাজ্যের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর জন্য কঠোর করা ভিসা স্পনসরশিপের নতুন নিয়মও ভূমিকা রাখছে।
গত ১ জুন থেকে বিশ্ববিদ্যালয়সহ অন্যান্য শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ক্ষেত্রে স্টুডেন্ট ভিসা প্রত্যাখ্যানের সর্বোচ্চ গ্রহণযোগ্য হার ১০ শতাংশ থেকে কমিয়ে ৫ শতাংশের নিচে নামানো হয়েছে। কোনো প্রতিষ্ঠানের স্পনসর করা শিক্ষার্থীদের ভিসা প্রত্যাখ্যানের হার নির্ধারিত সীমা ছাড়ালে প্রতিষ্ঠানটির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে। শেষ পর্যন্ত আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের স্পনসর করার লাইসেন্সও বাতিল হতে পারে।
তবে এই হার কোনো নির্দিষ্ট দেশের শিক্ষার্থীদের জন্য আলাদাভাবে হিসাব করা হয় না। একটি প্রতিষ্ঠান আগের ১২ মাসে যেসব শিক্ষার্থীর ভিসার জন্য স্পনসর করেছে, তাদের আবেদনের ফলের ভিত্তিতে হারটি নির্ধারণ করা হয়।
এ ছাড়া, ভিসার সিদ্ধান্ত হওয়ার আগেই কোনো বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীর ‘কনফারমেশন অব অ্যাকসেপট্যান্স ফর স্টাডিজ’ (সিএএস) প্রত্যাহার করলে সেই আবেদন সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের ভিসা প্রত্যাখ্যানের হিসাবের মধ্যে পড়ে না।
ফিন্যান্সিয়াল টাইমসের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ভিসা প্রত্যাখ্যানের হার নিয়ন্ত্রণে রাখতে কিছু প্রতিষ্ঠান ঝুঁকিপূর্ণ মনে করা আবেদনকারীদের ভর্তির প্রস্তাব বা স্পনসরশিপ আগেই প্রত্যাহার করছে।
বাংলাদেশের পাশাপাশি পাকিস্তান ও নাইজেরিয়ার শিক্ষার্থীদের ভিসার আবেদন প্রত্যাহারের হারও উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। চলতি বছরের প্রথম ছয় মাসে পাকিস্তানের ক্ষেত্রে এ হার ছিল ৪০ দশমিক ৯ শতাংশ। নাইজেরিয়ার ক্ষেত্রে তা ছিল ২২ দশমিক ৭ শতাংশ।
