বুধবার, ২০ই মে, ২০২৬   |   ৬ই জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ইংল্যান্ড ও ওয়েলসের কিশোর বিচার ব্যবস্থা সংস্কার পরিকল্পনার আওতায় এখন থেকে সন্তানরা কোনো অপরাধ করলে অভিভাবকদের বিরুদ্ধে আরও কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। সোমবার প্রকাশিত সরকারের ‘যুব বিচার শ্বেতপত্র’-এ এই প্রস্তাবগুলো আনা হয়েছে। নতুন পরিকল্পনা অনুযায়ী, সন্তান যেন ভবিষ্যতে আর অপরাধ না করে সেই জন্য অভিভাবকদের বাধ্যতামূলক কাউন্সেলিং বা নির্দেশনা সেশনে অংশ নিতে হবে। যদি কোনো অভিভাবক এই নির্দেশ অমান্য করেন, তবে তাঁর জরিমানার পরিমাণ বর্তমান সর্বোচ্চ ১,০০০ পাউন্ডের চেয়েও অনেক বাড়ানো হতে পারে। এমনকি সবচেয়ে চরম অপরাধের ক্ষেত্রে অভিভাবকদের কারাদণ্ড দেওয়ার নতুন ক্ষমতাও পেতে যাচ্ছেন বিচারকরা।

যুক্তরাজ্যের উপ-প্রধানমন্ত্রী ও বিচারমন্ত্রী ডেভিড ল্যামি জানিয়েছেন, পরিবারগুলোর পাশে আগেভাগে দাঁড়িয়ে সহায়তা করলে অপরাধের মূল কারণগুলো দূর করা সম্ভব হবে। সরকারি তথ্য অনুযায়ী, দেশের প্রতি ১০ জন কুখ্যাত অপরাধীর মধ্যে ৮ জনই শৈশবে প্রথম অপরাধ করেছিল এবং জেল থেকে ছাড়া পাওয়ার এক বছরের মধ্যে দুই-তৃতীয়াংশ কিশোর আবারও অপরাধে জড়িয়ে পড়ে। বর্তমানে ১৬ বছরের কম বয়সী কোনো শিশু দোষী সাব্যস্ত হলে আদালত অভিভাবকদের জন্য এই ধরণের আদেশ বা ‘প্যারেন্টিং অর্ডার’ জারি করে থাকে। তবে আগের তুলনায় এই আদেশের ব্যবহার অনেক কমে গেছে। ২০০৯-১০ সালে যেখানে ১,০০০-এর বেশি অভিভাবককে এই আদেশ দেওয়া হয়েছিল, সেখানে ২০২২-২৩ সালে তা কমে মাত্র ৩৩-এ দাঁড়িয়েছে।

অবশ্য এই নতুন নিয়ম নিয়ে সমালোচনাও শুরু হয়েছে। ‘অ্যালায়েন্স ফর ইয়ুথ জাস্টিস’-এর প্রধান নির্বাহী জেস মুলেন বলেছেন, জোর করার চেয়ে বাবা-মাদের সাথে ভালো সম্পর্ক তৈরি করে সাহায্য করাই বেশি কার্যকর। বাবা-মাকে জেলে পাঠালে সন্তানের জীবন আরও বেশি অনিশ্চিত হয়ে পড়বে বলে তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করেন। এদিকে কনজারভেটিভ দলের ছায়া বিচারমন্ত্রী নিক টিমোথি সরকারের সমালোচনা করে বলেছেন, বর্তমান লেবার সরকার অপরাধ দমনে মোটেও কঠোর নয়, তারা উল্টো হাজার হাজার বন্দীকে সময়ের আগেই মুক্তি দিয়ে দিচ্ছে।

তবে জনসাধারণের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার স্বার্থে এই সংস্কারে আরও কিছু পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে। যেমন—বিচারক ও কিশোর বিশেষজ্ঞদের নিয়ে নতুন ‘ইয়ুথ ইন্টারভেনশন কোর্ট’ চালু করা হবে, যেখানে অপরাধের মূল কারণগুলো খুঁজে চিকিৎসা বা শিক্ষার ব্যবস্থা করা হবে। শিশুদের ঢালাওভাবে আটকে বা জেলে না রেখে সামাজিক শাস্তির (যেমন: বিনা পারিশ্রমিকে কাজ বা কারফিউ) ওপর জোর দেওয়া হবে এবং প্রয়োজনে ইলেকট্রনিক ডিভাইসের মাধ্যমে তাদের ওপর কড়া নজরদারি রাখা হবে। এছাড়া শিশুদের অপরাধের রেকর্ড যেন সারাজীবন প্রকাশ না পায় এবং বড় হয়ে তাদের চাকরির সুযোগ নষ্ট না হয়, সেই বিষয়েও সরকার নিয়ম বদলানোর কথা ভাবছে। একই সাথে, শিশুদের অপরাধের পথে নামানো প্রাপ্তবয়স্ক অপরাধীদের শাস্তি দিতে একটি নতুন শিশু শোষণ বিরোধী আইনও তৈরি করা হবে।

তথ্যসূত্র: বিবিসি 

শেয়ার
মতামত দিন...

Exit mobile version