সোমবার, ১৪ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬   |   ৩০ই ভাদ্র, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

যুক্তরাজ্য থেকে বিচ্ছিন্ন হওয়ার যৌথ রূপরেখা তৈরিতে একসঙ্গে কাজ করার পরিকল্পনা করছে স্কটল্যান্ড, ওয়েলস ও নর্দার্ন আয়ারল্যান্ড। এ লক্ষ্যে সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) ওয়েলসের রাজধানী কার্ডিফে প্রথমবারের মতো যৌথ বৈঠকে বসছেন তিন অঞ্চলের ফার্স্ট মিনিস্টাররা।

রোববার (১৩ সেপ্টেম্বর) এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য টেলিগ্রাফ।

বৈঠকে স্কটল্যান্ডের ফার্স্ট মিনিস্টার জন সুইনি, ওয়েলসের ফার্স্ট মিনিস্টার রুন আপ আইওয়ার্থ এবং নর্দার্ন আয়ারল্যান্ডের ফার্স্ট মিনিস্টার মিশেল ও’নিল অংশ নেবেন। তাদের সঙ্গে থাকবেন আয়ারল্যান্ডের বিরোধী দল সিন ফেইনের সভানেত্রী মেরি লু ম্যাকডোনাল্ড।

বৈঠক শেষে আত্মনিয়ন্ত্রণ ও স্বাধীনতার বিষয়ে গণভোট আয়োজনের অধিকার দাবি করে একটি যৌথ ঘোষণাপত্রে সই করার কথা রয়েছে নেতাদের।

যুক্তরাজ্যের ইতিহাসে এবারই প্রথম দেশটির তিনটি ডিভলভড সরকারের নেতৃত্বই স্বাধীনতাপন্থি দলগুলোর হাতে। স্কটল্যান্ডের ফার্স্ট মিনিস্টার জন সুইনি বলেন, তিন অঞ্চলে স্বাধীনতাপন্থি নেতৃত্ব প্রতিষ্ঠিত হওয়া প্রমাণ করে যে বর্তমান কেন্দ্রীয় সাংবিধানিক ব্যবস্থা আর টেকসই নয়। ওয়েস্টমিনস্টারকে এখন ‘যুক্তরাজ্য-পরবর্তী’ ভবিষ্যতের প্রস্তুতি শুরু করতে হবে।

কার্ডিফের বৈঠকে অর্থনীতি, জ্বালানি, আন্তর্জাতিক সহযোগিতা এবং আত্মনিয়ন্ত্রণ—এই চারটি বিষয়কে ভিত্তি করে একটি সমঝোতা স্মারক সই হওয়ার কথা রয়েছে।

স্বাধীন রাষ্ট্র হিসেবে স্কটল্যান্ড ও ওয়েলসের ইউরোপীয় ইউনিয়নে (ইইউ) যোগ দেওয়া এবং আয়ারল্যান্ডের সঙ্গে পুনরেকত্রীকরণের মাধ্যমে নর্দার্ন আয়ারল্যান্ডের ইইউতে ফিরে যাওয়ার বিষয়েও নেতারা একমত। পাশাপাশি ওয়েলসের কর ও নিজস্ব রাজস্ব আদায়ের ক্ষমতা বাড়ানোর দাবিও তোলা হবে।

তবে যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী অ্যান্ডি বার্নহাম জানিয়েছেন, নিকট ভবিষ্যতে কোনো স্বাধীনতা গণভোটের সুযোগ নেই। জন সুইনিকে পাঠানো এক চিঠিতে তিনি বলেন, ২০২৪ সালের নির্বাচনে জয়ী তার সরকারের ইশতেহারে স্বাধীনতা বা নতুন গণভোটের প্রস্তাব সরাসরি নাকচ করা হয়েছে।

এর মধ্যে বৈঠকের দুদিন আগে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ডাবলিন সফরে গিয়ে ঐক্যবদ্ধ আয়ারল্যান্ডের পক্ষে প্রকাশ্যে সমর্থন জানিয়েছেন। যুক্তরাজ্য সরকারের তীব্র আপত্তির মধ্যেই স্কটল্যান্ড, ওয়েলস ও নর্দার্ন আয়ারল্যান্ডের এই যৌথ উদ্যোগকে যুক্তরাজ্যের সম্ভাব্য ভাঙনের গুরুত্বপূর্ণ ইঙ্গিত হিসেবে দেখছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকেরা।

শেয়ার
মতামত দিন...

Exit mobile version