ব্রেক্সিট-পরবর্তী সম্পর্কের টানাপোড়েন কাটিয়ে শিক্ষা ও গবেষণায় এক নতুন যুগের সূচনা করতে যাচ্ছে ইউরোপীয় ইউনিয়ন এবং যুক্তরাজ্য। দীর্ঘ আলোচনার পর উভয় পক্ষ একটি ঐতিহাসিক চুক্তিতে পৌঁছেছে, যার মাধ্যমে ২০২৭ সাল থেকে যুক্তরাজ্য পুনরায় বিখ্যাত শিক্ষা বিনিময় কর্মসূচি ‘ইরাসমাস প্লাস’ এ যুক্ত হবে। এই সিদ্ধান্তের ফলে যুক্তরাজ্যের শিক্ষার্থী, শিক্ষক এবং শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলো আবারও ইইউ সদস্য দেশগুলোর মতো সমান সুযোগ-সুবিধা ও মর্যাদা ভোগ করতে পারবে।
আগামী ২০২৭ সালের ১লা জানুয়ারি থেকে এই নতুন চুক্তি কার্যকর হবে। একই সময়ে সুইজারল্যান্ডও এই কর্মসূচিতে যুক্ত হচ্ছে বলে জানা গেছে। ২০২৫ সালের মে মাসে অনুষ্ঠিত প্রথম ইইউ-ইউকে সম্মেলনে যে পারস্পরিক সহযোগিতার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছিল, তারই ধারাবাহিকতায় ‘ইইউ-ইউকে ট্রেড অ্যান্ড কো-অপারেশন এগ্রিমেন্ট’-এর প্রটোকল সংশোধনের মাধ্যমে এই যুগান্তকারী পদক্ষেপ নেওয়া হলো। এই চুক্তির ফলে যুক্তরাজ্যের লার্নার এবং স্টাফরা এখন থেকে ইইউ সদস্য দেশগুলোর সাথে একই মর্যাদায় শিক্ষা ও প্রশিক্ষণ বিনিময়ে অংশ নিতে পারবেন।
ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ফন ডার লেয়েন এই পদক্ষেপকে স্বাগত জানিয়ে বলেছেন, ইউরোপ এবং যুক্তরাজ্যের মধ্যে শতাব্দীপ্রাচীন চমৎকার শিক্ষা সম্পর্ক রয়েছে। শিক্ষার্থী, শিক্ষক এবং সামগ্রিক অর্থনীতির স্বার্থে এই সম্পর্ক আরও জোরদার করা অত্যন্ত যৌক্তিক। ব্রেক্সিট পরবর্তী সময়ে যুক্তরাজ্য ইরাসমাস থেকে বেরিয়ে গিয়ে নিজস্ব ‘টুরিং স্কিম’ চালু করলেও, পুনরায় ইরাসমাস প্লাসে ফেরার সিদ্ধান্তকে উভয় পক্ষের কূটনৈতিক ও সাংস্কৃতিক সম্পর্কের বড় জয় হিসেবে দেখা হচ্ছে।
এই চুক্তির ফলে হাজার হাজার শিক্ষার্থী ও তরুণ আধুনিক বিশ্বের উপযোগী দক্ষতা অর্জনের সুযোগ পাবে, যা তাদের কর্মসংস্থানে সহায়ক হবে। পাশাপাশি ইইউ এবং যুক্তরাজ্যের একাডেমিক প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে গবেষণা ও উদ্ভাবনী শিখন পদ্ধতি বিনিময়ের সুযোগ বাড়বে। নতুন প্রযুক্তির ব্যবহার এবং অপ্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষার প্রসারেও উভয় পক্ষ এখন যৌথভাবে কাজ করতে পারবে। যুক্তরাজ্য সরকার শীঘ্রই এই কর্মসূচি পরিচালনার জন্য একটি ‘ন্যাশনাল এজেন্সি’ নিয়োগ করবে বলে নিশ্চিত করেছে।
