পর্তুগালের ইতিহাস ও ঐতিহ্য সম্পর্কে জানা এবং প্রবাসী বাংলাদেশিদের মধ্যে দেশটির সংস্কৃতি ও ঐতিহ্য সম্পর্কে আগ্রহ তৈরি করতে ঐতিহাসিক তালাসনাল গ্রাম ও অবিদোস শহর ভ্রমণ করেছেন পর্তুগাল বাংলা প্রেসক্লাবের সদস্যরা।
পর্তুগালের মধ্যভাগের লুসা পর্বতমালায় অবস্থিত তালাসনাল একটি ঐতিহ্যবাহী শিস্ট-পাথরের গ্রাম। ১৬৭৯ সালে প্রতিষ্ঠিত এ গ্রামের বাড়িগুলো স্থানীয় কালো শিস্ট পাথর দিয়ে তৈরি। সরু পাথুরে পথ, সবুজ পাহাড় ও ঘন বন ঘেরা গ্রামটি প্রকৃতির শান্ত ও নৈসর্গিক পরিবেশের জন্য পরিচিত।
বিংশ শতাব্দীর শুরুতে তালাসনালে প্রায় ১২৯ জন মানুষের বসবাস ছিল। সময়ের সঙ্গে অনেকেই গ্রাম ছেড়ে চলে যান। ১৯৮১ সালে সেখানে মাত্র দুজন স্থায়ী বাসিন্দা ছিলেন। বর্তমানে পুরোনো বাড়িগুলোর অনেকগুলো পুনরুদ্ধার করে ক্যাফে ও অতিথিশালা হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে। স্থানীয় খাবারের মধ্যে ছানফানা ও বিভিন্ন ধরনের পনিরও উল্লেখযোগ্য। হাইকিং ও প্রকৃতিপ্রেমীদের কাছেও গ্রামটি জনপ্রিয়।
ভ্রমণের দ্বিতীয় গন্তব্য ছিল লিসবন থেকে প্রায় ৮০ কিলোমিটার উত্তরে অবস্থিত ঐতিহাসিক দুর্গনগরী অবিদোস। পাহাড়ের চূড়ায় অবস্থিত এই শহরটি মধ্যযুগীয় স্থাপত্য ও দুর্গের জন্য পরিচিত। কেল্ট, রোমান, ভিসিগথ ও মুরদের শাসনের মধ্য দিয়ে দীর্ঘ ইতিহাস অতিক্রম করা অবিদোস ১১৪৮ সালে পর্তুগালের প্রথম রাজা আফনসো হেনরিকসের হাতে মুরদের কাছ থেকে পুনরুদ্ধার হয়।
ভ্রমণ শেষে প্রেসক্লাব সদস্যদের নিয়ে আয়োজন করা হয় বিভিন্ন মজার খেলা। পরে বিজয়ীদের মধ্যে পুরস্কার বিতরণ করা হয়।
পুরস্কার বিতরণ শেষে পর্তুগাল বাংলা প্রেসক্লাবের সভাপতি রাসেল আহমেদ বলেন, ‘পর্তুগালের ইতিহাস ও ঐতিহ্য সম্পর্কে আমাদের প্রেসক্লাবের সদস্যদের জানতে হবে। পাশাপাশি প্রবাসী বাংলাদেশিদেরও এ দেশের ইতিহাস ও সংস্কৃতির সঙ্গে পরিচিত হওয়ার সুযোগ করে দিতে হবে। এর মাধ্যমে পর্তুগালের সমাজের সঙ্গে আরও ঘনিষ্ঠভাবে মিশে বসবাস করা সম্ভব হবে।’
ভ্রমণে অংশ নেন প্রেসক্লাবের উপদেষ্টা সম্পাদক জাহিদ কায়সার, সাবেক সভাপতি রনি মোহাম্মদ, সাধারণ সম্পাদক শহীদ আহমদ প্রিন্স, সহসভাপতি আমিরুল ইসলাম নয়ন, সাংগঠনিক সম্পাদক হাফিজ আল আসাদ, প্রচার ও দপ্তর সম্পাদক আর এ ইহসান এবং সদস্য সজীব হোমরায়, শামীম আহমেদ, সেলিম আহমেদ ও হুমায়ুন আহমেদ শ্রাবণ।
ভ্রমণ আয়োজনের সার্বিক সহযোগিতায় ছিলেন ফাস্ট সলিউশন, খলিলুল্লাহ সাগর ও ইকবাল হোসেন কাঞ্চন।
