মঙ্গলবার, ২৫ই আগস্ট, ২০২৬   |   ১০ই ভাদ্র, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

চলতি বছরের অক্টোবরে পর্তুগালের রাজধানী লিসবনে অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে বিশ্বখ্যাত ‘বেস্ট সোমেলিয়ার অব দ্য ওয়ার্ল্ড’ বা বিশ্বের সেরা ওয়াইন পরিবেশক ও পরীক্ষক প্রতিযোগিতা। পর্তুগালকে বিপুল পরিমাণ সস্তা ওয়াইন উৎপাদনকারী দেশের পরিবর্তে ‘উচ্চমানের ও মানসম্পন্ন ওয়াইনের দেশ’ হিসেবে বিশ্ব দরবারে তুলে ধরার লক্ষ্যেই এই মেগা ইভেন্টটির আয়োজন করা হচ্ছে।

পর্তুগিজ সোমেলিয়ার অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি তিয়াগো পলা বার্তা সংস্থা লুসা-কে বলেন, এই ইভেন্টের মূল উদ্দেশ্য হবে পর্তুগালকে একটি বিশ্বমানের মানসম্পন্ন ওয়াইনের দেশ হিসেবে পরিচিত করানো।

তিনি জোর দিয়ে বলেন, ‘আমাদের এখন উৎপাদন বাড়ানোর চেয়ে মানের দিকে বেশি মনোযোগ দিতে হবে। আমাদের দেশে অনেক উচ্চমানের ওয়াইন তৈরি হয়, কিন্তু আন্তর্জাতিক বাজারে সেটি সঠিকভাবে তুলে ধরতে হবে। যাতে বিশ্ব আমাদের সস্তা ওয়াইনের দেশ হিসেবে নয়, বরং একটি প্রিমিয়াম বা মানসম্পন্ন ওয়াইনের দেশ হিসেবে চেনে।’

পলা ব্যাখ্যা করেন, তারা ওয়াইনের মাধ্যমে পর্তুগালের সমৃদ্ধ সংস্কৃতি ও ভৌগোলিক বৈচিত্র্যকে তুলে ধরতে চান। কারণ ওয়াইন কেবল একটি পানীয় নয়, এটি সংশ্লিষ্ট অঞ্চলের মাটিরও পরিচয় বহন করে। প্রায় চার বছর আগে জাপানে অনুষ্ঠিত এক সভায় এই বিশ্বমানের ইভেন্টটি আয়োজনের জন্য আবেদন করেছিল পর্তুগাল। আগামী ১১ থেকে ১৭ অক্টোবর লিসবনের বিখ্যাত শেরাটন হোটেলে এই মেগা প্রতিযোগিতাটি অনুষ্ঠিত হবে।

প্রায় ৩,৫০০-র বেশি মানুষের উপস্থিতিতে আয়োজিত এই প্রতিযোগিতায় উত্তর আমেরিকা, দক্ষিণ আমেরিকা থেকে শুরু করে এশিয়ার ৭২টি দেশের শীর্ষ ‘সোমেলিয়ার’ (যারা হোটেল, রেস্তোরাঁ ও ওয়াইন শপে পেশাদারভাবে ওয়াইন পরিবেশন, খাদ্যপদের সঙ্গে ওয়াইনের মেলবন্ধন এবং মান পরীক্ষা করেন) অংশ নেবেন। তিয়াগো পলা বলেন, ‘এর মূল উদ্দেশ্য হলো বিশ্ববাজারের যত বেশি সম্ভব দেশের কাছে পর্তুগিজ ওয়াইনের ব্র্যান্ডিং করা।’

আমন্ত্রিত এই সোমেলিয়ারদের অনেকেই বিভিন্ন দেশের বড় ব্যবসায়ী, সিদ্ধান্ত গ্রহণকারী এবং প্রভাবশালী ব্যক্তিত্ব (ইনফ্লুয়েন্সার)। গত প্রায় ৫০ বছরের ইতিহাসে এটি দ্বিতীয়বারের মতো পর্তুগালে অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে।

প্রতিযোগিতার এই ১৮তম আসরে পর্তুগিজ ওয়াইনের বৈচিত্র্যের ওপর বেশ কয়েকটি বিশেষ ক্লাসের আয়োজন করা হয়েছে। এছাড়া এই পুরো ইভেন্টে কার্বন ফুটপ্রিন্ট বা পরিবেশ দূষণ কমানোর ওপর সর্বোচ্চ জোর দেওয়া হবে। ইভেন্টে ব্যবহৃত সব কর্কের ছিপি এবং কাগজের কার্টন পুনর্ব্যবহার বা রিসাইকেল করা হবে। এমনকি উদ্বৃত্ত ওয়াইনও নষ্ট না করে একটি অংশীদারিত্বের মাধ্যমে জৈব সার তৈরিতে ব্যবহার করা হবে।

এর আগের আসরটি ২০২৩ সালে ফ্রান্সের প্যারিসে অনুষ্ঠিত হয়েছিল, যেখানে ৬৮টি দেশের ৪,০০০ জনেরও বেশি মানুষ অংশ নিয়েছিলেন এবং এর ফাইনাল সম্প্রচার বিশ্বজুড়ে আড়াই লাখেরও বেশি মানুষ দেখেছিলেন।

পর্তুগিজ ওয়াইনের বাজার পরিস্থিতি

পর্তুগালের ভাইন অ্যান্ড ওয়াইন ইনস্টিটিউট-এর গত মার্চের তথ্য অনুযায়ী, গত বছর পর্তুগাল অভ্যন্তরীণ ব্যবহার এবং রপ্তানির জন্য বাজারজাত করেছে ৭২ কোটি ৬০ লাখ (৭২৬ মিলিয়ন) লিটার ওয়াইন, যা ২০২৪ সালের তুলনায় ২ কোটি ৩০ লাখ লিটার কম।

তবে এই হ্রাসের কারণ মূলত আমদানিকৃত ওয়াইনের পরিমাণ ১৮.৪ শতাংশ কমে যাওয়া। বিপরীতে, খাঁটি পর্তুগিজ ওয়াইনের উৎপাদন ও বাজারে সরবরাহ ১.১ শতাংশ বা প্রায় ৬০ লাখ লিটার বেড়েছে। বর্তমানে পর্তুগালের বাজারে থাকা মোট ওয়াইনের ৮২ শতাংশই দেশীয় এবং ১৮ শতাংশ আমদানিকৃত। এছাড়া বাজারজাতকৃত মোট ওয়াইনের ৫২.৩ শতাংশই সুরক্ষিত ভৌগোলিক নির্দেশক এবং সুরক্ষিত অরিজিন মানের ঐতিহ্যবাহী ওয়াইন।

বিশ্বের সেরা সোমেলিয়ার খোঁজার এই মর্যাদাপূর্ণ আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতাটি ‘অ্যাসোসিয়েশন দে লা সোমেলিয়ারি ইন্টারন্যাশনালে’র উদ্যোগে পরিচালিত হয়, যার অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা সদস্য পর্তুগিজ সোমেলিয়ার অ্যাসোসিয়েশন।

শেয়ার
মতামত দিন...

Exit mobile version