বৃহস্পতিবার, ১৫ই জানুয়ারি, ২০২৬   |   ২রা মাঘ, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

ভূত, কঙ্কাল আর ভয়ংকর মুখোশ, ইউরোপজুড়ে আজ উৎসবের আমেজ। হ্যালোউইনের রাত আর পরদিনের ‘অল সেইন্টস ডে’ ঘিরে ইউরোপের নানা শহরে চলছে জমজমাট আয়োজন।

লন্ডন থেকে ডাবলিন, প্রাগ থেকে নেপলস—পুরোনো মহাদেশের অন্তত ১০টি শহর এখন পরিণত হয়েছে ভয়ের উৎসবে। ইউরোপের ভ্রমণ সংস্থা Waynabox জানিয়েছে, অক্টোবরের শেষ সপ্তাহে হ্যালোউইন উপলক্ষে এসব শহরে ছোট ছুটির ভ্রমণ বেড়েছে ব্যাপকভাবে।

বেলজিয়ামের ব্রাসেলসের মারোলেস পাড়া ছয় দিনব্যাপী ‘ফেস্টিভ্যাল অব দ্য ডেড’ আয়োজন করছে, যেখানে রয়েছে সংগীত, আতশবাজি আর মেক্সিকান রঙের ছোঁয়া।

ডাবলিনে কেল্টিক ঐতিহ্যবাহী সামহেইন উৎসব পালিত হচ্ছে, যেখানে বিশ্বাস করা হয় মৃত আত্মারা ফিরে আসে জীবিতদের মাঝে। শহরের বাইরে ফার্মাফোবিয়া পার্ক ভয়ের বিনোদনে আকর্ষণীয় কেন্দ্র।

কোপেনহেগেনের ঐতিহাসিক টিভোলি গার্ডেনে ২০ হাজার কুমড়া, জাদুকর চরিত্র আর বিশেষ শো দিয়ে সাজানো হয়েছে হ্যালোউইন থিমে।

লন্ডনে পার্টি, ভৌতিক ট্যুর, শিশুদের কুমড়া সংগ্রহ প্রতিযোগিতা থেকে শুরু করে ‘হ্যারি পটার’ স্টুডিওর ‘ডার্ক আর্টস’ প্রদর্শনী—সবই দর্শকদের জন্য উন্মুক্ত।

স্কটল্যান্ডের এডিনবরায় রাতভর সামহেইন উৎসবে মুখোশ, আগুন আর সংগীতের উচ্ছ্বাস।

স্টকহোমে চলছে জনপ্রিয় ‘ঘোস্ট ওয়াক ট্যুর’, যেখানে শহরের ভয়ংকর অতীতের গল্প শোনানো হয়।

উত্তর আয়ারল্যান্ডের ডেরি শহরে চলছে ইউরোপের সবচেয়ে বড় হ্যালোউইন ফেস্টিভ্যাল, আর প্রাগে শিশুদের ট্রিক–অর–ট্রিট থেকে শুরু করে মুখোশ পার্টি, কনসার্ট ও দুর্গ ভ্রমণে মুখর সব রাস্তা।

ভয়ের রাজ্য রোমানিয়ার ট্রান্সিলভানিয়া, কাউন্ট ড্রাকুলার জন্মভূমি, এ সময়ে পর্যটকদের প্রিয় স্থান। ব্রান কাসলে  এখন চলছে ‘স্পুকট্যাকুলার’ উৎসব।

সবশেষে ইতালির নেপলস, যেখানে ভ্রমণপ্রেমীরা ঘুরে দেখছেন শতবর্ষ পুরোনো কবরস্থান ও ক্যাটাকম্বস। রহস্য, ধর্ম আর জাদুবিদ্যার মিশেলে শহরটি হয়ে উঠেছে ভয়ের নগরী।

ভূত–প্রেতের কাহিনি, মুখোশের উৎসব আর আতশবাজির ঝলক—সব মিলিয়ে ইউরোপজুড়ে এখন একটাই মন্ত্র, ‘হ্যাপি হ্যালোউইন!’

শেয়ার
মতামত দিন...

Exit mobile version